১৮ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেষের দিন কোরবানির পশুর দাম কমেছে, ক্রেতাও বিশেষ ছিল না

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ত্যাগের মহিমায় আনন্দ নিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পালন করেছেন ঈদ-উল-আজহা। আর ঈদের নামাজ শেষে পছন্দের পশু দেন কোরবানি। এ বছর কোন হাটেই কোরবানির পশুর সঙ্কট হয়নি। উপরন্তু দেশী পশু বিক্রি না হওয়ার কারণে ফেরত নিয়ে গেছেন বিক্রেতারা। এছাড়া গতবছর শেষবেলায় পশুর উচ্চমূল্য থাকলেও এ বছর যারা শেষের দিকে কিনেছেন তারা লাভবানই হয়েছেন। যদিও শেষের দিকে হাটগুলোতে ক্রেতাও কম ছিল সেই সঙ্গে পশুর মূল্যও ছিল নিম্নমুখী। অনেক বিক্রেতা লোকসান দিয়ে চোখের জ¦লে পশু বিক্রি করলেও সেটি কিনে মহাখুশি ক্রেতা। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী এবার কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ছিল এক কোটি ১৮ লাখ। চাহিদার চেয়ে প্রায় দশ লাখ পশু বেশি আছে ঈদের আগেই এই তথ্য জানিয়ে দেয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রতিবছরই শেষের দিকে এসে হঠাৎ কয়েকটি বাজারে সঙ্কট হয় পশুর। আর এই খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতারাতি সব বাজারেই পশুর দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এতে ক্রেতার পছন্দ আর বাজেট অনুসারে মেলে না সঠিক পশুটি। গত বছরও এই পরিস্থিতি দেখা গেছে। যদিও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক আগেই জানিয়েছিলেন এ বছর সেটি হবে না। শেষ পর্যন্ত হয়ওনি।

শেষের দিকে পশু সঙ্কট আর মূল্যবৃদ্ধি পায় বলে অধিকাংশ ক্রেতা আগেই কিনে ফেলেন কোরবানির পশু। তবে শেষের দিকে অর্থাৎ ঈদের আগের দিন এবং ঈদের আগের রাতে অধিকাংশ পশুর হাট ছিল ক্রেতাশূন্য। ভিড় একেবারেই ছিল না। আর পশুর দামও ছিল নিম্নমুখী। যে পশু আগের দিন শুক্রবার ও শনিবার এক লাখ দাম করেছে সেটি পরের দিন অর্থাৎ রবিবার ৬৫ হাজারের ওপর বলতেই চায়নি কেউ। আর এতে লোকসান দিয়ে হলেও অনেক গরু বিক্রি করেন বেপারিরা। আবার কেউ অধিক লোকসান দিতে না পেরে গরু ফেরত নিয়ে গেছেন। কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী,পাবনা, সিরাজগঞ্জ থেকে রাজধানীতে আসা এসব বেপারি বলেন, শেষের দিকে গরু বিক্রি যত বেশি লোকসানও তত বেশি। শুরুর দিকে কিছুটা ভাল থাকলেও শেষের দিন একেবারে বাজার নিচে নামে। প্রতি গরুতে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা লোকসানের কথা বলেন বিক্রেতারা। রাজধানীর তেজগাঁও হাটে ঈদের আগের দিন ঘুরে দেখা যায় শেষের দিন হিসেবে প্রচুর গরু থাকলেও বিক্রি একেবারেই নেই। কোন ক্রেতা এলে বিক্রেতারা হাঁকডাক দিচ্ছেন।