১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মণিরামপুরে দুই কিলোমিটার রাস্তা গ্রামবাসীর গলার কাঁটা

মণিরামপুরে দুই কিলোমিটার রাস্তা গ্রামবাসীর গলার কাঁটা

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা গ্রামবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি কাঁদায় ভরে যাওয়ায় চলাচলের একেবারই অনুপযোগী হয়ে পড়ে। চলতে গেলে বুঝায় যায়না এটি ফসলের মাঠ নাকি রাস্তা। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি পাঁকা করণের দাবি এলাকাবাসীর থাকলেও তাদের ডাকে সাড়া দেননি জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কেউ। কয়েকবার মাপামাপি করেই থেমে গেছেন সবাই। ফলে রাস্তাটি এখন গ্রামবাসীর গলার কাঁটা।

উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর ও মাহমুদকাটি গ্রাম দুইটি সংযুক্ত করেছে এই রাস্তাটি। দুই গ্রামবাসী ছাড়াও বিভিন্ন এলাকার মানুষ এই রাস্তায় চলাচল করেন। এই রাস্তা দিয়েই গ্রামবাসী ক্ষেতের ফসল ঘরে তোলেন। শিক্ষার্থীরা স্কুল কলেজে যাতায়াত করে। মাহমুদকাটি গ্রামের জিয়ার বাড়ির সামনে থেকে বিডিআর হোসেনের বাড়ি হয়ে রঘুনাথপুর গ্রামের মজনুর বাড়ি পর্যন্ত দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা বর্ষা মৌসুমে কাঁদায় ভরে যায়। সাইকেল, মোটরসাইকেল বা ভ্যানতো দূরের কথা পায়ে হেঁটেও এই রাস্তায় চলাচল করা যায় না। বর্ষা মৌসুমে গ্রামের কারও বিয়ে হলে দূরে গাড়ি রেখে পায়ে হেঁটে বরযাত্রীদের আসা যাওয়া করতে হয়।

রঘুনাথপুর গ্রামের মরিয়ম খাতুনসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী স্থানীয় টেংরামারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। মরিয়ম জানায়, রাস্তায় যে কাঁদা হইছে তাতে স্কুলে ও প্রাইভেট পড়তে যেতে মন চায় না। অনেক সময় পা পিছলে কাঁদায় বইখাতা নিয়ে পড়ে যেতে হয়। স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয়। ওই গ্রামের কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, রাস্তার কাঁদা দেখলে মনে হয় ক্ষেত পাকিয়ে রাখা হয়েছে। মনে চায় ধানের চারা নিয়ে রোপন করি। তিনি বলেন, কয়েকবার দেখিছি লোকজন এসে রাস্তা মেপে যাচ্ছে। কাজ হতে দেখলাম না। আমাদের দুঃখ কেউ বুঝল না।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বিনোদ রায় বলেন, কয়েকবার মাপামাপি হয়েছে। রাস্তার বেহাল দশা প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য জানেন। তিনি এই রাস্তা পাকা করে দেবেন বলে আমরা আশাবাদী। স্থানীয় ছয় নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মুনসুর আলী বলেন, রাস্তাটার খারাপ অবস্থা জানি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাকা রাস্তা করার সুযোগ নেই। উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিসকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, রাস্তাটি সম্পর্কে আমার জানা নেই। বিষয়টি জেনে পরে বিস্তারিত বলতে পারব ।

নির্বাচিত সংবাদ