ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১

সিঙ্গাপুরে আন্তর্জাতিক হকি আসরে অংশ নেয়ার আগে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ যুব মহিলা দলের পরীক্ষা

প্রকাশিত: ০৬:৪৪, ১৯ আগস্ট ২০১৯

সিঙ্গাপুরে আন্তর্জাতিক হকি আসরে অংশ নেয়ার আগে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ যুব মহিলা দলের পরীক্ষা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আগামী ৯-১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হবে যুব (অ-২১) মহিলা এএইচএফ কাপ হকি প্রতিযোগিতা। এই আসরে অংশ নেবে বাংলাদেশ। গত ৮ জুলাই থেকে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন (বাহফে) দলগঠনের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শুরু করে। যাতে ডাক পেয়েছিলেন ৬১ খেলোয়াড়। পরে তা নেমে আসে ২৬ জনে। তাদের বয়সও বেশি নয়; ১৪ থেকে ১৯-এর মধ্যে। এখান থেকে আরও কিছুটা কাঁটছাঁট করা হবে। তারপরই দলটি পরিণত হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম জাতীয় নারী হকি দলে। দেশের বাইরে প্রথম এই টুর্নামেন্টে অংশ নেয়ার আগে ভারতের জাতীয় নারী হকি একাডেমি দলের সঙ্গে ছয়টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশের নারীরা। স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার অধীনস্থ এই একাডেমি দলটি সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকায় আসে। ৬ ম্যাচের প্রস্তুতি সিরিজটি ২০ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে চলবে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত। সিরিজের সবকটি ম্যাচ হবে অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ২০, ২২, ২৩, ২৫, ২৬ ও ২৮ তারিখে। ১, ২, ৪ ও ৬ নম্বর ম্যাচগুলো শুরু হবে বিকেল ৪টায়। তৃতীয় ও পঞ্চম ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়। প্রথম তিন ম্যাচের পরই অ-২১ নারী হকি টুর্নামেন্টের জন্য চ‚ড়ান্ত দল ঘোষণা করবে বাহফে। তখন দলের খেলোয়াড়ের সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ১৮-তে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ নারী হকি দলের খন্ডকালীন উপদেষ্টা কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছেন ভারতীয় প্রবীণ কোচ অজয় কুমার বানসাল। ৬০ বছর বয়সী বানসাল ভারতের অন্যতম অভিজ্ঞ হকি কোচ। তিনি ভারতীয় কোচদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘দ্রোণাচার্য’ খেতাবধারী। কাজ করেছেন ভারত জাতীয় হকি দল ও নারী দলের সঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন ভারতীয় হকি ডেভেলপমেন্টের সঙ্গে। তার সঙ্গে বাংলাদেশের অনেক পুরনো সম্পর্ক। সেটা প্রায় ২০ বছরের। এবার তার মূল লক্ষ্য থাকবে সিঙ্গাপুরগামী নারী দলকে প্রস্তুত করা। পেশাগত কারণে আপাতত ১৫ দিনের জন্য তিনি ঢাকায় আসলেও বাহফে চেষ্টা করছে তার মেয়াদ আরও বাড়াতে, যাতে অ-২১ পুরুষ দলকেও যথেষ্ট সময় দিতে পারেন তিনি। উল্লেখ্য, ওমেন্স জুনিয়র (অ-২১) এএইচএফ কাপের ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হংকং চায়না, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা। ‘এ’ গ্রুপে লড়বে চাইনিজ তাইপে, সিঙ্গাপুর এবং উজবেকিস্তান। টুর্নামেন্টের সেরা দুই দল নারীদের জুনিয়র এশিয়া কাপে খেলার সুযোগ পাবে। ভারতের জাতীয় নারী হকি একাডেমি দলের সঙ্গে ছয় ম্যাচ সিরিজ খেলা উপলক্ষ্যে সোমবার হকি ফেডারেশনের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত বাহফের সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ শিকদার বলেন, ‘আমাদের মেয়েরা সিঙ্গাপুরে গিয়ে এই প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে। তারা কখনও ফ্লাডলাইটে খেলেনি। এই মেয়েরা যেন দু-একটি টুর্নামেন্ট খেলেই হারিয়ে না যায়, সেজন্য আমরা তাদের দীর্ঘমেয়াদের জন্য ক্যাম্পে রেখে অনুশীল করাবো।’ বানসাল বলেন, ‘চার দিন ধরে হলো বাংলাদেশে এসেছি। আসার আগে ভেবেছিলাম মেয়েদের দলটা তেমন ভাল হবে না। কিন্তু ওদের সঙ্গে কাজ করে আমার ধারণা আমূল পাল্টে গেছে। ওরা তো অনেক মেধাবী। এখন ওদের শুধু দরকার নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং সুযোগ-সুবিধা দেয়া।’ বানসাল আরও যোগ করেন, ‘আমিই ভারতের দলটাকে ঢাকায় খেলার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এই দলটি অনেক শক্তিশালী। কদিন আগেই তারা কেনিয়া গিয়ে সিরিজ খেলে এসেছে। দলের ৪-৫ খেলোয়াড় জাপানে একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলতে গেছে। দলের বাকিরা সবাই আসবে। বাংলাদেশের মেয়েরা এই সিরিজ জিতে যাবে, এখনই ওদের কাছ থেকে এমন ধরনের প্রত্যাশা না করাই ভালো। কারণ দলটা নবীন ও অনভিজ্ঞ। তবে তাদের ইতিবাচক দিক হলো খুব দ্রুত তারা শিখতে পারে। ওরা একসঙ্গে দীর্ঘদিন ক্যাম্পে করলে আগামীতে অনেকদূর যাবে। মেয়েদের জন্য এটা ভাল একটা সুযোগ।’ দলের কোচ হেদায়েতুল ইসলাম রাজীব বলেন, ‘আমাদের মেয়েদের শেখার আগ্রহ প্রবল। এটা আমার নজর কেড়েছে।’ দলের খেলোয়াড় এবং সেন্টার ফরোয়ার্ড সাদিয়া খানম বলেন, ‘এই সিরিজে আমাদের লক্ষ্য থাকবে কমপক্ষে ২-৩টা ম্যাচ জেতা।’ একটি দেশের পুরুষ জাতীয় দলের পাশাপাশি যদি মহিলা হকি দল থাকে তাহলে আন্তর্জাতিক হকি র্যাং কিংয়ে রেটিংয়ে অতিরিক্ত কিছু বোনাস পয়েন্ট পাওয়া যায়। এছাড়া মহিলা হকি দল গঠন করতে পারলে এফআইএইচ থেকে বাহফে অনেক বিশেষ অনুদানও পেতে পারে। তখন এই চিন্তা থেকেই মূলত বাহফে জাতীয় মহিলা হকি দল গঠনের পরিকল্পনা করে। ২০১৬ সাল এ লক্ষ্যে বেশকিছু খেলোয়াড় বাছাই করে গঠন করা হয় জাতীয় দলের ক্যাম্প। ২০১৮ সালের নভেম্বরে ভারতের কলকাতা এ্যাথলেটিক ওয়ারিওর্সের বিপক্ষে তিন ম্যাচের দু’টিতে জিতে সিরিজ জয় করে নতুন ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশের নারীরা। যদিও তারা খেলে ‘ঢাকা একাদশ’ নামে। ১৯৭৬ সাল। গঠিত হয়েছিল ওম্যান্স উইং হকি দল। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে মেয়েদের প্রথম কোন হকি দল। সে দলে ছিলেন লাভলী, পুতুল, খুকী, হামিদা, মিউরেল, নাসিমা, কস্তরী, শাকিলা, ডলি ক্রুজসহ আরও অনেকে। তাঁদের সময়ে অনেক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ঢাকায় মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে ঘাসের মাঠে গড়িয়েছিল হকি প্রতিযোগিতা। চলেছিল ১৯৮১ পর্যন্ত। খেলোয়াড়রা নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় গিয়ে মহিলা হকির প্রীতি ম্যাচ খেলতেন। মজার ব্যাপার-তারা অনুশীলন করতেন জাতীয় দলের পুরুষ খেলোয়াড়দের সঙ্গে! ২০১২ সালের মে মাসে দীর্ঘ ৩০ বছর পর আবারও মাঠে গড়িয়েছিল জাতীয় মহিলা হকির তৃতীয় আসর। এরপর আরও কয়েকটি আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর থেকেই মহিলা হকি নিয়ে ক্রীড়াপ্রেমীরা প্রশ্ন তুলেছিলেন-আজ পর্যন্ত কেন জাতীয় মহিলা হকি দল গঠন করা হয়নি!
×