২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জলঢাকায় আ. লীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষের মামলায় ১৪ জনের জামিন

জলঢাকায় আ. লীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষের  মামলায় ১৪ জনের জামিন

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ॥ নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় শোক দিবসের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলায় আরও তিন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ রবিবার বিকাল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে। তারা হলেন, উপজেলা সৈনিক লীগের সদস্য এমদাদুল হক মিলন (৩০), আওয়ামী লীগ কর্মী হাবিবুর রহমান (৩০) ও আজিজুল ইসলাম (৫৫)। সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফার গ্রুপের পক্ষে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফ হোসেনের দায়ের করা মামলায় এমদাদুল হক মিলন ও আজিজুল ইসলামকে এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার আলী মিন্টুর দায়ের করা মামলায় হাবিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে ওই দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলায় আগের চার জনসহ সাত জন এবং পুলিশের মামলায় এক জনসহ আওয়ামী লীগের আট নেতাকমী গ্রেফতার হয়েছে।

ওই তিন মামলায় গ্রেফতার হওয়া আট জনের মধ্যে রয়েছেন আনছার আলী মিন্টু গ্রুপের চার জন এবং সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা গ্রুপের চার জন।

জলঢাকা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান রবিবার ওই তিন জনকে গ্রেফতারের কথা স্বীকার করে বলেন,‘তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।’

মোস্তফা গ্রুপের ১৪ নেতাকর্মীর জামিন । এদিকে ওই ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার আলী মিন্টুর দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফাসহ ১৪ নেতামর্কীর জামিন দিয়েছে আদালত। আজ রবিবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালতের বিচারক সহদেব চন্দ্র রায় তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন পাওয়া অন্যান্য ব্যাক্তিরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান, সাবেক পৌর মেয়র উপজেলা কৃষক লীগের সদস্য ইলিয়াস হোসের বাবলু, উপজেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক একে আজাদ, উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আশরাফ আলী, উপজেলার খুটামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা শ্রমিক লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি আবু সাঈদ শামীম, মীরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবীর খান হুকুম আলী, বালাগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আহমেদ হোসেন, খুটামারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হান্নান সরকার প্রমুখ।

আসামী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান কবীর চৌধুরী জনী ওই ১৪ জনের জামিনের বিষটি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৫ আগষ্ট বৃহস্পতিবার জাতীয় শোক দিবসের দিন জলঢাকায় বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদাৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালনের সময় আওয়ামী লীগের বিবাদমান দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৫ পুলিশসহ ৭জন আহত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ১৩ রাউন্ড টিয়ার শেল ও ১৩ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে জলঢাকা থানার উপ-পরিদর্শক মামুন-অর রশীদকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানন্তর করা হয়। বাকি ৪ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।