১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উত্তম উদ্যোগ

বাংলাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে শিক্ষা দেয়া হয়। কিন্তু কাউকে তো ধরেবেঁধে স্কুলে আনা যায় না। শিশুর অভিভাবকের উপলব্ধি এখানে বড় বিষয়। তবে মানুষ অর্থবিত্তের বিচারে যতই দরিদ্র হোক না কেন তারও আশা থাকে স্বপ্ন থাকে, নিজ সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করার। তারা বিদ্যালয়েও পাঠিয়ে থাকে নিজ সন্তানকে। কিন্তু সন্তানটি বড় হয়ে উঠতে থাকলে তার বিদ্যালয় যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় অনেক ক্ষেত্রে। মেয়ে হলে সংসারের কাজে মাকে সহায়তা করে। ছেলে সন্তান হলে তো কথাই নেই। বাবার সঙ্গে খেতখামার বা দোকান অথবা অন্য কোন শ্রমের কাজে যুক্ত হয়ে যায়। স্কুলে যাওয়া তাদের কাছে অহেতুক সময়ের অপচয় বলে বিবেচিত হয়। বছরের পর বছর বিদ্যালয়ে গিয়ে লেখাপড়া করে টাকা-পয়সা তো পাওয়া যায় না। তার চেয়ে কোন অর্থকরী কাজে লেগে গেলে সংসারে দুটো পয়সা আসে। বাংলাদেশের এই সমাজবাস্তবতাকে আমরা অস্বীকার করতে পারি না। হতদরিদ্র পরিবারের বেলায় এ এক অমোঘ সত্য। কিন্তু ধীরে ধীরে সমাজের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে চলেছে। এখন চরাঞ্চল, নদীভাঙ্গা মানুষ, হাওড়, বাঁওড় ও পাহাড়ী দুর্গম এলাকা ছাড়া ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষের সংখ্যা সমাজে কমে আসছে। তার অর্থও এই নয় যে, এসব পরিবারের সন্তানেরা বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। তবে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে সব শ্রেণীর পরিবারের সন্তানদেরই স্কুলে আনা সম্ভব। স্কুলে আসা সম্ভব হলেও ধরে রাখার ব্যাপারে নিশ্চয়তা মেলে না। সেক্ষেত্রে কী উপায়ে শিশুদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধ করা যায় এ নিয়ে সমাজবিশ্লেষক ও চিন্তকেরা অনেক ভেবেছেন।

বিদ্যালয়ে শিশুরা যদি খিদে পেলে খেতে পায় তাহলে অভিভাকরাও সন্তুষ্ট হন। বিত্তবান ও মধ্যবিত্ত পরিবারের স্কুলগামী সন্তানদেরও টিফিন বক্স দেয়া সাধারণ নিয়ম। শিশুদের খিদে পায় তাড়াতাড়ি। দরিদ্র শিক্ষার্থীরা স্কুলে থাকা অবস্থায় খাবারের অভাবে কষ্ট পেয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে তাদের খাবারের বন্দোবস্ত করতে পারলে একদিকে যেমন বিদ্যালয়ে নিয়মিতভাবে আসার প্রবণতা বাড়বে, অন্যদিকে তেমনি ঝরে পড়ার হারও কমে আসবে। সরকার এ নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছে সীমিত পর্যায়ে হলেও। আগামীতে গোটা দেশেই এ ধরনের কার্যক্রম চলবে, এমন প্রতিশ্রুতি মিলেছে। ২০২৩ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের সব সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক বেলা খাবার দেয়া হবে। খাবার হিসেবে বিস্কুট, রান্না করা খাবার বা ডিম, কলা, বিস্কুট দেয়া হবে। এই ব্যবস্থা রেখে ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি ২০১৯’-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই নীতির খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১০৪টি উপজেলার ১৫,৩৪৯টি বিদ্যালয়ে রান্না করা খাবার অথবা বিস্কুট দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে তিনটি উপজেলায় রান্না করা খাবার এবং বাকিগুলোতে বিস্কুট দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে প্রায় ৬৬ হাজার।

এই উত্তম উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য দিক হলোÑ এতে উন্নয়ন সহযোগী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী সংগঠনসহ অন্যান্য অংশীজন কর্মসূচী গ্রহণ থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সকল স্তরে সম্পৃক্ত হয়ে অর্থায়ন করাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন। আমরা আশা করতে পারি, বিদ্যালয়ে শিশুদের খাবারের ব্যবস্থা চালু হলে একদিন দেশে ঝরে পড়া হ্রাসসহ শিক্ষার হার শতভাগে উন্নীত হবে। তদুপরি পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতিসহ শিক্ষার মানও বাড়বে। দেশের ভবিষ্যত প্রজন্ম আর শিক্ষাবঞ্চিত থাকবে না।

নির্বাচিত সংবাদ