১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সড়কপথে চার দেশে যান চলাচল ব্যবস্থা দ্রুত এগোচ্ছে

সড়কপথে চার দেশে যান চলাচল ব্যবস্থা দ্রুত এগোচ্ছে
  • ’২১ সালে উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ বাস্তবায়ন ;###;৫০৭ কিমি চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণে অগ্রগতি ;###;বদলে যাবে অর্থনীতির হালের চিত্র

রাজন ভট্টাচার্য ॥ আগামী ’৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তরের লক্ষ্যে যোগাযোগ সেক্টরে আমূল পরিবর্তন আনতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, বিশ^মানের সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা, নতুন নতুন সড়ক নির্মাণ, সড়ক উন্নয়ন ও সংস্কার, উড়াল সেতু, ওভারপাস নির্মাণ, সেতু/কালাভার্ট নির্মাণ। এছাড়াও রয়েছে আকাশ ও নৌপথের উন্নয়ন। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাংলাদেশকে যুক্ত করার কাজ চলমান। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে এবারের বাজেটে প্রায় সাড়ে ৬১ হাজার কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়ছে। এর মধ্যে সড়ক বিভাগে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ২৯ হাজার কোটি টাকার বেশি।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞসহ সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চিত্র বদলে দিতে পারে। তাই যোগাযোগ সেক্টরে সড়ককে বেশি গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি প্রতি বছরের বাজেটে যোগাযোগ খাতে বেশি বরাদ্দ দেয়ারও তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বলছেন, সাসেক নেটওয়ার্ক, সীমান্ত সড়ক, ঢাকা সিলেট ফোর লেন প্রকল্প ও এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত ছয় লেনের মহাসড়ক, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত উড়াল সড়ক, কর্ণফুলী টানেল ও পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হলে দেশের উন্নয়নের চিত্র একেবারেই বদলে যাবে।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানায়, যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট ৬১ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খাতে গত অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ৫৩ হাজার ৮১ কোটি টাকা। যোগাযোগ খাতের মধ্যে সড়ক বিভাগে সর্বোচ্চ ২৯ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

টেকসই ও নিরাপদ সড়ক মহাসড়ক উন্নয়ন, সেতু টানেল নির্মাণ ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন, সমন্বিত ও আধুনিক নগর পরিবহন ব্যবস্থা, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা, রেলপথ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাণিজ্য সহায়ক নৌপথ ও বন্দর উন্নয়ন, বিমানবন্দর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ খাতে প্রায় সাড়ে ৬১ হাজার কোটি টাকা বাজেটে প্রস্তাব করা হয়।

সড়কপথেই চার দেশ ॥ ঢাকা থেকে গাজীপুর-টাঙ্গাইল হয়ে ছয় লেনের মহাসড়ক যাবে লালমনিরহাটের বুড়িমারী সীমান্ত পর্যন্ত। আরেকটি মহাসড়ক যাবে দিনাজপুর হয়ে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত। এই মহাসড়ক ধরেই বাংলাদেশ থেকে ভারত, নেপাল ও ভুটানে যাওয়া যাবে। এজন্য সাউথ এশিয়া সাব রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশনের (সাসেক) এর তিনটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

ইতোমধ্যে সাসেক প্রকল্প-১ এর আওতায় গাজীপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেন মহাসড়কের কাজের প্রায় ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের বর্ধিত অংশে আরও দুই লেন যুক্ত করা হয়েছে। আর সাসেক প্রকল্প-২ এর আওতায় টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া হয়ে রংপুর পর্যন্ত ছয় লেন মহাসড়কের কাজ শুরুর চিন্তা করছে সরকার।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতর সূত্রমতে, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থেকেই গাজীপুর থেকে টাঙ্গাইল চার লেনের মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাড়তি লেনের জন্য জমি অধিগ্রহণ চলছে। ছয় লেনের মধ্যে দুই লেন রাখা হচ্ছে ধীরগতির যানবাহনের জন্য।

’১৩ সালের এপ্রিলে প্রকল্পের অনুমোদন হলেও তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয় ’১৬ সালে। অথচ প্রকল্পটির বিশেষ সংশোধনী অনুযায়ী এ বছরের ৩১ মার্চ মেয়াদ শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদন হয়েছে। সময়মতো শেষ না হওয়ার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজে ধীরগতি আর দুর্বল তদারকিকে দায়ী করেছে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি)।

আইএমইডির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের শুরুতে যথাযথ পরিকল্পনার অভাবই ছিল মূল সমস্যা। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে তা শুরু হলেও ফিজিবিলিটি স্টাডিকালীন সময়ে কোন প্রকার তদারকি করা হয়নি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফিজিবিলিটি স্টাডির আলোকে ডিপিপি প্রস্তুত করতে গিয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সব অঙ্গ বিবেচনা না করে প্রকল্প ব্যয় দুই হাজার ৭৮৮ কোটি টাকায় মূল ডিপিপি প্রস্তুত করে। প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ওএফআইডি, এডিএফডি ও বাংলাদেশ সরকার অর্থায়ন করছে। বর্তমানে প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে পাঁচ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। গত মার্চে প্রকল্পটি শেষ করার কথা থাকলেও এটি এখন ’২০ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বাস্তবায়নের কাজে ধীরগতি, অতিবৃষ্টি, ঠিকাদারদের অদক্ষতা ও নি¤œমানের প্রকল্প ব্যবস্থাপনার কারণে এই সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, মূল প্রকল্পটিতে কোনাবাড়ী ফ্লাইওভার, চন্দ্রা ফ্লাইওভার, লতিফপুর রেলওয়ে ওভারপাস, সোহাগপুর রেলওয়ে ওভারপাস ও রাবনা ফ্লাইওভার অন্তর্ভুক্ত ছিল। দ্বিতীয় সংশোধনীতে নাওজোর ফ্লাইওভার, শফিপুর ফ্লাইওভার, চন্দ্রা লুপ, কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক ফ্লাইওভার, লতিফপুর রেলওয়ে ওভারপাস, গোড়াই ফ্লাইওভারসহ মোট ছয়টি ফ্লাইওভার এবং তেরোটি আন্ডারপাস এবং ডানপাশের ৫১ কিলোমিটার এসএমভিটি লেন অর্থাৎ ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে, সাসেক প্রকল্প-২ এর উত্তরাঞ্চলে মহাসড়কের মধ্যে যে ব্রিজগুলো পড়েছে ওগুলোও ছয় লেনের উপযোগী করে নির্মিত হচ্ছে। এগুলো নির্মাণ করছে ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (ডব্লিউবিবিআইপি)। ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত কাজ শেষ হওয়ার পর রংপুর থেকে বুড়িমারী অথবা বাংলাবান্ধা পর্যন্ত সাসেক-৩ প্রকল্পের ছয় লেনের মহাসড়কের কাজ শুরু হবে। অন্যদিকে, সাসেক-২ এর আওতায় ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া-রংপুর হয়ে ছয় লেনের মহাসড়ক যাবে লালমনিরহাটের বুড়িমারী সীমান্ত পর্যন্ত। আরেকটি মহাসড়ক যাবে দিনাজপুরের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর অবধি। ইতোমধ্যে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে চার দেশের (বাংলাদেশ, ভারত নেপাল, ভুটান) মধ্যে ইমিগ্রেশন বিভাগ চালু হয়েছে। প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়িত হলে সড়কপথেই যাওয়া যাবে এই চার দেশে।

সড়ক বিভাগের এক উর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, সাসেক প্রকল্পের মহাসড়কের কার্যক্রম বাংলাদেশের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক কর্মকা-কে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যেই বাস্তবায়িত হচ্ছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মাল্টি ট্রান্স ফেসিলিটিজ (এমএফএফ) স্তরভিত্তিক অর্থায়নে সাসেক উন্নীতকরণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ’১৬ সালে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ’২১ সালের মধ্যে সাসেক-১, ২ ও ৩ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। উত্তরের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে চার দেশের (বাংলাদেশ, ভারত নেপাল, ভুটান) মধ্যে ইমিগ্রেশন বিভাগ চালু হয়েছে। এই চার দেশের মধ্যে শীঘ্রই সরাসরি যানবাহন চলাচল শুরু হবে। সাসেকের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মাহবুবর রহমান বলেন, এ প্রকল্পের মহাসড়ককে চার লেনের কথা বলা হয়, তবে তা ছয় লেনের। দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলের (ক্যারেজওয়ে) সড়ক চার লেনের। এর সঙ্গে অপেক্ষাকৃত ধীরগতির ছোট যানবাহন চলাচলের জন্য আরও দুই লেন যোগ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই মহাসড়ক হবে ছয় লেনের।

সূত্রমতে, সাসেক প্রকল্পের ঢাকা থেকে বগুড়ার দূরত্ব ১৯০ কিলোমিটার এবং ঢাকা থেকে রংপুরের দূরত্ব ৩০৭ কিলোমিটার। এই মহাসড়ক নির্মিত হচ্ছে সুদূরপ্রসারী ভাবনায় আন্তর্জাতিক মানের। বর্তমান নক্সায় উত্তরাঞ্চলে মহাসড়কে ৪১১ মিটারের একটি রেলওয়ে ওভারপাস, ৩২ ব্রিজ, ১১ পথচারী ওভারপাস, ৩৯ আন্ডারপাস, একটি ইন্টারচেঞ্জ নির্মিত হবে। এর বাইরে দীর্ঘ এই সড়কে আশিটি পয়েন্টে উন্নত দেশগুলোর মতো আধুনিক ‘বাস বে’ স্থাপন হবে।

যোগাযোগ অবকাঠামো ॥ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখা ও উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে আধুনিক, নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডড়ৎষফ ঊপড়হড়সরপ ঋড়ৎঁস এর ঞযব এষড়নধষ ৪০ ঈড়সঢ়বঃরাবহবংং ওহফবী, ২০১৮ র‌্যাংকিং অনুযায়ী ১৪০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩০তম স্থানে। এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের অগ্রযাত্রায় যোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ এখন অত্যন্ত জরুরী। এ লক্ষ্যে সরকার যোগাযোগ অবকাঠামো বিশেষ করে রেলপথকে অন্যতম অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

টেকসই ও নিরাপদ সড়ক-মহাসড়ক উন্নয়ন ॥ ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত দেশে রূপান্তরের লক্ষ্যে সড়ক উন্নয়ন ও সংস্কার, নতুন সড়ক নির্মাণ, উড়াল সেতু, ওভারপাস নির্মাণ, সেতু/কালাভার্ট নির্মাণ ইত্যাদি জনগুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে সকল জাতীয় মহাসড়ককে চার বা তার চেয়ে বেশি লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ৫০৯ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক চার বা তার চেয়ে বেশি লেনে উন্নীত করা হয়েছে। আরও ৫০৭ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেন বা তারচেয়ে বেশি লেনে নির্মাণ কাজ চলমান। সরু ও ক্ষতিগ্রস্ত সেতু ও কালভার্ট পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। জোনভিত্তিক জেলা মহাসড়ক সংস্কার, উন্নয়ন ও মেরামত কাজ চলমান আছে। বিশ^ায়নের সুফল অর্জন ও বাজার অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার লক্ষ্যে সাসেক রোড কানেক্টিভিটি প্রজেক্ট-১ ও ২ বাস্তবায়ন হচ্ছে। সারাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজসমূহের স্থলে কংক্রিট সেতু নির্মাণ করা হবে।

সেতু-টানেল নির্মাণ ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন ॥ সমন্বিত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপনে পদ্মা বহুমুখী সেতু, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালি পর্যন্ত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণসহ আরও বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর দুই কিলোমিটার এখন দৃশ্যমান। দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতু নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্মিত হয়েছে।

সমন্বিত আধুনিক নগর পরিবহন ব্যবস্থা ॥ রাজধানীর অভ্যন্তরীণ সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, প্রবেশ ও নির্গমন মহাসড়কের যানজট নিরসনসহ ঢাকা ও পাশর্^বর্তী এলাকার জন্য পরিকল্পিত ও সমন্বিত আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে জবারংবফ ঝঃৎধঃবমরপ ঞৎধহংঢ়ড়ৎঃ চষধহ (২০১৫-৩৫) বাস্তবায়ন কাজ চলমান। এর আওতায় দেশের প্রথম মেট্রোরেল, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৬ নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি বাস্তবায়নের কাজ চলছে। সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, আমরা চাই সড়ক নেটওয়ার্কের উন্নয়ন একেবারেই বিশ^মানের হোকÑ বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ এশিয়ার সবগুলো দেশে ভ্রমণ করা যায়। এতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পর্যটনের বিকাশের পাশাপাশি বাণিজ্যিক সমৃদ্ধিও ঘটবে।

প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা ॥ নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক পরিবহন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় মহাসড়কের ১২১ দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা হয়েছে এবং আট হাজার ১০০ স্পটে ডাইরেকশনাল সাইন সিগন্যাল ও কিলোমিটার পোস্ট স্থাপন করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এছাড়া ধীরগতির যানবাহনের জন্য জাতীয় মহাসড়কে পৃথক লেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দক্ষ গাড়ি চালক তৈরির কার্যক্রম অব্যাহত আছে। গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান। মোটরযানের ডিজিটাল ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানের লক্ষ্যে ঢাকা চট্টগ্রাম রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে চারটি স্বয়ংক্রিয় যানবাহন পরিদর্শন কেন্দ্র স্থাপন হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৭ জেলায় যানবাহন পরিদর্শন কেন্দ্র স্থাপন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। মেঘনা সেতুতে ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে টোল আদায় চালু হয়েছে।

এই মাত্রা পাওয়া