১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উন্নয়নের বাঁধে বন্দি লক্ষাধিক বাসিন্দা

উন্নয়নের বাঁধে বন্দি লক্ষাধিক বাসিন্দা
  • নোংরা পানিতে পরিবেশ দুষন

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উন্নয়ন কাজের জন্য ঠিকাদারের দেয়া বাঁধ কাজ শেষের ছয় মাস পরেও অপসারণ করা হয়নি। ফলে নোংরা ও পচা পানির জলাবদ্ধতায় পরিবেশ দুষনের কবলে বন্দি হয়ে পরেছেন জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের কয়েক লাখ বাসিন্দারা।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বাঁধের কারণে নোংরা ও পচা পানির দুষনের আওতায় থাকা উপজেলার উত্তরাঞ্চলের ইউনিয়ন রাজিহার, বাকালের অধিকাংশ এলাকা ও পূর্বাঞ্চলের গৈলা ইউনিয়নের সমগ্র খাল ও বিল এখন দেশীয় মাছ শুন্য। বাঁধের কারণে পানি চলাচল করতে না পারায় নোংরা ও দুষিত পানিতে চুলকানিসহ চর্ম ও পানিবাহিত রোগের আশঙ্কায় চাষিরা তাদের জমি পরিস্কারের কাজ করতে পারছেন না। ফলে এসব এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

রাজিহার গ্রামের মৎস্যজীবি হিরা লাল বিশ্বাস জানান, বর্ষা মৌসুমে বর্শি দিয়ে এবং জাল পেতে মাছ ধরে তারা জিবীকা নির্বাহ করে আসছিলেন। তবে এ বছর বর্ষাকালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তার মতো মৎস্যজীবিরা খাল ও বিল থেকে কোন মাছ ধরতে পারছেন না। মাছ ধরতে না পারার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, রাজিহার ও গৈলা খালের মুখে বাঁধের কারণে খালের পানি পচে কালো হয়ে দুষিত হয়ে গেছে। তাছাড়া পানি চলাচল বন্ধ থাকায় পচা পানি ছড়িয়ে পরেছে বিলসহ সমগ্র জমিতে। এ কারণে পচা পানিতে কোন মাছ পাওয়া যাচ্ছেনা।

স্থানীয় চাষিরা জানান, জানুয়ারি মাসে সড়ক ও কালভার্ট নির্মানের জন্য রাজিহার ও গৈলা খালের মুখের বাঁধ দিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকল্প বাস্তবায়ন ঠিকাদার এম খান গ্রুপের সত্ত্বাধিকারী মাহফুজ খানের সাইট ম্যানেজার ফরহাদ হোসেন। ওই সময় ভরা সেচ মৌসুমে চাষীরা খালে বাঁধ দেয়ায় বিরোধীতা করে আসলেও উন্নয়ন কাজের স্বার্থে তা মেনে নেয়া হয়। উন্নয়ন কাজ শেষ হলেও গত ছয় মাসেও সেই বাঁধ অদ্যবর্ধি অপসারন করেনি ঠিকাদার। ঠিকাদারের দেয়া বাঁধ এখন শুধু কৃষকই নয় সকল জনগনের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল চন্দ্র দাস বাঁধের কারণে খাল ও বিলে পচা পানিতে জনগনের অসুবিধার কথা স্বীকার করে বলেন, ঠিকাদারের লোকজন তাকে জানিয়েছেন আগামী ১০/১৫দিনের মধ্যে তারা খালে বাঁধ অপসারন করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করবেন। এ ব্যাপারে মাহফুজ খানের সাইট ম্যানেজার ফরহাদ হোসেন বলেন, বাঁধ দেয়ার প্রয়োজনীয় কাজ তাদের শেষ হয়েছে। বর্ষার কারণে তারা বাঁধ অপসারন করতে পারেননি। নির্বাহী অফিসারের সাথে তার বাঁধ অপসারনের বিষয়ে কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তারা রাজিহার ও গৈলা খালের মুখের বাঁধ অপসারণ করা হবে।

নির্বাচিত সংবাদ