১৫ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমরা মাথা উঁচু করেই এগিয়ে যাব ॥ প্রধানমন্ত্রী

  আমরা মাথা উঁচু করেই এগিয়ে যাব ॥ প্রধানমন্ত্রী
  • ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিশ্ব পরিমন্ডলে মর্যাদার আসন ধরে রেখে দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছে। এটা সম্ভব হয়েছে দেশের জনগণের কল্যাণে আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে। তাই সরকার বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশ যে মর্যাদার আসনে আসীন হয়েছে তা ধরে রাখতে চায়। আমি সব কিছু উৎসর্গ করে এদেশের জনগণের ভাগ্য গড়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

সোমবার পবিত্র ঈদ উল আজহার দিন সকালে গণভবনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবন্দ, পদস্থ কর্মকর্তা, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্বিজীবী এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষসহ সাধারণ জনগণের সঙ্গে ঈদ উল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ দেশের উন্নয়নের যে অগ্রযাত্রা সেটা অব্যাহত থাকবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে যাবে। মানুষ উন্নত, সুন্দর জীবন পাক। এ লক্ষ্যে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তার সরকার শত প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বাংলাদেশকে আজ বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা চাই মাথা উঁচু করেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

জনগণের সুখী ও সমৃদ্ধ জীবন নিশ্চিত করা তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যেন বাংলাদেশকে খাটো করে দেখতে না পারে, এদেশের মানুষ সর্বত্র মর্যাদা পায় সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুর ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি এ সময় তার এবং আওয়ামী লীগের ওপর আস্থা রেখে দেশের জনগণ ভোট দিয়ে আরেকবার দেশ সেবার সুযোগ দেয়ায় দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ভোট দিয়ে তাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করার মর্যাদা আমি রক্ষা করব। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই আমার লক্ষ্য। আমি সবকিছু উৎসর্গ করে এদেশের জনগণের ভাগ্য গড়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। জাতির পিতা এদেশের মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করতে পারলে আমার বাবার আত্মা শান্তি পাবে।

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী দেশবাসী ও প্রবাসী বাঙালী যারা আছেন সবাইকে ঈদ উল আজহার শুভেচ্ছা জানান। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমগ্র মুসলিম উম্মাকেও ঈদের শুভেচ্ছা জানান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ১৫ আগস্টের শহীদসহ মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত ঈদ আমাদের যেকোন ত্যাগ স্বীকার করার প্রেরণা দেয়। এ সময় যারা হজ করতে গেছেন তাদেরও ঈদের শুভেচ্ছা জানান তিনি। একই সঙ্গে সবার দোয়াও কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি নিজের চোখের ছানি অপারেশনসহ নানা প্রসঙ্গ টেনে সবার দোয়া চান শেখ হাসিনা।

পবিত্র ঈদ উল আজহার এই দিনে গণভবনের সবুজ চত্বর বর্ণাঢ্য সাজে সজ্জিত করা হয়। বিভিন্ন বয়সের এবং শ্রেণী পেশার লোকজন দীর্ঘসারিতে অপেক্ষমাণ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, সিনিয়র সাংবাদিক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী, বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ, বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সর্বোপরি সাধারণ জনতার ভিড়ে এ সময় গণভবন চত্বর মুখরিত হয়ে ওঠে।

অন্য বছরের মতো বছরের এই বিশেষ দিনটিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে অনেকেই এ সময় নিজস্ব অভাব অভিযোগ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর তার কাছে। ধৈর্য ধরে অভাব-অভিযোগ শোনেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। বিচারক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনী প্রধান, বিদেশী কূটনীতিক, সিনিয়র সচিব এবং সচিব মর্যাদার অন্যান্য বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মুহম্মদ ফারুক খান, এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, দলের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সব যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যকে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ উল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। অন্যান্য উৎসবের মতো প্রধানমন্ত্রী তার শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে রাজধানীর মোহাম্মদপুরস্থ গজনবী রোডে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১) ফুল, ফলমূল এবং মিষ্টান্ন প্রেরণ করেন। সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মশিউর রহমান হুমায়ুন, উপপ্রেস সচিব শাখাওয়াত মুন, প্রটোকল অফিসার এস এম খুরশীদ-উল-আলম ও সহকারী কর্মকর্তা মোহম্মদ আরিফুজ্জামান নূরনবী প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এগুলো পৌঁছে দেন।

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যরা এ সময় প্রতিটি রাষ্ট্রীয় দিবস এবং উৎসবে যেমন- স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পবিত্র ঈদ এবং বাংলা নববর্ষের দিনে তাদের স্মরণ করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ বিশেষ করে মোহাম্মদপুরে মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-এর ১৩তলা বিশিষ্ট আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণসহ ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্যও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকাকালেই তারা তাদের প্রাপ্য সম্মান পান। এ সময় তারা প্রধানন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

যমজ শিশু রাবেয়া-রোকেয়াকে দেখতে সিএমএইচে যান প্রধানমন্ত্রী ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার দুপুরে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচে) চিকিৎসাধীন জোড়া লাগানো এক মাথার যমজ শিশু রাবেয়া-রোকেয়াকে দেখতে গিয়েছিলেন। তিনি তাদের সার্বিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ কথা জানান।

চিকিৎসার পর তাদের দুইজনের মাথা আলাদা করা হয়েছে। এর আগে হাঙ্গেরিতে তাদের কয়েক দফা চিকিৎসার পর সিএমএইচে চূড়ান্ত অপারেশনের মাধ্যমে তাদের যুক্ত মাথা পৃথক করা হয়। যমজ শিশু রাবেয়া-রোকেয়ার পুরো চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাবেয়া-রোকেয়ার বাড়ি পাবনার চাটমোহরে। তাদের বয়স সাড়ে তিন বছর। পরে তিনি ঢাকা সিএমএইচে চিকিৎসাধীন প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদিনকে দেখতে যান। সেখানে কিছু সময় অতিবাহিত করেন তিনি। এ সময় সেখানে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ অন্যান্য উর্ধতন সামরিক এবং বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির স্বামী বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের এ্যাডভোকেট তৌফিক নাওয়াজকে দেখতে যান এবং তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ॥ ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং টেলিফোনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোন করে তাকে এবং বাংলাদেশের জনগণকে ঈদ উল আজহা উপলক্ষে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বাংলাদেশের জনগণ ও তার পক্ষ থেকে ভুটানের রাজা, প্রধানমন্ত্রী ও জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ কথা জানান। ১০ মিনিট স্থায়ী এই টেলিফোনে উভয় প্রধানমন্ত্রী দু’দেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।