১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মৃত্যুঝুঁকিতে বসবাস ॥ পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল গুদাম, প্লাস্টিক কারখানা সরেনি

মৃত্যুঝুঁকিতে বসবাস ॥ পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল  গুদাম, প্লাস্টিক কারখানা  সরেনি
  • গুদামের সংখ্যা ২৫ হাজার ;###;দুর্ঘটনার পর চলে তোড়জোড়- কিন্তু ফল শূন্যই

নিয়াজ আহমেদ লাবু ॥ অগ্নিকান্ডে এত প্রাণ ঝড়লেও পুরান ঢাকা থেকে সরেনি কেমিক্যাল গুদাম ও প্লাস্টিক কারখানা। এ নিয়ে অনেক ঘোষণা ও আশ্বাসের পরও লালবাগ, চকবাজার, হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচর, বংশাল, কোতোয়ালি, শ্যামপুর ও কদমতলী এই আট থানার লাখ লাখ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। এখানকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, আগুন জ্বলে, ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভায়। এরপর কিছুদিন তোড়জোড় চলে। এরপর আবার অদৃশ্য কারণে সব বন্ধ হয়ে যায়। আবার চলা শুরু করে আগের মতোই। দেখার কেউ নেই।

নিমতলীতে ২০১০ সালের ৩ জুন এক ভয়াবহ অগিকান্ডে ১২৪ জনের মৃত্যু হয়। চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চকবাজার চুড়িহাট্টার ওয়াহিদ ম্যানশনের ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৭১ জন নিহত হয়। আহত হয় শতাধিক মানুষ। সপ্তাহ খানেক আগেও ইসলামবাগে প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকান্ড ঘটেছে। ঈদের ছুটির কারণে শ্রমিকরা না থাকায় সেখানে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। নিমতলী ও চুড়িহাট্টার আগুনে অনেক পরিবারের কেউই বেঁচে নেই। অনেকে এতিম হয়েছে। অনেকে পঙ্গু হয়েছে। অগ্নিকান্ডের মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন তারা। ঘনবসতিপূর্ণ পুরান ঢাকার আট থানার বিভিন্ন এলাকায় অলিগলিতে কেমিক্যালের শত শত কারখানা ও গুদাম রয়েছে। এসব এলাকায় একটি বাড়িও খুঁজে পাওয়া যাবে না। যেখানে কেমিক্যাল নেই। সরু অলিতে-গলিতে একতলা, দোতলা, তিনতলা, চারতলায় বাড়ির নিচে কেমিক্যাল কারখানা ও গোডাউন। আবার কোথাও কেমিক্যালের কারখানার পাশাপাশি প্লাস্টিক কারখানাও গড়ে উঠেছে। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে কেমিক্যাল পল্লী স্থাপন করে পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল গুদাম, কারখানা ও দোকান স্থানান্তর করা হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। এখনও সেই জমি অধিগ্রহণই হয়নি। আর কত দিনে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে কেউ জানে না। এজন্য আর কত মানুষের প্রাণ দিতে হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) ২০১৭ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, পুরান ঢাকায় রয়েছে ২৫ হাজার কেমিক্যাল গোডাউন বা রাসায়নিক দাহ্য বস্তুর গুদাম। এসবের মধ্যে ১৫ হাজার আছে খোদ বাসা-বাড়িতেই। মাত্র আড়াই হাজার গুদামকে ট্রেড লাইসেন্স দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। বাকি ২২ হাজারের বেশি গুদামই অবৈধ। ২০০ ধরনের ক্ষতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিকের ব্যবসা চলে এখানে। পুরান ঢাকার আট থানা এলাকায় এসব গুদামে রয়েছে গ্লিসারিন, সোডিয়াম এ্যানহাইড্রোস, সোডিয়াম থায়োসালফেট, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, মিথাইল ইথাইল কাইটন, থিনার, আইসেপ্রোইলসহ ভয়ঙ্কর রাসায়নিক দাহ্য পদার্থ। এসব রাসায়নিক সামান্য আগুনের স্পর্শ পেলেই ঘটতে পারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা। ফলে পুরান ঢাকার মানুষ মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েই বসবাস করছেন। গত কয়েক বছরে রাসায়নিক সংশ্লিষ্ট কারণে রাজধানীতে যত অগ্নিকান্ড ঘটেছে। তার সব কটিই ঘটেছে পুরান ঢাকায়। এসব আগুনে মারাও যাচ্ছে মানুষ। এখানকার ১১টি ওয়ার্ডের ২৪ হাজার বাড়ি ঘরের ওপর সমীক্ষা করে দেখা গেছে, অধিকাংশেরই রাজউকের অনুমোদন নেই। বুয়েটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৮০ শতাংশ ভবনেই রয়েছে কেমিক্যালের মজুদ।

নিমতলী অগ্নিকান্ডের ঘটনা ২০১০ সালের ৩ জুন। এতে মুত্যুবরণ করেছে ১২৪ জন। একটি স্টোভ থেকে যেই ভবনে আগুন লাগে। সেই ভবনের নিচে কেমিক্যাল ও দাহ্য পর্যায়ের বিপুল মজুদ ছিল। স্টোভের আগুন কেমিক্যাল ও দাহ্য পদার্থের সংস্পর্শে এলে আগুন ভয়ঙ্কর রূপ লাভ করে। অগ্নিকান্ডে ১২৪ জনের মৃত্যু ছাড়াও বহু লোক অগ্নিদগ্ধ হয়ে আহত হয়। চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটে চকবাজার চুড়িহাট্টার ওয়াহিদ ম্যানশনে। প্রাণ হারায় ৭১ জন। আহত হয় শতাধিক মানুষ। সে পুড়ে যাওয়া ভবনটির নিচে যে পরিমাণ কেমিক্যালের মজুদ পাওয়া গেছে, সেখান পর্যন্ত আগুন পৌঁছলে ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারত। এমনকি ভবনটি উড়ে যেতে পারত। ওই ঘটনার আগের মাসেও লালবাগের পশ্চিম ইসলামবাগের বাগানবাড়ি এলাকার একটি প্লাস্টিক কারখানায় ঘটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড। আগুনে কয়েকটি ছোট গুদাম ও ১২-১৪টি বসতঘর পুড়ে গেছে। গত বছরের ২৪ আগস্ট ইসলামবাগের আলীর ঘাট এলাকার একটি প্লাস্টিক কারখানায় লাগা আগুনে ৮ থেকে ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়। এরপর আরও তিনটি ছোট-মাঝারি আগুনের ঘটনা ঘটেছে লালবাগে। সর্বশেষ ১৪ আগস্ট রাতে ইসলামবাগে একটি চারতলা বাড়ির নিচ তলায় প্লাস্টিক কারখানায় আগুনের সূত্রপাত ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, ওই কারখানাটি যদি চালু অবস্থায় থাকত তাহলে হতাহত হওয়ার সম্ভবনা ছিল। কারণ এই কারখানাতেও চুড়িহাট্টার মতো প্লাস্টিক তৈরির উপাদান ছিল। যা আগুনে জ্বলে ও আগুনের ভয়াবহতা বাড়ায়। ওই কারখানাটিতে প্লাস্টিকের জুতা, প্লাস্টিকের খেলনা তৈরি হতো। ওপরে ছিল গোডাউন, নিচে কারখানা। ওই প্লাস্টিকের আগুনে দুই তলা ভবনটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আবাসিক এলাকা হলেও গলিপথ সরু। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢোকার মতো জায়গা নেই। নেই পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের ব্যবস্থাও। চোখে পড়েনি একটা ফায়ার হাইড্রেন্টও (অগ্নিনির্বাপণ কাজে ব্যবহৃত বিশেষ পানিকল)। ওই এলাকার বাসিন্দারা জানান, এই এলাকায় ব্যবসা করি। কিন্তু আমার এখানে কারখানা-গুদাম তৈরি ও পরিচালনায় জোর আপত্তি আছে। কারণ আমরাই এখানে থাকি। আমাদেরও বাচ্চারা এখানে বেড়ে ওঠে। প্লাস্টিকের একটি কারখানা পুড়ল। কিন্তু এখানে আরও ৩০-৩৫টি প্লাস্টিকসহ অন্যান্য কারখানা আছে। দাহ্য পদার্থও রয়েছে। তাহলে এভাবেই ঝুঁকির মধ্যেই বসবাস করতে থাকব আমরা? ওই এলাকার আরেক ব্যবসায়ী বাসিন্দা সোবহান মিয়া জানান, আজ আগুনে একটি কারখানা পুড়ল। কাল হয়ত অন্য কোথাও লাগবে। এই লাগার পরেই আবাসিক এলাকা থেকে কারখানা উঠিয়ে দেয়ার তোড়জোড় করে সিটি কর্পোরেশন। এরপর কয়েকদিন বাদেই সব গুটিয়ে যায়। ফের আগুন লাগে ফের তোড়জোড় শুরু হয়। নিমতলী থেকে চুড়িহাট্টা এই দেখে আসছি আমরা। এখানেই ব্যতিক্রম হবে বলে মনে হয় না। কারণ আমাদের প্রতিবাদে কোন কাজ হয়নি। এই আগুনই প্রমাণ করেছে যে, এখানে কারখানা আছে। অভিযোগ রয়েছে, পুরান ঢাকার বাড়িঘর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যথাযথ অনুমোদন নেয়া হয় না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, নিমতলী ট্রাজেডির পর হাইকোর্ট একটি রুল ও নির্দেশনা প্রদান করে। নিমতলীর অগ্নিকা-ের কারণ শনাক্ত করে তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করতে বলে। একই সঙ্গে একটি টাস্কফোর্সের মাধ্যমে কেমিক্যাল বা দাহ্য পদার্থের গুদাম, কারখানা ও দোকান খুঁজে বের করে তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দানের নির্দেশনা দেয়। বিস্ময়কর হলেও সত্য, সরকার হাইকোর্টের এই রুল ও নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোন গরজই দেখায়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে তখন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ফায়ার ব্রিগেড ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকেও অন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিটিতে বেশ কিছু সুপারিশ পেশ করে। ওই সুপারিশের প্রথম দফায় ছিল পুরান ঢাকাসহ আবাসিক এলাকাগুলো থেকে কেমিক্যাল গুদাম, কারখানা ও দোকান সরিয়ে দিতে হবে। অন্যান্য সুপারিশের মধ্যে ছিল পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশের সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে সুনির্দিষ্ট নক্সা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ ও অগ্নি নির্বাপণের ব্যবস্থা করতে হবে। কেমিক্যাল বা এসিড জাতীয় দাহ্য পদার্থ বিক্রির দোকান ও বিক্রির লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্ক হতে হবে। এসব দাহ্য পদার্থ বিক্রি ও রক্ষণাবেক্ষণে পৃথক শিল্প এলাকা স্থাপন করতে হবে। এছাড়া অগ্নি বিস্তার রোধে ওয়াসার লাইনে ফায়ার সার্ভিসের জন্য হাইড্রেন্ট পয়েন্ট রাখা, সম্ভাব্য দুর্ঘটনা রোধে প্রতিমাসে একবার ট্রান্সফরমার পরীক্ষা করা, সব ধরনের দুর্ঘটনা মোকাবেলায় জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন, অগ্নিকাণ্ড সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ইত্যাদি সুপারিশে ছিল। এত বছরেও এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি। জানা গেছে, ২০১১ সালের ২০ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকা থেকে অবৈধ রাসায়নিক কারখানা ও গুদামগুলো কেরানীগঞ্জে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে কেরানীগঞ্জ জমি না পাওয়া মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে তুলসিখালী জমি পাওয়া যায়। নিমতলীর ঘটনার পর ৩৮টি সুপারিশ দেয়া হয়েছিল। সেগুলোর কয়টা বাস্তবায়ন হয়েছে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এসব দাহ্য পদার্থ সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। আবার ফিরে এসেছে। প্রশ্ন হলো, ফিরে যেন না আসতে পারে সেটা দেখবে কে?

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার জনকণ্ঠকে জানান, পুরান ঢাকার আট থানা এলাকায় ছোট-বড় সব কেমিক্যাল কারখানা ও গোডাউনের আগে দেয়া সব ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছি। এমনকি কেমিক্যালের কোন লাইসেন্স দেয়া বন্ধ করা হয়েছে। এরপরও তারা আইন অমান্য করে অবৈধভাবেই ব্যবসা চালাচ্ছেন। চুড়িহাট্টায় অগ্নিকা-ের পর কয়েকদফা কেমিক্যাল গোডাউনগুলো অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। এসব কারখানা সরাতে আমরা বারবার প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছে চিঠি থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেছি। কিন্তু ব্যবসায়ীরা এখান থেকে সরছেন না। বিস্ফোরক অধিদফতরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, আমরা পেট্রোলিয়াম জাতীয় দ্রব্যের অনুমোদন দেই। পুরান ঢাকায় আমাদের অনুমোদিত কোন গুদাম নেই। যেগুলো আছে সেগুলো সবই অবৈধ। মাঝে মধ্যেই সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন সেখানে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান চালাচ্ছে। অবৈধ গুদামগুলো সিলগালা করা হচ্ছে, জরিমানা করা হচ্ছে। অনেককে জেলেও পাঠানো হচ্ছে। আমরা সহযোগিতা করি। পুরান ঢাকার বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে ঘুরে দেখা গেছে, অনেক আবাসিক ভবনের নিচতলার পার্কিং স্পেস ব্যবহৃত হচ্ছে রাসায়নিক গুদাম হিসেবে। কিছু বাড়িতে রাসায়নিক পণ্যের কারখানাও আছে। প্রকাশ্যে এসব গুদাম থেকে কেমিক্যাল আনা-নেয়া করছে ব্যবসায়ীরা। সবার চোখের সামনে এই ঘটনাগুলো ঘটলেও দেখার কেউ নেই।

সর্বশেষ গত ১৪ আগস্ট রাতে লালবাগ ইসলামবাগের প্লাস্টিক কারখানায় আগুনের সূত্রপাত ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, ওই কারখানাটি যদি চালু অবস্থায় থাকত তাহলে হতাহত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কারণ এই কারখানাতেও চুড়িহাট্টার মতো প্লাস্টিক তৈরির উপাদান ছিল। যা আগুনে জ্বলে ও আগুনের ভয়াবহতা বাড়ায়। ওই কারখানাটিতে প্লাস্টিকের জুতা, প্লাস্টিকের খেলনা তৈরি হতো। ওপরে ছিল গোডাউন, নিচে কারখানা। ওইদিন রাতের আগুনে দুই তলা ভবনটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আবাসিক এলাকা হলেও গলিপথ সরু। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢোকার মতো স্পেস নেই। নেই পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের ব্যবস্থাও। চোখে পড়েনি একটা ফায়ার হাইড্রেন্টও (অগ্নি নির্বাপণ কাজে ব্যবহৃত বিশেষ পানিকল)।

কেমিক্যাল পল্লী ॥ মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে তুলসিখালী ব্রিজ সংলগ্ন গোয়ালিয়া, চিত্রকুট ও কামারকান্দা মোজায় ৩১০ একর জমির ওপর কেমিক্যাল পল্লী করবে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)। এজন্য ১ হাজার ৬৪৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে সংশোধন করা হচ্ছে ‘বিসিক কেমিক্যাল পল্লী প্রকল্পটি। প্রক্রিয়াকরণ শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। বিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোসলেহ উদ্দিন জনকণ্ঠকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষা। এ ব্যাপারে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য শামীমা নারগিস জানান, গত ৩১ মার্চ প্রথম সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বেশকিছু সুপারিশ করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখনও সংশোধিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে আসেনি। হাতে পেলেই পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, পুরান ঢাকাকে নিরাপদে সরকার কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে কেমিক্যাল পল্লীতে ২ হাজার ১৫৪ প্লট তৈরি করা হবে। ফলে ঢাকা মহানগরীর বিশেষ করে পুরান ঢাকার কেমিক্যাল কারখানা ও গোডাউনগুলো একটি পরিবেশবান্ধব এবং অপেক্ষাকৃত কম জনবহুল স্থানে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে। এজন্য সকল প্রকার অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি কেমিক্যাল পল্লী গড়ে তোলা হচ্ছে। যেখানে প্রায় ২০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) অবদান রাখবে।

এই মাত্রা পাওয়া