১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রিয় নেত্রীকে বাঁচাতে সেদিন জীবন উৎসর্গ করেন সেন্টু

প্রিয় নেত্রীকে বাঁচাতে সেদিন জীবন উৎসর্গ করেন সেন্টু
  • অর্থ নয়, নিহতদের পরিবার চায় বিচার আর শাস্তি

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল ॥ ২০০৪ সালে আজকের দিনে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে দলের সভাপতি (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নৃশংস ও বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা কেড়ে নিয়েছিল ২৪ নেতাকর্মীর প্রাণ। তাদেরই একজন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহসম্পাদক বরিশালের মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রামারপোল গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাক আহমেদ সেন্টু। আকস্মিকভাবে গ্রেনেড হামলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মঞ্চের সামনে দর্শক সারিতে বসা সেন্টু প্রিয় নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) রক্ষা করতে একলাফে মঞ্চে উঠে অন্যদের নিয়ে নেত্রীকে জড়িয়ে থাকেন। ফলে গ্রেনেডের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত সেন্টু মারা যান। এখনও বিচার পাওয়ার আশায় স্বজন হারানোর দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন নিহত সেন্টুর পরিবার। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্থিক সহযোগিতা চান না, তারা নিহতের পরিবারকে সঠিক মূল্যায়নের পাশাপাশি নৃশংস ওই হামলায় জড়িত সকল অপরাধীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি করেছেন।

চার বছর বয়সে বাবাকে হারানো সেন্টুর একমাত্র কন্যা আফসানার কাছে তার বাবার কথা জানতে চাওয়া খুব সহজ ছিল না, তারপরেও যা পাওয়া গেল তা শুধুই চোখের জল। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহত বাবার ¯েœহ-ভালবাসা ছাড়া বড় হয়ে ওঠা আফসানাকে নিয়েই এখন সেন্টুর স্ত্রী আইরিন সুলতানা বেবির জীবন। বিবাহ বার্ষিকীর একদিন আগে স্বামীকে হারানো বেবির স্মৃতিতে আজো সব কিছুই দগদগে।

সেন্টুর স্ত্রী আইরিন সুলতানা বেবি জনকণ্ঠকে বলেন, আমাদের তো কিছুই চাওয়ার নেই। আপা (শেখ হাসিনা) যদি বছরে একবার হলেও বলেন, তোমাদের কোন চিন্তা নেই, আমি তোমাদের পাশে আছি। এতোটুকু সান্ত¡নাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। এর বেশি আর আমাদের কিছুই চাওয়ার নেই।

পাশাপাশি দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়ানো সেন্টুর পরিবারের সদস্যরা চান নৃশংস ওই হামলায় জড়িত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা। তারা মনে করেন, এতে ফিরে পাওয়া যাবে না তাদের হারানো স্বজনকে কিন্তু এ ধরনের নৃশংস হামলার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সম্ভব হবে।

সেদিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নিহতের নিজ এলাকা মুলাদী উপজেলার রামারপোল শহীদ মোস্তাক আহমেদ সেন্টু স্মৃতি সংঘের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং সেন্টুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী রাজিব হোসেন ভূঁইয়া রাজু বলেন, সমাবেশ চলাকালীন সেন্টু ভাইয়ের সঙ্গে আমি মঞ্চের সামনে দর্শক সারিতে বসে নেত্রীর ভাষণ শুনছিলাম। আকস্মিকভাবে গ্রেনেড হামলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেন্টু ভাই প্রিয় নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) রক্ষা করতে এক লাফে মঞ্চে উঠে অন্যদের সঙ্গে নেত্রীকে ঘিরে রাখেন। একপর্যায়ে আমি (রাজু) নিরাপদ আশ্রয়ে যাই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে গ্রেনেডের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত সেন্টু ভাইকে উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে বসে শরীর থেকে গ্রেনেডের স্পিøন্টার বের করতে সেন্টু ভাইকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। অপারেশন চলাকালীন ওইদিন রাত সাড়ে নয়টার দিকে সেন্টু ভাই মারা যায়।

নিহতদের পরিবারের দাবি মামলার রায় দ্রুত কার্যকর হোক ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা, মাদারীপুর থেকে জানান, যেখানে আওয়ামী লীগের মিটিং মিছিল, সেখানেই ছিল লিটন মুন্সীর অবস্থান। সে ছিল যুবলীগের নিবেদিত কর্মী। আর তার টানেই লিটন সেদিন ঢাকায় গিয়ে বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় নির্মমভাবে নিহত হয়। সেই নিহত লিটন মুন্সীর পরিবারের শোক এখনও কাটেনি। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ায় ওই পরিবার এখন ভাল আছে।

আহতরা কাটাচ্ছে দুঃসহ জীবন ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা, কালকিনি থেকে জানান, সেদিক শেখ হাসিনার সমাবেশে বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় নিহতদের পরিবারের সদস্যরা আজও ভাল নেই। এ সব পরিবারের শোক এখনও কাটেনি। আহতরা শরীরে স্পিøন্টার নিয়ে পঙ্গু হয়ে দুঃসহ জীবন-যাপন করছেন। এখনও তাদের সে দিনের নারকীয় স্মৃতি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। দীর্ঘ ১৩ বছর অতিবাহিত হলেও সে দিনের দুঃসহ স্মৃতি আজও কষ্ট দেয় স্বজনদের। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া দশ লাখ টাকার লভ্যাংশে এখন চলছে ওদের সংসার।

কালকিনি উপজেলার কয়ারিয়া ইউনিয়নের রামারপোল গ্রামের নিহত শ্রমিক নেতা নাসির উদ্দিন ছিল আওয়ামী লীগের একজন অন্ধ ভক্ত। তাই আওয়ামী লীগের মিছিল, মিটিং বা সমাবেশ হলে তাকে কেউ বেঁধে রাখতে পারতো না। মিছিল-মিটিং-এর আগে থাকত, স্লোগান দিত। শোষণ আর বঞ্চনার বিরুদ্ধে সেই প্রতিবাদী কণ্ঠ আর শোনা যাবে না।

এই মাত্রা পাওয়া