১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মন্ত্রিসভায় ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতিমালা’ অনুমোদন

 মন্ত্রিসভায় ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতিমালা’ অনুমোদন
  • দুধ নিয়ে অপপ্রচার একটা ষড়যন্ত্র ॥ প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরের পুষ্টিকর খাবার অন্তর্ভুক্ত করে ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি ২০১৯’ এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া মন্ত্রিসভা তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা তৈরিতে আর্থিক সহায়তায় ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামে কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। পাশাপাশি চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন- ২০১৯ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন পরে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে গুঁড়াদুধের প্রসঙ্গ উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দুধ নিয়ে এই অপপ্রচারে চালানোতে দেশে খামারি ব্যবসা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এটি একটি ষড়যন্ত্র। দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। দেশে যে সব গুঁড়াদুধ আসে তাও পরীক্ষা করা উচিত। তিনি আরও বলেন, সঠিকভাবে পরীক্ষা না করে যারা এ জাতীয় বিভ্রান্তি ছড়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ রিট করে না। এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাকের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিড ডে মিল অনেক জায়গায় পাইলট বেসেজে চালু হয়েছে। এগুলোকে কীভাবে সমন্বিতভাবে সারাদেশে ছড়ানো যায় তার জন্য এই নীতিমালা। এটি বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচী বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। এই কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সেল বা ইউনিট কাজ করবে। কার্যক্রমের পরিধি সম্প্রসারণে প্রয়োজনবোধে প্রাথমিক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচী কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী, স্কুল মিল উপদেষ্টা কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে সরকার মনোনীত উপযুক্ত ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে এই কমিটি কর্মপরিধি, কার্যকারিতা, অর্থায়ন ও মূল্যায়নে কাজ করবে। সরকার মনোনীত বিশিষ্ট ব্যক্তির সভাপতিত্বে এই কমিটির সদস্যদের নির্দিষ্ট মেয়াদে নিয়োগ দেবে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়। স্কুল মিল কর্মসূচীর প্রধান নির্বাহী কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

শফিউল আলম বলেন, স্কুল মিল কর্মসূচীর কার্যক্রমের ধরন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গাইডলাইন সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় শক্তি চাহিদার ক্যালরির ন্যূনতম ৩০ শতাংশ স্কুল মিল থেকে আসা নিশ্চিত করা হবে। যা প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ৩-১২ বছরের ছেলে ও মেয়ে শিশুদের জন্য প্রযোজ্য হবে। অর্ধদিবস স্কুলের ক্ষেত্রে দৈনিক প্রয়োজন অনুপুষ্টিকণার চাহিদা ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নিশ্চিত করা। এছাড়া জাতীয় খাদ্য গ্রহণ নির্দেশিকা অনুযায়ী দৈনিক প্রয়োজনীয় শক্তির ১০-১৫ শতাংশ প্রোটিন থেকে এবং ১৫-৩০ শতাংশ চর্বি থেকে আসা নিশ্চিত করা হবে। ন্যূনতম খাদ্য তালিকার বৈচিত্র্য বিবেচনায় নিয়ে ১০টি খাদ্যগোষ্ঠীর মধ্যে ন্যূনতম চারটি খাদ্যগোষ্ঠী নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের উপ-পরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার সহকারী উপপরিচালক ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার সম্পৃক্ত থাকবেন। এছাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে পার্বত্য জেলা পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের অংশ হিসেবে কর্মসূচীতে সম্পৃক্ত থাকবেন।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে তিন উপজেলার স্কুলে রান্না করা খাবার এবং ১০৪টি উপজেলায় বিস্কুট খাওয়ানো হচ্ছে। ১০৪টির মধ্যে ৯৩টি উপজেলায় সরকার ও ১১ উপজেলায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী অর্থায়ন করছে। তিনি বলেন, এই কর্মসূচীর মাধ্যমে আমরা দেখেছি যে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বেড়েছে। রান্না করে খাবার দিলে ১১ শতাংশ উপস্থিতির হার বাড়বে। শুধু বিস্কুট দিলে উপস্থিতির হার বাড়ে ৬ শতাংশ। কর্মসূচীর আওতাধীন এলাকায় ঝরেপড়ার হার ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং শারীরিক অবস্থারও অনুকূল দেখতে পেয়েছি। রান্না করা খাবার এলাকায় ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং বিস্কুট দেয়া এলাকায় রক্ত স্বল্পতা কমেছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। এই বিবেচনায় জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচী অনুমোদিত হয়েছে মন্ত্রিসভায়। একই বিস্কুট বাচ্চারা খেতে চায় না- খাবারের বৈচিত্র্য বিবেচনায় আমরা বিস্কুট, কলা ও ডিম কমন রাখার চেষ্টা করছি। আর বৃহস্পতিবার অর্ধদিবসে শুধু বিস্কুট রাখব।

‘শুধু বিস্কুট দিলে প্রতিদিন প্রতি শিক্ষার্থীর ৯ টাকা হারে বছরে ২ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা, পাঁচ দিন রান্না করা খাবার ও একদিন বিস্কুট দিলে খরচ হচ্ছে ৫ হাজার ৫৬০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। বিস্কুট এবং ডিম, কলা ও রুটি দিলে ২৫ টাকা হারে খরচ হবে ৭ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা হবে। আমরা সব মডেলে চালাব, যেখানে যেটা প্রযোজ্য হবে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে পরিকল্পনা আছে সব ইউনিয়নে চালাব। ২০২৩ সালের মধ্যে সারাদেশে কাভার করা হবে। সরকারের সঙ্গে স্থানীয় কমিউনিটির সম্পৃক্ততা ছাড়া সফল করা যাবে না। কারণ স্কুলগুলোতে রান্নাঘর করতে হবে। এজন্য পিপিপি মডেলে করতে পারলে সফল হবে। দেশে ৬৬ হাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ১৫ হাজার ৩৪৯ স্কুলের ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে খাওয়ানো হচ্ছে। এতে খরচ হচ্ছে ৪৭৪ কোটি টাকা। প্রকল্প চলবে ২০২০ সাল পর্যন্ত।

স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড কোম্পানি গঠন হচ্ছে ॥ তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা তৈরিতে আর্থিক সহায়তায় ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামে কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের আওতায় ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড’ শীর্ষক কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, দেশে আইসিটি খাতে উদ্যোক্তা তৈরিতে এ কোম্পানি গঠন করা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুমোদিত মূলধন হবে ৫০০ কোটি টাকা, ক্যাপিটাল শেয়ারমূল্য ১০ টাকা। ইনিশিয়ালি পেইডআপ ক্যাপিটাল হিসেবে ২০০ কোটি টাকা নিয়ে যাত্রা শুরু করবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিভিন্ন রকমের আইসিটি প্রোডাক্ট নিজেরা তৈরি করবে, মার্কেটিং করবে। যেমন, আউটসোর্সিং থেকে শুরু করে কোম্পানি উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা দেবে। ব্যাংক লোন পেতে হলে মটগেজ লাগে, কত কিছু লাগবে। এটা লাগবে না। তাদের মাথায় যে আইডিয়া আছে তা থেকে টাকা পাবে। তথ্যপ্রযুক্তি সচিব কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন এবং মোট পরিচালক হবেন সাতজন। কী পরিমাণ ঋণ ও সুদের হার নির্ধারণ করে দেয়া হবে তা এখনও নির্দিষ্ট হয়নি জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কোম্পানি কাজ শুরু করলে তা ঠিক করা হবে।

চাঁদপুরে বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে ॥ চাঁদপুরবাসীর জন্য স্থাপিত হচ্ছে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এজন্য মন্ত্রিসভায় চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৯ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৯’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এ বিশ্ববিদ্যালয় হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, চ্যান্সেলর থাকবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, সিন্ডিকেটের গঠন সম্পর্কে বলা আছে ভাইস চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, ট্রেজারার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি, সরকার কর্তৃক মনোনীত যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি, সরকার কর্তৃক মনোনীত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে একজন প্রতিনিধি এবং চ্যান্সেলর কর্তৃক মনোনীত তিনজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ থাকবেন। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কাউন্সিল যেভাবে হয় এ বিশ্ববিদ্যালয়েও সেভাবে হবে। কোন জায়গায় এ বিশ্ববিদ্যালয়টি হবে, তা জানাতে না পারলেও চাঁদপুর জেলায় এ বিশ্ববিদ্যালয় হবে।

এই মাত্রা পাওয়া