১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

১৮ বছর পর স্বীকৃতি

বিয়ে এবং সন্তানের পিতৃত্বকে অস্বীকার করায় ঝিনাইদহের মোঃ ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় মহামান্য আদালত। আপীল বিভাগ, উচ্চ আদালতে কয়েকবার জামিনের আবেদন করেও মোঃ ইসলামকে মুক্তির কোন সম্ভাবনাই দিতে পারেনি বিজ্ঞ আদালত। প্রতিবারই অপরাধের বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালত আগের দেয়া দণ্ডের কোন পরিবর্তন আনতে রাজি হয়নি। ফলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মোঃ ইসলাম প্রায় ১৪ বছর ৬ মাস ২৯ দিন জেলের ঘানি টেনে জীবনের মহামূল্যবান সময়টুকু কাটিয়ে দেন। তার আরও ১০ বছর ১১ মাস ১৪ দিন সাজা বাকি ছিল। এরই মধ্যে তার শাস্তি মওকুফ হওয়ার বিষয়টি যেমন চমকপ্রদ, তেমনি বিস্ময়েরও।

সাড়া জাগানো ঘটনাটি ঘটে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে। এক অভিনব প্রেমের কাহিনীর সূত্র ধরেই মোঃ ইসলামের কারা অন্তরীণে দুর্ভোগ পোহানো। ২০০০ সালে ঝিনাইদহের মোঃ ইসলামের সঙ্গে একই জেলার মালার ভালবাসার গ্রন্থি শেষ পর্যন্ত বিয়েতে গড়ায়। ২০০০ সালে শুভবিবাহ সম্পন্ন হলে ২০০১ সালে পুত্র সন্তান মিলনের পৃথিবীর আলো দেখার শুভ সঙ্কেত নিশ্চিত হয়। ইতোমধ্যে পিতা ইসলাম পুরো বিয়ের ব্যাপারটিই অস্বীকার করে বসে। বিপন্ন কন্যার এমন দুঃসময়ে পিতা যথার্থ পথে তা সামলানোর চেষ্টা চালালেও মোঃ ইসলাম কোনভাবেই সন্তান আর স্ত্রীকে সামাজিক মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হলে ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। মালার বাবা উপায়ন্তর না দেখে মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে আদালতে জামাতার বিরুদ্ধে মামলা করেন। অসহায় কন্যা সন্তানের পিতা নাতির ডিএনএ টেস্ট করার মাধ্যমে নিশ্চিত হয় মিলন তার মেয়ে ও ইসলামের সন্তান। অভিযোগ দাখিলের পর ইসলামের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালত সব আইনী কার্যক্রম সম্পন্ন করে আজীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়। ২০০৫ সাল থেকে মোঃ ইসলাম কারা অন্তরীণ অবস্থায় ছিলেন। কিন্তু গত ৩১ জুলাই যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আদালতের নির্দেশে মোঃ ইসলাম ও মালার পুনরায় বিয়ের অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয় সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে। আর এই ঘটনার মধ্য দিয়ে একটি বিচ্ছিন্ন পরিবারের যোগসূত্রই নয়, এক দ-িত অপরাধীর সাজা মওকুফ হওয়া আদালতের আদেশে এক বিরল দৃষ্টান্তও স্থাপিত হয়। ছেলে মিলনের বয়স এখন ১৮ বছর। জীবনের কষ্টকর সংগ্রামী মুহূর্তগুলো তারা কাটায় ঢাকায় পোশাক শিল্পের কর্মী হিসেবে। অনেকটা সুবর্ণ সময় পার হয়ে গেলেও পুত্র মিলন এই মুহূর্তে ভীষণ খুশি। নিজে অনেক কষ্ট করেছে। কাছ থেকে মাকেও দুর্ভোগের শিকার হতে দেখেছে। সে সব ভুলে গিয়ে সে এখন নতুনভাবে এক হওয়া বাবা-মার সঙ্গে বাকি জীবনটা সুখে-শান্তিতে পার করতে চায়। দীর্ঘ কারাবাস থেকে সদ্য মুক্তি পাওয়া মোঃ ইসলাম স্ত্রী ও সন্তানকে সাদরে গ্রহণ করে পরবর্তী সময়গুলো নির্বিঘ্নে কাটাতে আশাবাদী। এমন একটি ইতিবাচক ঘটনা আদালতের জন্য নজির হয়ে থাকবে নিশ্চয়ই। মুক্তির আনন্দ, খুশির আবেগ যেমন মোঃ ইসলামকে, তেমনি একইভাবে তা মালা ও মিলনকে একটি চমৎকার মুহূর্ত উপহার দেয়। বিয়ের পর ১ আগস্ট তাদের কাবিননামার কপি আদালত সমীপে পেশ করা হলে তা মঞ্জুর হয় এবং জামিন আবেদন আমলে নিয়ে ইসলাম কারাভোগ থেকে নিষ্কৃতি পায়। কারা কর্র্তৃপক্ষ এই ঘটনাটিকে বন্দী সংশোধনের উপায় হিসেবে চিহ্নিত করেন। কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও এখনও কিছু আইনী কার্যক্রম বাকি আছে। ফলে আগামী ২৯ আগস্ট এই বিষয়ে অগ্রগতি জানাতে নির্দেশ দেয় সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ। বাকি নিষ্পত্তিও সহজ আর বৈধপথে হয়ে যাবে- এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার।