১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্বপ্ন বাস্তবায়নের কারিগর

  • ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী

গতকাল ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারবর্গের ঘৃণ্য চক্রান্তকারীদের হাতে মৃত্যুর ৪৪তম বার্ষিকী। জাতির পিতার মর্মান্তিক মৃত্যু দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। যারা বাঙালী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী নয়, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিশ্বাস করেনি তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল।

আজকে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বগুণে দেশ এগিয়ে চলেছে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চর্চা করার জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিশিষ্ট গবেষকরা যদি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে যথাযথ গবেষণা করে তা দেশ-বিদেশে প্রচার করেন এবং সে গবেষণা কর্মকা- যেন বহুমাত্রিক ভাষায় অনূদিত হয় তবে ভাল হয়। আমি খেয়াল করে দেখেছি, ভারতের বিভিন্ন কনফারেন্সে প্রায়ই অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে মাহাত্মা গান্ধীর রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সামাজিক দর্শনের ওপরে গবেষণার সাব থিম থাকে। এককভাবে আমাদের দেশে বঙ্গবন্ধুর ওপর গবেষণা হয়। কিন্তু যখন ৭/৮টি সাব থিমের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ওপর আরেকটি সাব থিম থাকে তখন অনেক বেশি মাত্রায় ‘নলেজ ডিসসেমিনেশন’ হয়ে থাকে। বঙ্গবন্ধুর এবারের মৃত্যুবার্ষিকীতে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠান পালন করা সম্ভব হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুদিবস কেবল ১৫ আগস্ট পালন করার পাশাপাশি যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট দিনে পালন করা সম্ভব হয়নি- সেগুলোতে পরবর্তীকালে অধিক সংখ্যক ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতিতে পালন করা দরকার। এদিকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করা হবে এ উপলক্ষে সারা দেশে দু’ থেকে বারো বছর পর্যন্ত বাচ্চাদের তৃণমূল পর্যায় থেকে ছবি অঙ্কন প্রতিযোগিতা, সঙ্গীত প্রতিযোগিতা কবিতা আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে। বঙ্গবন্ধু যথার্থই বলেছিলেন যে, আমার সেরা শক্তি হচ্ছে আমার দেশের মানুষকে সবচেয়ে ভালবাসি, আর দুর্বলতা হচ্ছে তাদের মাত্রাতিরিক্ত ভালবেসে থাকি। আসলে বাঙালীর প্রতি মাত্রাতিরিক্ত ভালবাসাই তাঁর মতো মহান নেতার জন্য কাল হলো। কখনও তিনি বাঙালীকে অবিশ্বাস করেননি এমনকি একটু সাবধান হননি। নচেৎ জাতির জীবনে বঙ্গবন্ধুর মতো মহতী নেতার সপরিবারে হত্যার মতো কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটত না। লর্ড ফিন্নার ব্রকওয়ে মন্তব্য করেছেন যে, একদিকে বিবেচনা করলে শেখ মুজিব হচ্ছেন জর্জ ওয়াশিংটন, মাহাত্মা গান্ধী এবং দি ভালেরার চেয়েও বড় মাপের নেতা। বাঙালী ১৫ আগস্ট, ’৭৫-এর কাল রাতে বঙ্গবন্ধুকে হারিয়ে আকুল পাথারে পড়েছিল। সেদিন তাদের আশা ভঙ্গের দিন ছিল। বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যার যারা বিরোধিতা করেছিলেন, তাদের অনেকেই আজ ভিন্ন মতাদর্শের। সে সময়ে যিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন ড. কামাল হোসেন তার ব্যবহার ছিল অপ্রত্যাশিত।

‘কারাগারের রোজনামচা’ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু তার অর্থনৈতিক দর্শনের সুস্পষ্ট ছাপ রেখেছেন যাতে বাঙালী স্বাধিকার পায়, নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, বিশ্ব বুকে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে। ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ছয় দফা ছিল যথার্থ অর্থে একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থায় নাগরিক কল্যাণের জন্য আদর্শস্বরূপ। প্রতিফলিত হয়েছে অব্যবস্থাপনা এবং অনুন্নয়নের মধ্য থেকে উন্নয়নের জয়যাত্রা কিভাবে প্রতিফলিত করা যায়। দেশ ও জাতির উন্নয়নে মানুষের অধিকার, সাম্য, সামাজিক ন্যায় বিচার ও আয় বৈষম্য দূর করার জন্য রূপরেখা। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ ৭ মার্চ, ১৯৭১ ছিল একটি পরাধীন জাতির মুক্তির সনদ। আর পাকিস্তানী বাহিনী তাঁকে গ্রেফতারের পূর্বেই তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের ঘোষণা দিয়ে যান। অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে পেছন থেকে টেনে ধরলে চলবে না, বিপদসঙ্কুল পরিবেশেও এগিয়ে যেতে হবে। বঙ্গবন্ধু মানুষের অধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য ১৯৭২ সালের সংবিধানে ব্যবস্থা রেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধু কৃষি উন্নয়ন, শিল্প উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের মধ্যে আয় প্রবাহ সৃষ্টির প্রয়াস গ্রহণ করেছিলেন। এ কারণে সময়োপযোগী কার্যক্রম কেবল গ্রহণ করেননি বরং সুদূরপ্রসারী কর্মকা- গ্রহণ করেছিলেন। শিক্ষা হচ্ছে একটি জাতির জন্য সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। এ বিনিয়োগকে তিনি ছড়িয়ে দেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংক যেন সুচারুরূপে ব্যাংকিং ব্যবস্থা পরিচালনা করেন সে জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পল্লী উন্নয়নের জন্য তিনি বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কর্মসংস্থান কেবল শহরাঞ্চলে সীমিত না রেখে বরং গ্রামীণ অঞ্চলেও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সমুদ্র সম্পদ আহরণের জন্য পেট্রোবাংলা এবং বাপেক্স প্রতিষ্ঠা করেন। শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করে ক্ষতি হতে পারে বিধায় তিনি উন্নয়ন ব্যাংকসমূহ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছেন প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা তার সময়েই প্রণীত হয়। মাত্র দু’বছরে এ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার বাস্তবায়নে অনেকাংশে এগিয়ে গিয়েছিল। প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্যসমূহ ছিল: অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কলাকৌশল, বিশেষ করে দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং আয়বৈষম্য দূর করার জন্য গরিবদের আর্থিক সম্পদ এবং কর্মসংস্থানে অঙ্গীভূত করা এবং নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অন্তর্ভুক্তকরণ।

বাস্তবে দেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর চেতনা ও কর্মকা- ছিল বহুমাত্রিক। তিনি আমদানি বিকল্পায়ন শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও তার স্থানীয় দোসর এবং পঞ্চম স্তম্ভ সবসময় তার কর্মকা-ে বাধার সৃষ্টি করেছে। এক্ষেত্রে বিশ্বাস ঘাতকরা কত ভয়াবহ হতে পারে, তা তার মর্মান্তিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছিল। যারা সেদিন মোশতাকের মন্ত্রিসভায় শপথ নিয়েছিলেন। তারা এক সময়ে নিজেকে বঙ্গবন্ধু অন্তঃপ্রাণ বলে দাবি করত। জিয়াসহ এ সব বিশ্বাসঘাতকরা বহুরূপী। রূপ পরিবর্তনে সিদ্ধহস্ত। এদের ক্ষমা নেই- ইতিহাসের পাতায় এরা চিরকাল ধিক্কৃত হবে। তবে বঙ্গবন্ধুর হত্যা ও তৎপূর্ব এবং তৎপরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে একটি সঠিক ইতিহাস এবং গবেষণা করে সে সময়ে কার কি অবস্থান ছিল বঙ্গবন্ধুর হত্যার সংশ্লিষ্টতায় তা যেন আমাদের মতো আমজনতার কাছে সুস্পষ্ট হওয়া দরকার।

বঙ্গবন্ধু যখন মারা গেলেন, তৎপরবর্তী ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত মৎস্যন্যায় সৃষ্টি হয়। এ অরাজক অবস্থায় রাষ্ট্রের সমাজ ব্যবস্থায় যে ঘুণ ধরে তা সামাজিক ব্যবস্থাপনায় অরাজকতার সৃষ্টি করে থাকে। এ অরাজক পরিবেশ ধীরে ধীরে সর্বগ্রাসী দুর্নীতি সর্বস্তরে লিপ্ত ও প্রসারিত হয়। এর দরুন দেশের উন্নয়ন সে সময়ে না হলেও, দুর্নীতগ্রস্ত মানুষদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। ধর্ম ব্যবসায়ীরা মাথাচড়া দিয়ে উঠতে থাকে। আসলে দিনে দিনে অবস্থা যেন কলিযুগের অন্ধকারের প্রেত ছায়ায় আবর্তিত হতে থাকে। সুবিধাবাদীরা কিন্তু সে সময় সুবিধা আদায়ে সচেষ্ট থাকে। সুযোগ সন্ধানীরা সুযোগের অপব্যবহার করে অর্থ-সম্পদ-বিত্ত-ভৈবভের মালিক হতে থাকে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি পাকিস্তানীদের এবং তাদের স্থানীয় দোসর ছাড়াও সুযোগ সন্ধানী সুশীল সমাজের একাংশ জড়িত ছিল। বাংলাদেশ যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্র ব্যবস্থা থেকে সঠিক উন্নয়নের পথ নির্দেশিকায় এগিয়ে চলছিল তখন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে পেছনের দিকে ঠেলার জন্য এ ধরনের হীন ষড়যন্ত্রে কায়েমী স্বার্থবাদীরা লিপ্ত হয়েছিল। রক্ষীবাহিনী চরম দায়িত্ব জ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছিল।

দেশ জাতির কল্যাণে সর্বদা নিবেদিত বঙ্গবন্ধু বাঙালীর মঙ্গল কামনায় সর্বদা সক্রিয় ছিলেন। যে দেশে ক্ষতবিক্ষত করেছিল পাকিস্তানী বাহিনী আর তার স্থানীয় দোসররা, সে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় তার জ্ঞান-গরিমা, প্রজ্ঞা এবং দার্শনিক সততা দেশ ও জাতিকে উন্নয়নের পথ পরিক্রমায় আসমুদ্র, দিগন্ত বিষ্কৃৃত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। সে পরিকল্পনাগুলোর মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল মানুষ। এমন কি প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কুমিল্লা বোর্ডের মডেলের সম্প্রসারণের কথা ছিল। তিনি একদিকে যেমন ‘বাঙালী’ জাতীয়তাবাদে’ বিশ্বাস করতেন অন্যদিকে প্রত্যেকটি মানুষের আত্মমর্যাদাভিত্তিক সমতা আনয়নের পথকে প্রশস্ত করা এবং গণতন্ত্রের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর রচিত ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’টি সহজ সরল ভাষায় তাঁর জীবন যৌবনের কাহিনী টুকরো টুকরো বিধৃত হয়েছে। এতে মূলত বঙ্গবন্ধুর জীবনের ১৯২০ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মকা-, শৈশবের নানা রংগুলো, গ্রামের বাড়ি, জন্ম বৃত্তান্তসহ নিজের বেড়ে ওঠার ঘটনা প্রবাহ, মানুষের কল্যাণ ও শৈশবকাল থেকে নেতৃত্ব দেয়ার সহজাত প্রবৃত্তি বিধৃত হয়েছে। ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু জেলে থেকেও যেভাবে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন তা তাঁর মতো শক্তিমান নেতৃত্বের পক্ষেই সম্ভব। তিনি সর্বদা দেশ ও দেশের মানুষকে প্রাধান্য দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর জীবনে তার স্ত্রী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব একাধারে সংসার ধর্ম পালন করেছেন, সন্তানদের মানুষ করেছেন, রাজনৈতিক পরামর্শ দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে কর্মকা-ে উদ্বুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধকালীন সময় পাকিস্তানের কারাগারে বঙ্গবন্ধুকে দুঃসহ যাতনা সহ্য করতে হয়। যুদ্ধের সমাপ্তির পর পাকিস্তানের ঘটনাপ্রবাহ দ্রুত বদলাতে থাকে। ৮ জানুয়ারি ১৯৭২ বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হলে দ্রুত দেশে ফেরার আকাক্সক্ষা প্রকাশ করেন। তিনি লন্ডনের ঈষধৎরফমব হোটেলে বিশ্ব গণমাধ্যমের সঙ্গে বক্তব্য রাখেন। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এ্যাডওয়ার্ড হিথ বঙ্গবন্ধুর কর্মকা-কে আন্তরিকতার সঙ্গে স্মরণ করেন। ১০ জানুয়ারি তিনি দেশের মাটিতে পা রাখেন।

বঙ্গবন্ধু না থাকলে এদেশ স্বাধীন হতো না। তাঁর অসামান্য নেতৃত্বগুণ এবং ধৈর্যশীলতা ও বিচক্ষণতা একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। স্বাধীনতা অর্জনের পুরোধা বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাসের পাতায় অমরতার গুণে ভাস্বর। ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ হচ্ছে জাতির জন্য একটি কাল রাত। এ রাতের দুঃসহ যাতনা বাঙালীকে বহু বছর ধরে খেসারত দিতে হয়েছে। আজ বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে দেশ আবার এগিয়ে চলেছে। এই অগ্রযাত্রাকে কখনও পেছনে ঠেলে দেয়া যাবে না। বঙ্গবন্ধু ১১ জানুয়ারি ১৯৭৫ সালে এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘শৃঙ্খলা ছাড়া কোন জাতি কখনও বড় হতে পারবে না।’ বাংলাদেশের বর্তমান অগ্রযাত্রায় শৃঙ্খলা-শান্তি-লোভহীন-দুর্নীতিমুক্ত প্রতিটি স্তরে বাস্তবায়ন কর্মকা-ে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রথম বিদেশ সফরে ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২, কলকাতা ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বঙ্গবন্ধু এবং ইন্দিরা গান্ধী ভাষণ দেন। সে ভাষণে বঙ্গবন্ধু কৃতজ্ঞচিত্তে বাঙালীদের নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ভারতের সহমর্মিতা ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। চারটি স্তম্ভকে বঙ্গবন্ধু চিহ্নিত করেন- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র আর ধর্মনিরপেক্ষতা। আজ বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে নেই। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ছোটদের এবং বড়দের জন্য ধারাবাহিক সিরিয়াল নির্মাণে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের এগিয়ে আসা উচিত । বঙ্গবন্ধু নিয়ে বাস্তবসম্মত গবেষণা কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন ভাষায় করা উচিত।

লেখক : শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ

Pipulbd@gmail.com