১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জেএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি বাংলা

  • মোঃ সেলিম আদ্-দীন

পরিচালক

শিকড় একাডেমি (একাডেমিক কেয়ার), ১২২, মনেশ্বর রোড, ঝিগাতলা, ঢাকা।

মোবাইল: ০১৯১৪২০৪২৯৩

প্রিয় শিক্ষার্থী,

শিকড় একাডেমির পক্ষ থেকে তোমাদের জানাই অসংখ্য শুভেচ্ছা। কবিতার প্রশ্ন উত্তর করার জন্য কবিতাটি যত বেশি বিশ্লেষণ করে মূলভাব বা কবির মনোভাব ও বক্তব্য আয়ত্তে আনতে পারবে, মানম্মত উত্তর লিখা তত সহজ হবে। এক কথায়, মান সম্মত উত্তর লিখে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্তিতে কবিতার মূলভাব ও বক্তব্য বিশ্লেষণ করে আয়ত্তে আনার বিকল্প নেই। আজ তোমাদের জন্য ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতার সমাগ্রিক পর্যালোচনা করা হল, যা তোমাদের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে বিরাট সহায়ক হবে।

আবার আসিব ফিরে

জীবনানন্দ দাশ

কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলা সাহিত্যের এক অবিস্মরণীয় নাম। আধুনিক জীবনচেতনার নানা বাস্তবতা তাঁর কবিতায় লক্ষ করা যায়। তাছাড়া প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্যেও কবি নিমগ্নচিত্ত ছিলেন। কবির দৃষ্টিতে বাংলাদেশ এক অনন্য রূপসী। এ দেশের গাছপালা, লতাগুল্ম, ফুল-পাখি তাঁর আজন্ম প্রিয়। প্রকৃতির অন্তরাত্মাকে তিনি উপলব্ধি করেছেন। ধরিত্রীর আঁচল ছিন্ন করে বিদায় নেওয়ার বেদনাবোধ এবং এই ধরিত্রীতে আবারো ফিরে আসার আকাক্সক্ষা তাঁর কবিতায় উচ্চকিত।

আমাদের আলোচ্য ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের ‘রূপসী বাংলা’ নামক কাব্যগ্রন্থ থেকে চয়ন করা হয়েছে। কবির দৃষ্টিতে অসাধারণ সুন্দর এই দেশ। সারা পৃথিবীর মধ্যে অনন্য। প্রকৃতির সৌন্দর্যের এমন লীলাভূমি পৃথিবীর কোথাও নেই আর। ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় কবি দেশের প্রতি তার শুভ্র, অন্তরঙ্গ গভীর ভালোবাসাকে চিত্রায়িত করেছেন তাঁর সুনিপুন তুলির আঁচড়ে। প্রিয় জন্মভূমির অত্যন্ত তুচ্ছ জিনিসগুলো তাঁর দৃষ্টিতে সুন্দর হয়ে ধরা পড়েছে। কবি মনে করেন, যখন তাঁর মৃত্যু হবে তখন দেশের সঙ্গে তাঁর মমতার বাঁধন শেষ হবে না। তিনি বাংলার নদী, মাঠ, ফসলের খেতকে ভালোবেসে শঙ্খাচিল বা শালিকের বেশে এদেশে ফিরে আসবেন। আবার কখনও বা ভোরের কাক হয়ে কুয়াশায় মিশে যাবেন। এমনও হতে পারে, তিনি হাঁস হয়ে সারাদিন কলমির গন্ধে ভরা বিলের পানিতে ভেসে বেড়াবেন। এমনকি দিনের শেষে যে সাদা বকের দল মেঘের কোল ঘেঁষে নীড়ে ফিরে আসে তাদের মাঝেও কবিকে খুঁজে পাওয়া যাবে। এভাবে তিনি বাংলাদেশের রূপময় প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যাবেন।

জীবনানন্দ দাশ প্রকৃতির ছবি। প্রকৃতির রহস্যময় সৌন্দর্য তাঁর কবিতার মূলগত প্রেরণা। বাংলার নিসর্গের সাথে কবির যেন জন্ম - জন্মান্তরের সম্পর্ক। ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় দেশের প্রতি তথা দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতি গভীর মমত্ববোধের প্রকাশ ঘটেছে। কিন্তু এর বাইরেও ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় কবির যে আকাঙ্খা তীব্রভাবে প্রকাশ পেয়েছে তা হলো মৃত্যুর পরেও কবি অন্যরূপ ধরে হলেও এদেশে ফিরে আসার ব্যাকুল আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। অর্থাৎ মৃত্যুর পরেও এদেশের প্রকৃতি ও জীবনের নানা অনুষঙ্গের মাঝে কবিকে খুঁজে পাওয়া যাবে। তাইতো কবি বলেছেন,

‘‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে- এই বাংলায়

হয়তো মানুষ নয়- হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে;’’

*পরবর্তী সংখ্যায় আবার আসিব ফিরে কবিতার সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর থাকবে।*

এই মাত্রা পাওয়া