১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এডিস মশা নিধনে উত্তর সিটিতে চিরুনি অভিযান শুরু

এডিস মশা নিধনে উত্তর সিটিতে চিরুনি অভিযান শুরু
  • দক্ষিণ সিটিতে দেড় মাসে ৫৮ হাজার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১২শ’ বাসায় লার্ভা ধ্বংস

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে দুই সিটি কর্পোরেশন শুরু করেছে বিশেষ অভিযান। মঙ্গলবার ডিএনসিসির চিরুনি অভিযান কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। ভাঙ্গা পা নিয়ে হুইল চেয়ারে বসে চিরুনি অভিযান শুরুতে বিভিন্ন বাড়ি পরিদর্শন করেন তিনি। কোন কোন বাড়িতে লার্ভা খুঁজে পেয়ে লাখ টাকা জরিমানা আদায়ের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতকে নির্দেশ দেন। এদিকে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে গত দেড় মাসে ৫৮ হাজার ৭শ’ ৪৭টি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১২০০ বাসায় মশার লার্ভা ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানান মেয়র।

ডিএনসিসির চিরুনি অভিযান ॥ ডিএনসিসির ১৯নং ওয়ার্ডে ডাঃ ফজলে রাব্বি পার্কে বিশেষ চিরুনি অভিযানের অনুষ্ঠানে আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি বাড়িতে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা যাবেন, সেখানে পরিষ্কার করে দিয়ে আসবেন এবং এডিসের লার্ভা পাওয়া গেলে স্টিকার লাগিয়ে দেয়া হবে। আমরা দেখি দুই বাড়ির মাঝখানে নো-ম্যানস ল্যান্ডে কী অবস্থা। নো-ম্যানস ল্যান্ড সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বে নয়। চিরুনি অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হাই, স্থানীয় কাউন্সিলর মফিজুর রহমান প্রমুখ।

মেয়র বলেন,এই চিরুনি অভিযান যদি করা যেতে পারে অবশ্যই টেকসই হবে। তবে টেকসই করার জন্য এলাকার জনগণকে সচেতন হতে হবে, সম্পৃক্ত হতে হবে। আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডকে ১০ ভাগে ভাগ করে আবার সেটাকে ১০টি সাব ব্লক করে প্রতিটি বাসায় টিম পাঠাচ্ছি। তারা ঘুরে দেখে আসবে এবং পরিষ্কার করে দিয়ে আসবে। আর যে বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাবে সেই বাড়িতে স্টিকার লাগিয়ে দেব। এরপর ১০ দিন পর আবার সেই বাড়িতে যাবে, এরপর যদি সেখানে মশার লার্ভা পাওয়া যায় তাহলে জরিমানা করতে বাধ্য হব। এছাড়া সরকারী বেসরকারী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, নির্মাণাধীন ভবনে এরই মধ্যে জরিমানা করা হচ্ছে।

নগরবাসীর উদ্দেশে আতিকুল ইসলাম বলেন, আপনার বাসার সামনে যেমন পরিষ্কার থাকবে বাসার পেছনে পরিষ্কার থাকতে হবে। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে একা সম্ভব নয়। দুই বাড়ির মাঝখানে ও আঙিনায় যে নো-ম্যানস ল্যান্ড এটিও সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বে নয়। বাড়ির ১০তলা, ৯তলা, ৮তলা ছাদের ওপরে, ব্যালকনিতে, বারান্দায় যত্রতত্র আবর্জনা রেখে দিচ্ছি। যেগুলো থেকে এডিস মশার জন্ম হচ্ছে। এজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। সঙ্গে থাকতে হবে। মেয়র বলেন, ‘আমাদের লোক যাবে আপনার বাসায়, প্রবেশ করতে দিন। আমাদের লোক গিয়ে পরিষ্কার করে দিয়ে আসবে। এরপর সতর্ক করবে। অনুগ্রহ করে আপনাদের বাসায় ঢুকতে দিন। এরপর মেয়র পার্কের পাশেই একটি বাসার ছাদ পরিদর্শন করেন, সেখানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় বাড়ির মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে এক মাসের কারাদ-ের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বাড়ির প্রবেশ গেটে সাবধান লেখা স্টিকার ও লাল গোল সিল মেরে দেন মেয়র। এরপর মেয়র অনলাইন নিউজ পোর্টাল বার্তা টোয়েন্টি ফোরডট কমের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেন। একইসঙ্গে ভবনটি পরিদর্শন শেষে ডেঙ্গুমুক্ত বলে স্বীকৃতি দেন। একইসঙ্গে বার্তা ২৪সহ সকল মিডিয়াকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ করতে এগিয়ে আসতে অনলাইনটির প্রধান শাহ আলমগীরসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ঢাকায় ডেঙ্গু এই প্রথম নয়। ১৯৬৪ সালে ডেঙ্গু হয়েছিল বড় আকারে নয়, তখন শহর ছিল ছোট। তখন এই ডেঙ্গুকে বলা হতো ঢাকা ফিবার। পরে ১৯৯৯ সালে বড় আকারে হলো, এরপর ২০০০ সালে আরও বড় আকারে। তখন আমরা কিছু মানুষ আমি, জুয়েল আইচ, মিতা হক, আতিউর রহমান সব বেরিয়ে পড়লাম। এক হাজার ছাত্র জোগাড় করে যে জায়গায় বেশি রোগী সেখানেই পরিষ্কার করতে শুরু করলাম, আমরা ছাড়ি নাই।

দেড় মাসে ৫৮ হাজার বাড়িতে অভিযান ডিএসসিসির ॥ এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫৮ হাজার ৭শ’ ৪৭টি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১২০০ বাসায় লার্ভা ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র সাঈদ খোকন। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানান মেয়র। মঙ্গলবার বিশ্ব মশক দিবস উপলক্ষে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম এর উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকি করতে এসে মেয়র এসব কথা বলেন।

সাঈদ খোকন বলেন, আপনারা জানেন ডিএসসিসি গত জুলাই মাসের প্রথম থেকেই প্রতিটি বাসায় গিয়ে এডিস মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করার জন্য ওষুধ ছিটাচ্ছে। ১৯ আগস্ট পর্যন্ত আমাদের এই কর্মসূচীর আওতায় ৫৮ হাজার ৭৪৭টি বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কম বেশি ১২শ’ বাসায় এডিস মশার লার্ভার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। সেগুলো ধ্বংস করে দেয়া হয়। এছাড়া, বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায় সেগুলোকে জরিমানা করা হয়েছে। মেয়র বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সরকারের সকল সংস্থা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে আমাদের স্কাউটের একটি টিম রয়েছে। এখন আমাদের প্রতিটি নাগরিক সচেতন, তারা তাদের বাসা, অফিস ও কর্মস্থলে পরিছন্নতা কার্যক্রমে অনেক মনোযোগী।

তিনি আরও বলেন, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং নগরবাসীর সচেতনতা এই দুইয়ের সমন্বয়ে ডিএসসিসি এলাকায় আগামী সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কাজ করছি। আপনারা যদি আমাকে অবস্থা মূল্যায়ন করতে বলেন, তাহলে বলব বিগত কয়েক মাসের তুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়েছে। নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমছে। এছাড়া আশা করছি এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে নতুন ওষুধ কাজ করবে। অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আমাদের হাসপাতালে কিছুটা কমছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ১২৯ জন রোগী, সর্বমোট ভর্তি আছে ৫৩৯ জন। এছাড়া প্রতিদিনই রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ শফিকুল ইসলাম চৌধুরী, পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন, কলামিস্ট আবুল মকসুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এই মাত্রা পাওয়া