১৫ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বঙ্গবন্ধু ॥ বাংলার অবিসংবাদিত ও প্রতিশ্রুত নেতা

  • ড. মোঃ সেকান্দর চৌধুরী

প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন শাসকদের দ্বারা শাসিত হলেও ব্রিটিশ শাসনের হাত ধরেই এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে স্বাধীনতার বিষয়টি আলোড়ন তুলতে শুরু করে। প্রায় দু’শ’ বছরের শাসনকালে ভারতবর্ষে জাতীয়তাবাদের জন্ম যেমন তাদের মাধ্যমে তেমনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিও ব্রিটিশদের হাতেই শুরু। ১৭৮৯ সালে ইউরোপের দেশ ফ্রান্সে ফরাসী বিপ্লব সাধিত হলে এর মূলনীতি দ্বারা বিশ্ববাসী আলোড়িত হয়। এ আন্দোলনের ঢেউ ভারতবর্ষেও আছড়ে পড়ে। এরপর আমেরিকার স্বাধীনতা বিশ্বে মুক্তিকামী মানুষের মাঝে নতুন আশার আলো হয় দেখা দেয়। এর পূর্বে মানবাধিকারের দলিল ম্যাগনাকার্টা প্রণীত হয়। আর বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি বাঙালী জাতীয়তাদের ধারা প্রবাহিত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতায় রূপ লাভ করে। এ সময় বিবিসিতে Sir David Frost কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বঙ্গবন্ধু বলেন- ¸ My greatest strength is the love for my people, my greatest weakness is that I love them too much. ১৯৪৭ সালে আগস্ট মাসে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা পায়। কিন্তু ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময়ে পূর্ব বাংলার জনসাধারণের মধ্যে যে ভাষাভিত্তিক সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে তখন ছাত্রনেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতি লক্ষণীয়। এরপর থেকে পাকিস্তানের পূর্বাংশ তথা পূর্ব পাকিস্তানের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ, নিপীড়ন, বঞ্চনা ঐ ভাষাভিত্তিক সাংস্কৃতিক জাগরণকে আরও গতিশীল করে। এ সময় শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে অসাম্প্রদায়িক আওয়ামী লীগের অভ্যুদয় ঘটে। বাঙালী জাতীয়তাবাদের এ গতিশীল রাজনৈতিক পরিক্রমার মধ্যেই বাঙালীর সামনে বাঙালী জাতির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি ‘আমাদের বাঁচার দাবি’ শিরোনামে উত্থাপন করেন শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৬৮ সালের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রতিবাদে পূর্ববাংলার ছাত্র রাজনীতির উত্তাল মুহূর্তে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলার অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে জেল থেকে মুক্ত করে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ধস নামানো বিজয়, একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাছাকাছি নিয়ে যায়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। বঙ্গবন্ধু রাজনীতির কবির মতো উচ্চারণ করলেন,- ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ। বাঙালীর জীবনে এক ভয়াবহ কালরাত। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী মার্চের এ কালো রাতে নিরীহ, নিরস্ত্র, ঘুমন্ত মানুষের ওপর ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নামক সেই বর্বরোচিত হত্যাকা- চালাল। শুরু হলো ইতিহাসের এক ভয়াবহ কালো অধ্যায়ের। পাক হানাদার বাহিনী ঐ রাতেই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে। পাক বাহিনীর হাতে বন্দী হবার আগে বঙ্গবন্ধু বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বিশ্বের বুকে আবির্ভাব ঘটল নতুন একটি দেশের, নতুন একটি স্বাধীন জাতির। এ দেশ বাংলাদেশ, এ জাতি বাঙালী জাতি। শুরু হলো বাঙালী জাতির মুক্তির সংগ্রামে চূড়ান্ত পর্ব। দীর্ঘ নয় মাস। একটি জাতি, একটি যুদ্ধ। দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এলো কাক্সিক্ষত বিজয়। ত্রিশ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাঙালী পেল একটি মুক্ত ভূমি। বাংলাদেশ। আর এ বাংলাদেশ ও বাঙালী জাতির কান্ডারির ভূমিকায় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাইতো তিনি বাঙালীর অবিসংবাদিত নেতা ও জাতির পিতা।

বিশ্ব ইতিহাসে বিভিন্ন জাতির ক্রান্তিলগ্নে সময়ে সময়ে মুক্তির ত্রাতা রূপে মহামানবের আবির্ভাব ঘটেছে। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে আমরা দেখতে পাই, যখন কোন জাতি বা গোষ্ঠী অত্যাচারিত হয় কিংবা তারা অন্ধকারের গভীরে নিমজ্জিত হয় তখন মুক্তির দূত হিসেবে একজন মহামানব এসে সে জাতিকে মুক্তির আলোয় পথ দেখান। ‘আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসুল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তান্ডবকে পরিহার কর (সূরা নাহল, ১৬:৩৬)।’ ‘এমন কোন সম্প্রদায় নেই যাতে সতর্ককারী আসেনি (সূতা ফাতির, ৩৫ঃ২৪)।’ একসময় আরব বিশ্ব অনাচার অত্যাচারে জর্জরিত হয়ে তারা অন্ধকারের গহীনে বিলীন হবার উপক্রম হয়। তখন তাদের মুক্তির জন্য হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) আবির্ভূত হন। ‘বস্তুত আমি একমাত্র এই উদ্দেশ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি, যাতে আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী তাদের আদেশ-নিষেধ মান্য করা হয় (সূরা নিসা, ৪ঃ৬৪)।’ আরবে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) প্রেরিত হওয়ার পরে আরববিশ্বের পুরো চিত্র পাল্টে যেতে থাকে। ঘরপড়ষংড়হ বলেন- ‘Islam is the offshoot of Judaism and Chistisnity.’ কিংবা মিসরীয় রাজাদের অত্যাচারে যখন ইয়াহুদিদের ত্রাহি অবস্থা তখন মুক্তির দূত হয়ে আসেন মুসা (আঃ)। ইয়াহুদিদের বাসস্থান ইসরায়েল যেটি হিব্রু ভাষার শব্দ। এর অর্থ প্রতিশ্রুত ভূমি। এছাড়াও আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে আমরা দেখি জাতিরাষ্ট্রের ধারণা বিস্তৃত হবার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নেতা একটি জাতি কিংবা দেশের জনগণকে মুক্তির পথে চালিত করেন। এ সকল ধর্মীয় নেতাদের কথা বিভিন্নভাবে পূর্ব থেকেই প্রতিশ্রুত হিসেবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। এর সঙ্গে আমরা দেখি জাতিরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা অনেক নেতার কথাও প্রতিশ্রুত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তাহলে কি বাঙালী জাতির মুক্তির দূত জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানও কি আমাদের প্রতিশ্রুত নেতা? এ আলোচনায় আমরা ধর্মীয় গোষ্ঠীর মুক্তির দূত হিসেবে যাদের কথা বলা হয় তাদের সঙ্গে তুলনা না করেই শুধু কয়েকজন বিখ্যাত লেখকের লেখনি আলোচনার মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করব যে, আমাদের বঙ্গবন্ধু রাজনীতির সেই প্রতিশ্রুত নেতা কিনা?

ইতিহাসের প্রভাবশালী অটোমান রাজবংশ প্রতিষ্ঠাকালীন যে স্বপ্নের কথা প্রচলিত আছে যেখানে বলা হয়েছে- উসমানীয় স‍াম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা যুবরাজ উসমান একটি স্বপ্ন দেখেন। এর ব্যাখ্যার জন্য দারবিশের কাছে গেলে তিনি বললেন তোমার মেয়েকে ওরখানের সঙ্গে বিয়ে দাও। এ বিয়ের মাধ্যমে যে সন্তানের জন্ম হবে তার মাধ্যমে তিন মহাদেশ বিস্তৃত স‍াম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা ঘটবে। ঠিক তেমনি, পূর্বসূরীদের উচ্চারিত প্রতিশ্রুত ব্যক্তি কি বাঙালী জাতির স্বাধীনতা নিশ্চিত করবেন? এটিই আলোচ্য বিষয়।

মহাকবি আলাওল তার ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’ কাব্যের উত্তরপর্বে বলেছেন :

‘কদাচিৎ নহে কবি সামান্য মনুষ্য,

শাস্ত্রে কহে কবিগণ, ঈশ্বরের শীষ্য।’ (আব্দুল্লাহ আল আমীন, বাঙালী সমাজে সংস্কৃতি ভাবনা, ঢাকা : ণ প্রকাশন, ২০১৮, পৃ. ১৯)

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘সভ্যতার সঙ্কট’ প্রবন্ধে বলেছিলেন- ‘আজ আশা করি আছি পরিত্রাণ কর্তার জন্মদিন আসছে আমাদের এই দরিদ্র লাঞ্ছিত কুটিরের মধ্যে; অপেক্ষা করে থাকব, সভ্যতার দ্বৈববানী সে নিয়ে আসবে। মানুষের চরম আশ্বাসের কথা মানুষকে এসে শোনাবে এই পূর্ব দিগন্ত থেকেই।’ বাঙালীর পরিত্রাণ কর্তা মহানায়ক বঙ্গবন্ধুই কি রবীন্দ্রনাথের সেই প্রতিশ্রুত নাম?

পূর্ববঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর সময় নজরুল এই ভূ-খন্ডকে বারবার নমস্য মেনেছেন। ‘পূর্ববঙ্গ’ নামক কবিতায় ‘বাংলাদেশ’ শীর্ষক গানে আবেগের মাত্রা প্রকাশ পায়। কবি বিস্মৃত হবার কয়েকমাস আগে ‘দৈনিক নবযুগ’ পত্রিকাতে একটি সম্পাদকীয় লিখেছিলেন ‘আমার সুন্দর’ নামে। সেখানে তিনি বলেন- ‘আট বছর ধরে বাংলাদেশের প্রতি জেলায়, প্রতি মহকুমার গ্রামে দেশের স্বাধীনতা জন্য গান গেয়ে, কখনো বক্তৃতা দিয়ে বেড়াতাম। এই গ্রাম আমার মাতৃভূমি। বাংলাদেশকে ভালবাসলাম। মনে হলো এই আমার মা’।

নজরুল তাঁর কবিতায় বলেছেন-

‘পদ্মা-মেঘনা-বুড়িগঙ্গা বিধৌত পূর্ব-দিগন্তে

তরুণ অরুণ বীনা বাজে তিমির বিভাবরী অন্তে।’

তাহলে নজরুল প্রতিশ্রুত সেই পূর্ব দিগন্তের তরুণই কি বঙ্গবন্ধু?

কিংবা, বঙ্গবন্ধু বলছেন- ‘নদীতে বসে আব্বাসউদ্দীন সাহেবের ভাটিয়ালী গান তাঁর নিজের গলায় না শুনলে জীবনের একটা দিক অপূর্ণ থেকে যেত। তিনি যখন আন্তে আন্তে গাইতেছিলেন তখন মনে হচ্ছিল, নদীর ঢেউগুলোও যেন তাঁর গান শুনছে। তাঁরই শিষ্য সোহরাব হোসেন ও বেদারউদ্দিন তাঁর নাম কিছুটা রেখেছিলেন। আমি আব্বাসউদ্দিন সাহেবের একজন ভক্ত হয়ে পড়েছিলাম।’ তাইতো আব্বাসউদ্দিন বঙ্গবন্ধুকে বলছেন- ‘মুজিব, বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে বিরাট ষড়যন্ত্র চলছে। বাংলা রাষ্ট্রভাষা না হলে বাংলার কৃষ্টি, সভ্যতা সব শেষ হয়ে যাবে। আজ যে গানকে তুমি ভালবাস, এর মাধুর্য ও মর্যাদাও নষ্ট হয়ে যাবে। যা কিছু হোক, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করতেই হবে।’ বঙ্গবন্ধু যেমন আব্বাসউদ্দিনের ভক্ত হয়ে পড়েছিলেন তেমনি আব্বাউদ্দিনও কি বুঝতে পেরেছিলেন, এ মানুষটি বাংলার স্বাধীনতা আনতে পারবে?

এমনকি বঙ্গবন্ধুর জন্মের পরে তাকে কোলে নেন তার নানা। তিনি তখন এ ছোট্ট শিশুটির নাম রাখেন শেখ মুজিবুর রহমান। নাম রেখে তিনি বললেন- শেখ মুজিবুর রহমান একটি বাঙালীর অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হবেন। তাহলে কি বঙ্গবন্ধুর নানাও বুঝতে পেরেছিলেন যে, একদিন বঙ্গবন্ধু বাঙালী জাতির মুক্তির কান্ডারি হবেন?

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম কিংবা আব্বাস উদ্দিন তিনজনই বঙ্গভূমি জাত মহাপুরুষ। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু হয় ১৯৪১ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে। নজরুল বাকরুদ্ধ হন ১৯৪২ সালে। আব্বাস উদ্দিনও বাংলাদেশের স্বাধীনতা দেখে যেতে পারেননি। কিন্তু তিনজনের লেখাতেই আমরা দেখতে পাই এক প্রতিশ্রুত মহাপুরুষের কথা। যিনি আসবেন পূর্ব দিগন্ত হতে। তৎকালীন ভারতবর্ষের পূর্ব ভূখ- হলো বর্তমান বাংলাদেশ। তাহলে আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই কি সেই মহামানব? ইতিহাস বলে হ্যাঁ। কারণ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন করে এ অঞ্চলের মানুষ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করে কিন্তু তাতে বাঙালীর মুক্তি আসেনি। কেবল মাত্র একটি উপনিবেশ থেকে আরেকটি উপনিবেশে পতিত হয়েছে মাত্র। ১৯৪৭ এ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার অব্যবহিত পরেই যখন বাঙালীর ভাষার অধিকার নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিল তখনই বঙ্গবন্ধু বাংলা ভাষার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান ঘোষণা করেন। ভাষা আন্দোলন থেকে উদ্ভূুত সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদী চেতনার পথ ধরে বাঙালীকে মুক্তির দ্বারে নিয়ে যান বঙ্গবন্ধুই। বঙ্গবন্ধুই বুঝতে পেরেছিলেন বাঙালীর মুক্তি কেবলমাত্র স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্যে নিহিত। তাইতো তিনি পরবর্তী সকল পদক্ষেপ ঘোষণা করেন স্বাধীনতার বিষয়টি মাথায় রেখে। আলোচনার প্রথমে যে অত্যাচারের কথা বলা হয়েছে তা পাকিস্তান কর্তৃৃক বাঙালীর ওপর পরিচালিত হয়েছে। ফলে অত্যাচারের সঙ্গে মুক্তির দূতের যে সম্পর্ক আমরা প্রথম দিকে আলোচনা করেছি কিংবা রবীন্দ্রনাথ, নজরুল এবং আব্বাসউদ্দিন প্রতিশ্রুত যে নেতার আগমনের কথা পূর্ব দিগন্তে তার সঙ্গে বাঙালী জাতির মুক্তির মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাদৃশ্য অধিক।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তির সংগ্রাম ও বঙ্গবন্ধু এক অবিচ্ছেদ্য নাম। পৃথিবীর ইতিহাসে যতদেশ স্বাধীন হয়েছে এবং মুক্তির সংগ্রামের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছেছে তার অগ্রভাগে একজন জাতীয় নেতার ভূমিকা রয়েছে। এক্ষেত্রে বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা ও মহাপুরুষ প্রতিশ্রুত হিসেবে চিহ্নিত হতে এই মহামানবের ভূমিকায় শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা অদ্বিতীয়। তার নেতৃত্বেই বাঙালী জাতি এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিশ্বে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

লেখক : ডিন, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ও সভাপতি বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।