১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডেঙ্গু মোবাইল এ্যাপ

সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী এডিস মশার মরণ কামড় থেকে রেহাই পেতে যে অভিযান শুরু হয়েছে, তার সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তির বিশেষ ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থাপনায় মোবাইল এ্যাপের মাধ্যমে এডিস মশার প্রজনন স্থান থেকে শুরু করে আক্রান্ত জায়গাসমূহ চিহ্নিত করা যাবে। সেভাবে প্রতিরোধেরও প্রক্রিয়া সমন্বিত করতে সরকার ‘স্টপ ডেঙ্গু’ নামে এই বিশেষ অনলাইনভিত্তিক মশক চিহ্নিতকরণ কার্যক্রমের পদক্ষেপ শুরু করেছে। এই এ্যাপের মাধ্যমে দেশের যে কোন স্থানে এডিস মশাকে শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিধন করাও সহজতর হবে। এই বিশেষ মোবাইল এ্যাপটি উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে জাতীয় স্কাউট ভবনে এমন মহৎ ও বড় কর্মযোগের আয়োজন করা হয়। পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সঙ্গে জননিরাপত্তার যে যোগসাজশ তাতে ক্ষতিকর পরিবেশ বিনষ্টকারী সব ধরনের বর্জ্যই শুধু নয়, তার চেয়েও বেশি সারাদেশে ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়ারও এক বলিষ্ঠ কর্মোদ্যোগ। সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিও নতুন এই কর্মসূচীর অন্যতম সংযোগ। প্রথম শুরু হওয়া এই অনলাইনভিত্তিক মোবাইল এ্যাপ সরকারের পাঁচটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং চারটি সংস্থা একত্রে তাদের দায়িত্ব পালন করবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে এই বিশেষ ব্যবস্থাটি অচিরেই সারাদেশে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে একটি নিরাপদ, বাসযোগ্য, বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সময়োপযোগী অবদান রাখবে। দুদক ও বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান কমিশনার ড. মোজাম্মেল খানও অভিমত ব্যক্ত করেন, উন্নত দেশের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সব ধরনের বিপন্ন অবস্থা থেকে বের করে আনা সম্ভব হবে। বিশ্বের অগ্রসরমান দেশগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এই এ্যাপের মাধ্যমে বাংলাদেশেও প্রয়োগ করা হবে। নতুন এই স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ প্রযুক্তি সারাদেশে ডেঙ্গু রোগের প্রজনন ক্ষেত্র, রোগীর সংখ্যাই শুধু নয়, বিশেষ বিশেষ জায়গা চিহ্নিত করতেও সক্ষম। সেভাবে সিটি কর্পোরেশন এবং স্থানীয় সরকার একটি নির্দিষ্ট কার্যক্রমের আওতায় তাদের অভিযান পরিচালনা করে এই মারাত্মক জীবাণুবাহী এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্রকে বিনাশ করতে মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।

এ তো গেল সরকারী ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রযুক্তির আধুনিক কর্মপ্রক্রিয়া। একে বিশেষভাবে আমলে নিয়েও বলা যায় ব্যক্তিসচেতনতাকে সর্বাত্মক গুরুত্ব দেয়াও বাঞ্ছনীয়। পরিষ্কার পানিতে প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি করা এই প্রাণঘাতী এডিস ঘরের আশপাশেই আস্তানা তৈরি করে। প্রতিটি গৃহের সচেতন নাগরিক নিজ উদ্যোগে নিরাপদ স্থান তৈরি করতে কার্যকরী ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হলে সরকারী সফল অভিযানও আলোর মুখ দেখতে অনেক সময় নিতে পারে। সরকার এবং জনগণের মিলিত কর্মপ্রচেষ্টায় ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ থেকে রাজধানীসহ সারাদেশ বের হয়ে আসবে। তবে এই কার্যক্রম কোন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আটকে থাকলে নতুন করে বিপন্ন পরিস্থিতি আবারও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে যাবে। সুতরাং সারা বছরই মশা নিধনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরী। কারণ শুধু এডিস মশাই নয়, ম্যালেরিয়ার জীবাণু বহনকারী অন্যান্য মশাও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকির কারণ হতে পারে। তাই সব সময়ই সবারই এ বিষয়ে সচেতন থাকা একান্ত আবশ্যক।

নির্বাচিত সংবাদ