১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২২ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুনর্বাসন শুরু হতে পারে মিয়ানমারে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ৮ আগস্ট প্রায় সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গার তালিকা জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের সংস্থাটির চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, রাখাইনে স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার বিষয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব ইউএনএইচসিআরের। উল্লেখ্য, এর আগেও একবার ২০১৮ সালের ১৫ নবেম্বর প্রত্যাবাসনের তারিখ ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। কিন্তু সেই সময়ে রোহিঙ্গারা যেতে রাজি না হওয়ায় ভেস্তে যায় এই পরিকল্পনা। এদিকে এবারও যাতে রোহিঙ্গারা সে দেশে না যেতে পারে সে জন্য তাদের শিবিরগুলোতে রীতিমতো উস্কানি দিচ্ছে কিছু এনজিওসহ কয়েকটি গ্রুপ। এ জন্য রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে বিদ্রোহী গ্রুপগুলো কর্তৃক সশস্ত্র মহড়ার খবরও আছে, যা আন্তর্জাতিক আইনে রীতিমতো অপরাধ হিসেবে পরিগণিত। এক শ্রেণীর রোহিঙ্গা শরণার্থী ও অনুপ্রবেশকারী যেমন শরণার্থী আইন মানছে না, তেমনি কিছু স্বার্থান্বেষী এনজিও তোয়াক্কা করছে না দেশের প্রচলিত আইনের। সরকার বরাবরই এই স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হুঁঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। এহেন বাস্তবতায় রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে জরুরীভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম চালানো অপরিহার্য, যাতে সেখানে প্রত্যাবাসন নিয়ে কোন বিঘ্ন না ঘটে। ছোট পরিসরে হলেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়া জরুরী। কেননা মিয়ানমারে ফিরে গেলেই প্রকৃতপক্ষে বোঝা যাবে যে, সে দেশের সরকার রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক পুনর্বাসনে কতটা আন্তরিক ও সচেষ্ট। মনে রাখতে হবে যে, এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াও মূলত শুরু হতে যাচ্ছে গত জুলাইয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওআইসি তথা ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার ১৪তম সম্মেলনে এশীয় গ্রুপের পক্ষে ভাষণ দিতে গিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুটি তুলে ধরেন। বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়প্রাপ্ত ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার মিয়ানমারে সম্মানজনক পুনর্বাসনে তিনি ওআইসির সহযোগিতা কামনা করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সদর দফতরে রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা-সঙ্কট সমাধানে তিন দফা প্রস্তাব বা সুপারিশ উপস্থাপন করেন। প্রথমত, মিয়ানমারকে অবশ্যই বৈষম্যমূলক আইন ও নীতি বিলোপ এবং রোহিঙ্গাদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধ করে সে দেশ থেকে বাস্তুচ্যুত করার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সব রোহিঙ্গাকে নাগরিকত্ব দেয়ার সঠিক উপায়, নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। তৃতীয়ত, রোহিঙ্গাদের প্রতি নির্যাতন-নিপীড়ন রোধে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের জবাবদিহি, বিচার, বিশেষ করে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানী মিশনের সুপারিশের আলোকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। আর তা হলেই কেবল সব রোহিঙ্গার নিরাপদে প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন নিশ্চিত হবে মিয়ানমারে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাহায্য-সহযোগিতা অবশ্যই কাম্য। রাশিয়া ও চীনের সমর্থনও প্রত্যাশিত বৈকি। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সর্বাত্মক চাপ সৃষ্টি এখন সময়ের দাবি।

নির্বাচিত সংবাদ