১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বস্তিতে আগুন

শুক্রবার রাতে মিরপুরের রূপনগরের বস্তিতে আগুন লাগায় প্রায় পুরো বস্তি বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। ঈদের ছুটিতে অধিকাংশ বস্তিবাসীই দেশের বাড়িতে অবস্থান করায় বিরাট মানবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা মিলেছে। গরিব শ্রমজীবী মানুষের নিদারুণ ক্ষয়ক্ষতির ভেতর সান্ত¡না একটিই যে, বিরাট অগ্নিকান্ডে প্রাণহানি ঘটেনি। কয়েকজন আহত হলেও তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। প্রাথমিকভাবে অগ্নিকান্ডের কারণ না জানা গেলেও বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা। প্লাস্টিকের পাইপের মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেয়ায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত।

রাজধানীর বস্তিতে আগুন লাগার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। কড়াইল বস্তিতে একাধিকবার আগুন লাগার উদাহরণ রয়েছে। আগুন লাগলে প্রথমেই আগাম ধারণা করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। মনে করা হয়, বস্তি উচ্ছেদ করার জন্যই পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়েছে। লাখ লাখ বস্তিবাসীকে স্থানচ্যুত করার এটি একটি কৌশল। প্রায় সাড়ে তিন দশক আগে মিরপুরের এই বস্তিটি গড়ে ওঠে। প্রধানত রিক্সাচালক, গার্মেন্ট কর্মী, সবজি ও ফলবিক্রেতা এবং গৃহকর্মীদেরই বাস ছিল ওই বস্তিতে। আগুনে শুধু আশ্রয়ই হারাননি, তাদের সংসারের যাবতীয় সামগ্রী ও সম্পদ তারা হারিয়েছেন। বলা যায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন রাতারাতি। প্রথমে তাদের মানবিক সহায়তা দান জরুরী। উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তাৎক্ষণিকভাবে বস্তিবাসীদের মাথা গোঁজার জন্যে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ভবন খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। সাময়িকভাবে খাবারের বন্দোবস্তও করেছেন। এটি সাধুবাদযোগ্য।

অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে আমাদের অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা নিয়ে কিছু না কিছু প্রশ্ন ওঠে। ফায়ার ব্রিগেডের অগ্নিযোদ্ধারা আন্তরিকতার সঙ্গে, অনেক সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়েও আগুন নেভাতে চেষ্টা করেন। কয়েক মাস আগে বনানীর একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকান্ডের সময় আমরা প্রত্যক্ষ করেছি দমকলকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুনে আটকে পড়াদের জীবন রক্ষায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু কারিগরিভাবে আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাপনায় যেসব সুবিধা ও সক্ষমতা থাকা প্রত্যাশিত, সে জায়গাটিতে সব সময়েই কিছু না কিছু ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। মিরপুরের বস্তিতে একসঙ্গে কাজ করেছে দমকল বাহিনীর ২৪টি ইউনিট। পুরো আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সাড়ে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে গেছে। আমাদের সংবাদদাতা জানাচ্ছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এক পর্যায়ে পানির সঙ্কট হলে ১১৫ জনের ফায়ার সার্ভিস কর্মীকে বেশ বেগ পেতে হয়। পরে তারা বহুতল ভবনের রিজার্ভ ট্যাঙ্কে পানির পাইপ লাগিয়ে মেশিনের সাহায্যে পানি অগ্নিকান্ডস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। অবৈধ গ্যাস ও বিদ্যুত সংযোগের কারণেই আগুন আরও তীব্র হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনীতির প্রভাবপুষ্ট শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার খবরও আছে।

অগ্নিকান্ড মোকাবেলায় আধুনিকতা ও সক্ষমতা জরুরী। বস্তিতে যেহেতু ঘনবসতি থাকে এবং ঘরগুলোও গায়ে গায়ে লাগানো, তাই আগুন লাগলে অল্প সময়ের ভেতর আগুন ছড়িয়ে পড়ারই আশঙ্কা। তাই বস্তিতেও পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী হয়ে উঠেছে। ঢাকায় প্রায় ৫ হাজার বস্তি রয়েছে। শুক্রবার রাতের অগ্নিকান্ডে রাতারাতি যারা গৃহহীন হলেন, তাদের প্রতি সমাজের দায় রয়েছে। সবার আগে ভাবতে হবে তাদের পুনর্বাসনের কথাটি। মানুষ মানুষের জন্য, এই শুভবোধ যেন জাগ্রত থাকে। শহরের অপরিহার্য অংশ শ্রমজীবী নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি।

নির্বাচিত সংবাদ