১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চুক্তিহীন ব্রেক্সিটই কি তবে হতে যাচ্ছে?

বরিস জনসন এই অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন যে ব্রেক্সিট চুক্তি হোক আর নাই হোক তিনি ৩১ অক্টোবর তার দেশকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের করে আনবেন। কূটনীতিক সূত্রে জানা গেছে, ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে পুনরালোচনায় বসার কোন ইচ্ছা তার নেই। অর্থাৎ চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট সম্পন্ন করাকে তিনি তার প্রধান কাজ বলে মনে করছেন। তাই যদি হয় তা হলে চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট হওয়ার সম্ভাবনাই এখন সর্বাধিক।

তবে চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিটের ব্যাপারে রাজনীতিকদের মধ্যে দ্বিমত আছে। অনেকে মনে করেন চুক্তি ছাড়াই ব্রিটেনের ইইউ ত্যাগ একেবারেই সঠিক। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপি এমন পদক্ষেপের বিরোধী। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে পার্লামেন্টে এ নিয়ে আলোচনা হওয়াটাই স্বাভাবিক এবং সে আলোচনা উত্তপ্ত হওয়ার কথা। তবে এমন জল্পনাও চলছে যে পার্লামেন্টে এ নিয়ে যাতে আলোচনা না হতে পারে তাই জনসন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পার্লামেন্ট অধিবেশন স্থগিত রাখার চেষ্টা করবেন। তেমন সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় বিভিন্ন দলের এমপিরা জনসনকে এমন পদক্ষেপ গ্রহণে বাধা দেয়ার লক্ষ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা শুরু করে দিয়েছেন। তাদের যুক্তি হলো চুক্তি ছাড়াই ইইউ ত্যাগ ব্রিটেনের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিপর্যয়কর পরিণতি বয়ে আনবে, সীমান্তগুলোতে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে, খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়ে যাবে এবং অত্যাবশ্যক পণ্যের ঘাটতি দেখা দেবে। কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি না থাকলে ব্রিটেনকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ডব্লিউটিওর নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। ব্রিটেনের রফতানি পণ্য ইইউবহির্ভূত অন্যান্য দেশের মতো একইভাবে তল্লাশি করে দেখা হবে এবং একই রকম শুল্ক আরোপিত হবে সেগুলোর ওপর। ইংলিশ চ্যানেলের দুই দিকে পণ্যের সরবরাহ বিপর্যস্ত হবে।

ব্রিটেনের প্রায় ৩০ শতাংশ খাদ্যপণ্য ইইউ দেশগুলো থেকে আসে। ফলে তাজা শাক-সবজি ও ফলের মতো কিছু খাদ্যসামগ্রী আরও দুষ্প্রাপ্য হবে। আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি ও পরিবহনে বিলম্বের কারণে আমদানি পণ্যের দাম বাড়বে। সুপার মার্কেটগুলো নিজেরাই হুঁশিয়ারি দিয়েছে তাদের দোকানের তাকগুলো খালি হয়ে যেতে পারে। সরকার অবশ্য বলেছে খাদ্য ঘাটতি যে হবে সেটা যে শুধু চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের কারণে ঘটবে তা নয়, ক্রেতাদের আচরণের কারণেও হবে। তারা আতঙ্কিত হয়ে হুড়োহুড়ি করে পণ্য কেনা শুরু করতে পারে।

প্রতিবছর ব্রিটেন থেকে লাখ লাখ লোক বিদেশ ভ্রমণে যায় যাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই যায় ইউরোপে। ইউরোপগামীদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট ও ভিসায় এতদিন কোন কড়াকড়ি ছিল না। এখন কড়াকড়ি হবে। পাসপোর্ট ও কাস্টমস তল্লাশি কড়াকড়ি হলে সীমান্তগুলোতে দীর্ঘ বিলম্ব ঘটবে। ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ১৩ লাখ ব্রিটেন ও ব্রিটেনে ৩৭ লাখ ইউরোপীয় আছে। তাদের ভাগ্যে কি ঘটবে এখনও পরিষ্কার না হলেও খুব সম্ভব যে দেশে তারা বাস করছে সে দেশের রেসিডেন্ট হিসেবে তাদের নিবন্ধিত হতে হবে।

ব্রিটেনকে আর ইউরোপীয় বিচারালয়ের রায় মানতে হবে না। তাকে ইইউর বাজেটে বার্ষিক ১৩০ কোটি পাউন্ড স্টার্লিং চাঁদা দিতে হবে না। তবে ব্রিটেন ইইউর কিছু কিছু ভর্তুকি থেকে বঞ্চিত হবে। বেশিরভাগ অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠী মনে করেন চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পরিণতিতে ব্রিটেনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে। এমনকি মন্দাও দেখা দিতে পারে। সম্ভাব্য বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী জনসন দায়িত্ব গ্রহণের এক সপ্তাহ পর বাড়তি ২১০ কোটি পাউন্ড বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার আগে থেরেসা মের সরকার ৪২০ কোটি পাউন্ড বরাদ্দ করেছিলেন। তবে যত ব্যবস্থাই নেয়া হোক না কেন চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের একটি প্রধান বিষয় হলো এর পরিণতিতে ব্রিটেনে জীবন ও কর্মের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দেবে।

চলমান ডেস্ক

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট