১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হন্ডুরাসের লৌহমানব এখন হীনবল

মধ্য আমেরিকার উত্তরাংশের ত্রিকোণাকার ভূখণ্ডের দেশগুলোর মধ্যে হন্ডুরাসের অবস্থা অতি শোচনীয়। এর নাগরিকরা দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে। পালানোর কারণও আছে। সন্ত্রাসী দলের তাণ্ডবে তারা অতিষ্ঠ। শ্রমের মজুরি অতি সামান্য। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হন্ডুরাসের নাগরিকদের অনেকেই তাদের স্বজনকে সেখানে চলে আসতে বলে। অন্তত খেয়ে-পরে ভালভাবে বাঁচা যাবে। তাই হন্ডুরাসের মানুষ সুযোগ পেলেই যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যায়।

তবে হন্ডুরাসের কিছু থাক আর নাই থাক অন্তত একটা শক্তিশালী নেতৃত্ব আছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট জুয়ান অরল্যান্ডের হার্নান্ডেজ ২০১৪ সাল থেকে ক্ষমতায়। ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার মেধা ও কৌশলও তাঁর ভালভাবেই রপ্ত। প্রথম মেয়াদটিতে তিনি সুনামের সঙ্গে দেশ চালিয়েছেন। তার ক্ষমতায় আসার সময় নরহত্যার হার বিশ্বের মধ্যে সর্বাধিক ছিল হন্ডুরাসে। সেটা তিনি কমিয়ে এসেছেন। কোকেন পাচারের রাশ টেনে ধরেছেন। নতুন কর বসিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন। দুর্নীতিবাজ পুলিশ অফিসারদের বের করে দিয়েছেন। স্কুলে পড়াশোনার সময় বাড়িয়েছেন। বাজেট ঘাটতি কমিয়েছেন। দেশের সঙ্কটগুলো বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করেছেন।

২০১৫ সালে দুর্নীতি কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়। তিনি চাতুর্যের সঙ্গে বিক্ষোভ প্রশমিত করেন। হন্ডুরাসের সংবিধানে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার বিধান না থাকলেও ম্যাকিয়া ভেলির কৌশলের অনুসারী হার্নান্ডেজ সে ব্যবস্থা রহিত করে ২০১৭ সালে পুনর্নির্বাচনের জন্য দাঁড়ান ও ফের বিজয়ী হন। কিন্তু তার নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ ওঠে। শুরু হয় বিক্ষোভ। তিনি দমন-নির্যাতনের আশ্রয় নেন। কয়েক বিক্ষোভকারী মারাও যায়। আর তখন থেকেই সমস্যার সূত্রপাত। জরিপে দেখা যায় তার জনপ্রিয়তা হ্রাস পেতে পেতে শূন্যেরও নিচে নেমে গেছে। নির্বাচনে পরাজিত বামপন্থী। বিরোধী দলের অভিযোগ তাদের কারচুপি করে হারানো হয়েছে। আরও উদ্বেগের ব্যাপার তার নিজ দল মধ্য-দক্ষিণ পন্থী ন্যাশনাল পার্টি (পিএন) তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। ফলে দলটি দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে।

পিএনের অনেক রাজনীতিক মনে করেন যে হার্নান্ডেজ তাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। দলের বেশ কিছু সদস্যকে কারাগারে রাখা হয়েছে। একদা হার্নান্ডেজের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন ব্যবসায়ীরা প্রবৃদ্ধির মন্থরগতি, কর বৃদ্ধি ও দুর্নীতির পুনরুত্থানে অসন্তুষ্ট। মধ্যবিত্ত শ্রেণী করের গুরুভার বোঝায় পিষ্ট। মৌলিক সেবা ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। সেনাবাহিনীর শীর্ষ অফিসাররা হার্নান্ডেজের কট্টর সমর্থক ছিল। নির্বাচনের পর বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে এ্যাটর্নি জেনারেল অভিযোগ করেছেন যে জেনারেলরা সহযোগিতা করছে না। এই অভিযোগের কারণে জেনারেলরা এখন হার্নান্ডেজের ওপর চটেছে। কারণ তাঁরা আশা করেছিল হার্নান্ডেজ তাদের রক্ষা করবে যেমন তারা তাকে রক্ষা করে এসেছে।

আরও কিছু ঘটনা প্রেসিডেন্টকে দুর্বল করে ফেলেছে। ২০১৭ সালে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তার বোন হিলদা মারা যান। যে গুটিকয়েক উপদেষ্টার পরামর্শ হার্নান্ডেজ শুনতেন তিনি ছিলেন তাদের অন্যতম। গত বছর মাদক ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগে তার ভাই টনি যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার হয়ে বিচারের মুখোমুখি যা প্রেসিডেন্টকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। সবকিছু মিলে পরিস্থিতি এখন হার্নান্ডেজের প্রতিকূলে। তাঁর বিরুদ্ধে অসন্তোষ ও বিক্ষোভ যেভাবে বাড়ছে তাতে কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে যে হার্নান্ডেজ হয়ত দ্বিতীয় মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবেন না। শোনা যাচ্ছে বিক্ষুব্ধ জেনারেল ও ব্যবসায়ীরা চাকরিচ্যুত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পাঁয়তারা করছে।

চলমান ডেস্ক

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট