১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রসঙ্গ ইসলাম ॥ দুর্গতের সেবায় সওয়াব

  • অধ্যাপক হাসান আবদুল কাইয়ূম

দুর্গত মানুষের সেবা করার মধ্যে রয়েছে অশেষ সওয়াব। ইসলামে নিঃস্ব, অসহায়, অভাবী, সর্বহারা দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে গিয়ে তাদের বিপন্ন অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে, তাদের অসহায়ত্ব লাঘব করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে, তাদের ক্ষুধা, তৃষ্ণা, কষ্ট দূর করতে সর্বাত্মক চেষ্টার জোর নির্দেশ রয়েছে। এ জন্যই ইসলামে দান-খয়রাতের গুরুত্ব অপরিসীম।

ইসলামই মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছে। এ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের নির্দেশ দিয়েছেন রাব্বুল আলামিন রহমানুর রহীম আল্লা জাল্লা জালালুহু জাল্লা শানুহু।

কুরআন মজিদে দানকে বলা হয়েছে ইন্ফাক ফী সাবিলিল্লাহ- আল্লাহর রাস্তায় ব্যয়। আর এই ব্যয়কে সামগ্রিকভাবে সাদাকা অভিধায় অভিহিত করা হয়েছে। বিশেষ ক্ষেত্রে সাদাকা দ্বারা যাকাতকে বোঝানো হলেও ব্যাপক অর্থে সাদাকা বলতে স্বতঃস্ফূর্ত বা স্বপ্রণোদিত দানকেও বোঝানো হয়েছে। সাদাকা শব্দের শব্দমূল হচ্ছে সিদক। সিদ্কের অর্থ সত্যতা, বাস্তবিকতা, সত্যনিষ্ঠতা, যথার্থতা। আর এসব অর্থগত কারণেই সাদাকার তাৎপর্য বিভাসিত হয়েছে দান-খয়রাতের মতো প্রশংসনীয় কার্যাদিতে- যা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় অর্থকে ধারণ করেছে।

ইসলামে দান-খয়রাত বোঝাতে ইহ্সান শব্দও ব্যবহৃত হয়েছে। ইহ্সান শব্দেরও প্রয়োগভেদে বিভিন্ন অর্থ রয়েছে। তবে দানের ক্ষেত্রে এই ইহ্সান শব্দের অর্থ হচ্ছে সৎকর্ম করা, সদ্ব্যবহার করা, নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা পরোপকার করা বা বদান্যতা। হযরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : দানশীল ব্যক্তি (আস সাখী) আল্লাহর সন্নিকটে জান্নাতের কাছাকাছি এবং মানুষেরও নিকটবর্তী, আর বখীল আল্লাহ থেকে দূরে, জান্নাত থেকে দূরে, মানুষ থেকে দূরে এবং দোজখের কাছে (তিরমিযী শরীফ)।

কুরআন মজিদে ও হাদিস শরিফে দুস্থ মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করতে জোর তাকিদ দেয়া হয়েছে, যতগুলো সৎকর্ম বা আমালুস সালিহর নির্দেশ রয়েছে সেগুলোর মধ্যে দুর্গত ও বিপন্ন মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করা, অর্থ-কড়ি, খাদ্য, আবাসন, বস্ত্র, চিকিৎসা ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করা অধিকতর সওয়াবের কাজ।

কুরআন মজিদে ইন্ফাক্ ফি সাবিলিল্লাহ- আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় অর্থাৎ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে দান করার মাহাত্ম্য সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে : যারা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় (ইন্ফাক্ ফি সাবিলিল্লাহ) করে তাদের উপমা হচ্ছে একটি শস্যবীজের মতো যা সাতটি শীষ উৎপাদন করে, প্রত্যেক শীষে এক শ’ শস্যদানা। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে করেন তাকে বহুগুণে দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় সর্বজ্ঞ। (সূরা বাকারা : আয়াত ২৬১)।

ইসলাম বিত্তবানের ও সামর্থ্যবানের ধন-সম্পদে দুর্গত, বিপন্ন ও অভাবী মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করেছে। স্বতঃপ্রণোদিত দান কিংবা বাধ্যতামূলক দান উভয় ক্ষেত্রেই ইসলাম মানবিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।

ইসলামে দান-খয়রাত হচ্ছে মানুষের প্রতি মানুষের কর্তব্য। এই কর্তব্য পালন করতে গিয়ে দাতার গ্রহীতার চেয়ে শ্রেষ্ঠত্বের অহঙ্কার বা বড়াই করবার কিছু নেই। কারণ দাতা দান করার মধ্য দিয়ে মানবতার দাবি পূরণ করে এবং আল্লাহ্্ জাল্লা শানুহুর হুকুম পালন করে, আর সেই সঙ্গে লাভ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ। অন্যদিকে দানগ্রহীতা বিপন্নতা থেকে রেহাই পেয়ে মানবতার ছোঁয়ায় ধন্য হয়ে আল্লাহ্্র শোকরগোজার বান্দা হিসেবে গণ্য হতে পারে। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আররহিমুনা ইয়ারহামুহুমুর রহমান- বদান্যদের প্রতি করুণা বর্ষণ করেন করুণাময় রহমান। (তিরমিযী শরীফ)। অন্য একখানি হাদিসে আছে যে, হযরত রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হিস ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে না আল্লাহও তার প্রতি রহম করেন না। (তিরমিযী শরীফ)।

কুরআন মজিদে ইরশাদ হয়েছে : আর যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভার্থে ও নিজেদের আত্মা বলিষ্ঠ করার খাতিরে ধনৈশ্বর্য ব্যয় করে তাদের উপমা কোন উচ্চ ভূমিতে অবস্থিত একটি উদ্যান, যাতে মুষলধারে বৃষ্টি হয়, ফলে তাতে দ্বিগুণ ফলমূল জন্মে, যদি মুষলধারে বৃষ্টি না হয় তাহলে অল্প বৃষ্টিই যথেষ্ট। তোমরা যা কর আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা। (সূরা বাকারা : আয়াত ২৬৫)।

ইসলাম নিঃশর্তভাবে দান করতে বলে। দান করতে হবে মানবিক কর্তব্যবোধ পালনের উদ্দেশ্যে। দান করতে হবে এমনভাবে যাতে দানগ্রহীতার প্রতি অনুকম্পা প্রকাশ করে বড়লোকি ফলাও করার মানসিকতা না থাকে এবং দান করার পর গ্রহীতার মনে কোনরূপ কষ্ট না হয় কিংবা গ্রহীতাকে হেয় প্রতিপন্ন না করা হয়।

কুরআন মজিদে ইরশাদ হয়েছে : যারা আল্লাহর রাস্তায় ধনৈশ্বর্য ব্যয় করে কথা বলে বেড়ায় না এবং ক্লেশও দেয় না, তাদের পুরস্কার তাদের রবের নিকট আছে। তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না। যে দানের পর ক্লেশ দেয়া হয় তার চেয়ে ভাল কথা ও ক্ষমা শ্রেয়। আল্লাহ অভাবমুক্ত ও সহনশীল। হে মু’মিনগণ! দানের কথা বলে বেড়িও না এবং ক্লেশ দিয়ে তোমরা তোমাদের দানকে ওই ব্যক্তির ন্যায় নিষ্ফল কর না- যে নিজের ধন-সম্পদ লোক দেখানোর জন্য ব্যয় (দান) করে থাকে এবং আল্লাহ ও আখিরাতে ইমান রাখে না। তার উপমা একটি মসৃণ পাথর যার ওপর কিছু মাটি থাকে, অতঃপর তার ওপর প্রবল বৃষ্টিপাত হয়ে তা পরিষ্কার করে রেখে দেয়। যা তারা উপার্জন করেছে তার কিছুই তারা কাজে লাগাতে পারে না। (সূরা বাকারা : আয়াত ২৬২-২৬৪)।

এসব আয়াতে কারিমা থেকে এ কথা সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে, দান-খয়রাত করতে হবে খাঁটি নিয়তে ও খালেস অন্তরে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। নাম-যশ হবে এই মানসিকতা নিয়ে দান করলে তাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হবে না। আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিলের জন্য দান করলে তা দানকারীর নিজের জন্য কল্যাণকর হবে। কুরআন মজিদে ইরশাদ হয়েছে : যে ধন-সম্পদ তোমরা ব্যয় (দান) কর তা তোমাদের নিজেদের জন্য এবং তোমরা তো শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভার্থে ব্যয় করে থাক। যে ধন-সম্পদ তোমরা ব্যয় (দান) কর তার পুরস্কার তোমাদের পুরোপুরিভাবে প্রদান করা হবে এবং তোমাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না। (সূরা বাকারা : আয়াত ২৭২)।

দান করতে হবে দুর্গত, দুর্দশাগ্রস্ত, নিঃস্ব মানুষের দুর্গতি, অসহায়ত্ব ও দারিদ্র্য বিমোচন করার লক্ষ্য স্থির করে। কুরআন মজিদে সম্মানজনক, উত্তম ও পছন্দসই জিনিস দান করার নির্দেশ দিয়ে ইরশাদ হয়েছে : তোমরা যা ভালবাস তা হতে ব্যয় (দান) না করা পর্যন্ত তোমরা কখনও পুণ্য লাভ করবে না। তোমরা যা কিছু ব্যয় (দান) কর আল্লাহ সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত। (সূরা আল-ইমরান : আয়াত ৯২)।

হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদিআল্লাহ তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : প্রবঞ্চক, দান করে খোটা প্রদানকারী এবং কৃপণ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। (তিরমিযী শরীফ)।

কারও পক্ষে ধন-সম্পদ দিয়ে দুর্গত মানুষের সাহায্য করার সামর্থ্য না হলে সে যদি দুর্গত মানুষের পাশে গিয়ে তাকে সান্ত¡না দেয়, শ্রম দিয়ে তাকে মদদ যোগায় সেটাও সাদাকা বলে গণ্য হবে। হযরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমার ভাইয়ের সামনে তোমার হাসি তোমার জন্য সাদাকা, সৎ কাজের আদেশ দেয়া ও অসৎ কাজে নিষেধ করাও সাদাকা, পথ হারিয়ে ফেলেছে এমন ব্যক্তিকে পথ দেখিয়ে দেয়াও সাদাকা, দৃষ্টিহীনকে পথ দেখানোও সাদাকা, রাস্তা থেকে পাথর, কাঁটা, হাড্ডি (অর্থাৎ যে কোন ধরনের কষ্টদায়ক প্রতিবন্ধকতা) সরিয়ে দেয়াও তোমার জন্য সাদাকা, তোমার বালতি থেকে তোমার ভাইয়ের বালতিতে পানি ঢেলে দেয়াও তোমার জন্য সাদাকা। (তিরমিযী শরীফ)।

কুরআন মজিদে ইরশাদ হয়েছে : তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান কর সেটাও ভাল আর যদি গোপন কর এবং অভাবগ্রস্তকে দাও সেটা তোমাদের জন্য আরও ভাল। (সূরা বাকারা : আয়াত ২৭১), যে নিজের সম্পদ দান করে আত্মশুদ্ধির জন্য এবং কারও প্রতি অনুগ্রহের প্রতিদানে নয়, কেবল তার মহান রবের সন্তুষ্টির প্রত্যাশায়; সে তো অচিরেই সন্তোষ লাভ করে। (সূরা লায়ল : আয়াত ১৮-২০)।

হযরত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহ্ পৃথিবী সৃষ্টি করলে তা টলতে লাগল। তখন তিনি পাহাড় সৃষ্টি করে পৃথিবীর ওপর বসিয়ে দিয়ে অটল থাকতে বললেন। পৃথিবী স্থির হয়ে গেল। ফেরেশ্তারা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল : হে রব্! আপনার সৃষ্টিতে এর থেকে শক্তিশালী আর কি কিছু আছে? তিনি বললেন : হ্যাঁ, লোহা। তারা বলল : লোহার চেয়ে আপনার সৃষ্টির মধ্যে অধিক শক্তিশালী আর কি কিছু আছে? তিনি বললেন : আগুন। তারা বলল : আগুনের চেয়ে অধিক শক্তিশালী আর কি কিছু আছে? তিনি বললেন : বাতাস। তারা বলল : বাতাস থেকে অধিক শক্তিশালী আর কি কিছু আছে? তিনি বললেন : মানুষের সেই দান- যা সে ডান হাতে প্রদান করে কিন্তু তার বাঁ হাত তা জানতে পারে না। (তিরমিযী শরীফ)।

দুস্থ, দুর্গত মানুষের সেবা করা যে কত মহৎ কর্ম তা বলে শেষ করা যায় না। হযরত আবু হুরায়রা রাদি আল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, হযরত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু কিয়ামতের দিন বলবেন : হে আদম সন্তান (মানুষ)! আমি অসুস্থ ছিলাম কিন্তু তুমি আমার খোঁজখবর রাখনি, সে বলবে : আমি কেমন করে আপনার খোঁজখবর রাখব, আপনি যে রাব্বুল আলামিন। আল্লাহ্ বলবেন : তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল অথচ তুমি তাকে সেবা করনি তাকে সেবা-শুশ্রƒষা করলেই তুমি তার কাছে আমাকে পেতে। আল্লাহ্ বলবেন : হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে খেতে দাওনি। সে বলবে : হে আমার রব্! আমি কি করে আপনাকে খাওয়াতে পারি? আপনি তো রব্বুল আলামিন। তিনি বলবেন : তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে আহার চেয়েছিল? তুমি কি তাকে আহার করাওনি। তুমি যদি তাকে আহার করাতে, তা হলে অবশ্যই তার কাছে আমাকে পেতে। আল্লাহ্ বলবেন : হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে তৃষ্ণা নিবারণের জন্য পানি চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে পানি পান করাওনি। সে বলবে : হে আমার রব্ আমি কেমন করে আপনাকে পানি পান করাব, আপনি তো রব্বুল আলামিন। আল্লাহ্ বলবেন : আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানি চেয়েছিল, তুমি যদি তাকে পানি পান করাতে তাহলে আমাকে তার কাছে পেতে। (মুসলিম শরীফ)।

মানুষ আল্লাহ্র শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। একজন মানুষ বা একটি মানব গোষ্ঠী রোগে, শোকে, দুর্যোগে নিপতিত হলে অন্যদের ওপরে তা থেকে তাদের উদ্ধার করার তাবত দায়িত্ব বর্তায়। মানুষ মানুষের জন্য কথাটি আমরা বলি বটে, কিন্তু আমরা ক’জনই এটাকে আমল করি। আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু দুর্গত মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করার জোর নির্দেশ দিয়েছেন। হযরত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দান আল্লাহ্র রাগ উপশম করে, মৃত্যুযন্ত্রণা দূরীভূত করে। (তিরমিযী শরীফ)।

লেখক : পীর সাহেব, দ্বারিয়াপুর শরীফ

নির্বাচিত সংবাদ