২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টুকরো খবর

পেপারলেস ডিজিটাল নিবন্ধনে বিকাশ এ্যাকাউন্ট

এখন থেকে তাৎক্ষণিকভাবে খোলা যাবে বিকাশ এ্যাকাউন্ট। ই-কেওয়াইসির (ইলেকট্রনিক-নো ইওর কাস্টমার) মাধ্যমে গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) স্ক্যান করে ও ছবি তুলে কয়েক মিনিটের মধ্যে নতুন এ্যাকাউন্ট খোলা যাচ্ছে এ পেপারলেস ডিজিটাল নিবন্ধন পদ্ধতিতে। এ পদ্ধতিতে এ্যাকাউন্ট খোলার সময় তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকের তথ্যের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের এনআইডি ডাটাবেজে রক্ষিত তথ্যের সত্যতা যাচাই (ভেরিফাই) করেই নতুন বিকাশ এ্যাকাউন্ট নিবন্ধন ও এর সব সেবা ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে। এভাবে ই-কেওয়াইসি দিয়ে ঝামেলাহীন, দ্রুত এবং ভেরিফায়েড এ্যাকাউন্ট খুলে গ্রাহক এবং বিকাশ উভয়েরই যেমন সময়ের সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি এ্যাকাউন্টগুলোর নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। গত ১০ জুলাই এটি চালুর পর বর্তমানে সারাদেশে ২৬ হাজার এজেন্ট, ৩০০টির মতো বিকাশ কেয়ার, বিকাশ সেন্টার এবং ডিস্ট্রিবিউটর এ্যাকুইজিশন ম্যানেজারের কাছে ই-কেওয়াইসির মাধ্যমে নতুন এ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা নেয়া যাচ্ছে।

এ পদ্ধতিতে এ্যাকাউন্ট খুলতে গ্রাহকের এনআইডি কার্ড থেকে ওসিআর পদ্ধতির মাধ্যমে সরাসরি তথ্য সন্নিবেশিত করা হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে মোবাইল থেকেই সরাসরি গ্রাহকের ছবি তোলা হচ্ছে এবং ফেস ডিটেকশন প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবি মিলিয়ে পরবর্তী ধাপে যাওয়া হচ্ছে। সন্নিবেশিত তথ্য ও ছবি তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশন ডাটাবেজে রক্ষিত তথ্যের সঙ্গে যাচাই করেই কয়েক মিনিটের মধ্যে বিকাশ এ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব হচ্ছে। প্রতিটি এ্যাকাউন্ট সফলভাবে খোলার পর গ্রাহক এবং যিনি এ্যাকাউন্ট খুুলে দিচ্ছেন, উভয়ই নিশ্চিতকরণ মেসেজ পাচ্ছেন।

বিশ্ব পুঁজিবাজারে বড় পতন

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ ও বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিশ্বজুড়ে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। ১৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারের প্রধান তিনটি সূচক কমেছে ৩ শতাংশ। বড় ধরনের দরপতন দেখেছে ইউরোপের পুঁজিবাজারও। তার পরের দিন নিম্নমুখী প্রবণতায় লেনদেন হচ্ছে এশিয়ার পুঁজিবাজারে। জার্মানি ও চীনের অর্থনীতিতে ফাটল ধরেছে এমন শঙ্কায় ভিড় বাড়ছে বন্ড ও স্বর্ণের বাজারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেই যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অর্থনীতি শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যথেষ্ট সচেষ্ট না ট্রাম্পের এমন অভিযোগ ব্যাংকটিকে চাপে রেখেছে। এসব কারণে আস্থা হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

আর্থিক সেবা খাত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ব্রুডারম্যানের বাজার বিশ্লেষক অলিভার পারশে মনে করেন, বৈশ্বিক চিত্র এখন অনিশ্চিত। হংকংয়ে বিক্ষোভ, যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট, বাণিজ্যযুদ্ধ ইত্যাদি একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। বিশ্বের প্রতিটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থনৈতিক উন্নয়নের চেষ্টা করছে বটে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে রাজনীতিবিদেরা অর্থনীতিকে ধ্বংসের চেষ্টা করছেন।

১৫ আগস্ট সরকারী তথ্যে দেখা যায়, দ্বিতীয় প্রান্তিকে জার্মানির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) সঙ্কুচিত হয়েছে। চীনের শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি গত ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থায় নেমে এসেছে। এসব তথ্য ইতিমধ্যে ইউরোপের বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচকটি কমেছে ১ শতাংশ। অন্যদিকে, জার্মানি ও ফ্রান্সের পুঁজিবাজারে সূচক কমেছে ২ শতাংশ করে।

বাংলাদেশ রেমিটেন্স আহরণে নবম

বিশ্বব্যাপী বেশি রেমিটেন্স আসা দেশগুলোর মধ্যে এবারও বাংলাদেশের অবস্থান নবম। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ১৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স আহরণ করে এ স্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত, দ্বিতীয় চীন ও তৃতীয় অবস্থানে আছে মেক্সিকো। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের মাইগ্রেশন এ্যান্ড রেমিটেন্স ইউনিট বিভাগ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের রেমিটেন্সের গতি প্রাণবন্ত ছিল। ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে বিশ্বে প্রবাসী আয়ের দেশ হিসেবে অবস্থান বদলায়নি। কারণ এর আগের বছর ২০১৭ সালেও বাংলাদেশ একই অবস্থানে ছিল। প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০১৮ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় রেমিটেন্সে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়ে ১৩১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা ২০১৭ সালে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ শতাংশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি শক্তিশালী উত্থান ঘটেছে। এছাড়া তেলের দাম বাড়ায় রেমিট্যান্স আহরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

২০১৮ সালে ভারতে রেমিটেন্স ১৪ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। আলোচিত বছরে দেশটি সাত হাজার ৮৬০ কোটি ডলার রেমিটেন্স আহরণ করে প্রথম স্থান ধরে রেখেছে। ভারতের পরে রয়েছে চীন, মেক্সিকো, ফিলিপাইন, মিসর, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ইউক্রেন ও ভিয়েতনাম। বিশ্বব্যাংকের ধারণা, ২০১৮ সালে চীনের রেমিটেন্সের পরিমাণ ছয় হাজার ৭৪০ কোটি ডলার, মেক্সিকোর তিন হাজার ৫৭০ কোটি, ফিলিপিন্সের তিন হাজার ৩৮০ কোটি, মিসর দুই হাজার ৮৯০ কোটি, নাইজেরিয়ার দুই হাজার ৪৩০ কোটি, পাকিস্তান দুই হাজার ১০০ কোটি, ভিয়েতনাম এক হাজার ৯০০ কোটি ডলার, বাংলাদেশ এক হাজার ৫০০ কোটি ডলার এবং ইউক্রেন এক হাজার ৪৪০ কোটি ডলার রেমিটেন্স আহরণ করেছে।

অর্থনীতি ডেস্ক