২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘অগ্রণী ব্যাংক পরিবার : মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা’ গ্রন্থের প্রকাশনা

  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধারা। সে কারণেই মুুক্তিযুদ্ধের সময় একজন মুক্তিযোদ্ধার যাপিত প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি ঘটনা, প্রতিটি স্মৃতি ইতিহাসেরই অংশ। তাই প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার যুদ্ধকালীন স্মৃতি সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীবনকথা মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সেই প্রেক্ষাপটে অগ্রণী ব্যাংকে কাজ করেছেন এমন মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধকালীন ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত হলো ‘অগ্রণী ব্যাংক পরিবার : মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা’ শিরোনামের গ্রন্থ। বইটিতে ১৩৮ জন মুক্তিযোদ্ধার যুদ্ধকালীন স্মৃতি লিপিবদ্ধ হয়েছে। বইটি সম্পাদনা করেছেন মোঃ আবু হাসান তালুকদার।

সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে গ্রন্থটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আনিসুর রহমান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোঃ সিরাজুল ইসলাম, অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখ্ত ও মোঃ আনছার আলী খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহম্মদ শামস্-উল ইসলাম।

বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রায় ১০০ জন মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। তাদের প্রত্যেককে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির উদ্দেশে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার প্রতিদিনের ঘটনাপ্রবাহও একেকটি ইতিহাস। তাই মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস লিখতে হলে প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার ব্যক্তিগত ইতিহাসও জানার প্রয়োজন হয়েছে। আশা করি বইটি মুক্তিযুদ্ধেও সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণে অনেক অবদান রাখবে।

জায়েদ বখ্ত বলেন, সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের যে ইতিহাস লেখা হয়েছে তা যথেষ্ট নয়। এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি অনেক মুক্তিযোদ্ধার বীরোচিত সংগ্রামের কথা। লেখা হয়নি মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধকালীন দিনগুলোর কথা। এক্ষেত্রে অগ্রণী ব্যাংকে কাজ করেছেন এমন মুক্তিযোদ্ধাদের সংগ্রামের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা হয়েছে বইটিতে।

মোহম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সার্বিক ও সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ করলে তাদের প্রতি জাতির ঋণ কিছুটা হলেও শোধ হবে। কিন্তু প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার যুদ্ধকালীন স্মৃতি ঘটনাপ্রবাহ লিপিবদ্ধ করা সহজ নয়। আবার অসম্ভবও নয়। আমরা অগ্রণী ব্যাংক ইতিহাস সংরক্ষণে যে উদ্যোগ নিয়েছে আশা করব অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও এভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে এগিয়ে আসবে।

বইটি প্রকাশ করেছে আরপি বাংলা কমিউনিকেশন্স। ৮১৬ পৃষ্ঠার বইটির দাম রাখা হয়েছে এক হাজার টাকা।