১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামে ব্যারিস্টার শাকিলাসহ ৬১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জ গঠন

  • জঙ্গী গ্রুপকে অর্থ সহায়তা

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুটি মামলায় শহীদ হামজা ব্রিগেড নামের জঙ্গী সংগঠনকে অর্থ সহায়তার অভিযোগে মঙ্গলবার ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাসহ ৬১ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন হয়েছে। এর মাধ্যমে আসামিদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলো অভিযোগপত্র জমা দেয়ার সাড়ে তিন বছর পর। অভিযোগ গঠনের সময় অনুপস্থিতির কারণে আইনজীবী শাকিলা ফারজানার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। উল্লেখ করা যেতে পারে আইনজীবী শাকিলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক এবং বিএনপি নেতা ও হুইপ মরহুম ওয়াহিদুল আলমের কন্যা।

ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মনোরঞ্জন দাশ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, হাটহাজারী থানার মামলায় ৩৩ এবং বাঁশখালী থানার মামলায় ২৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি হাটহাজারীতে মাদ্রাসাতুল আবু বক্কর এ জঙ্গীদের তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে সন্দেহজনক ১২ জঙ্গীকে গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে মামলা হওয়ার পর গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাঁশখালীর লটমনি পাহাড়ে জঙ্গী আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখান থেকে গ্রেফতার হয় আরও ৫ জন। উদ্ধার হয় বেশকিছু অস্ত্রশস্ত্র ও প্রশিক্ষণ পোশাকসামগ্রী। ওই ঘটনায় একই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালী থানায় র‌্যাবের পক্ষে একটি সন্ত্রাস ও অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়। এরপর একই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি হালিশহরে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ‘কে ব্লকে’র একটি বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ১৩ এপ্রিল বিপুল অস্ত্রসহ আরও ৪ জনকে গ্রেফতারের পর জানা যায়, হাটহাজারী, বাঁশখালী ও হালিশহরে গ্রেফতারকৃতরা নতুন জঙ্গীসংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডের সদস্য। এরপর ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকার ধানম-ি থেকে সহকর্মী দুই আইনজীবীসহ গ্রেফতার হন সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা। এরপর ২০১৬ সালের ১৭ মার্চ হালিশহরের ঘটনায় ১১ জনকে আসামি করে চার্জশীট দেয়া হয়। ২০ মার্চ বাঁশখালীর লটমনি পাহাড়ে জঙ্গী আস্তানা আবিষ্কারের ঘটনায় ব্যারিস্টার শাকিলাসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। ৩ এপ্রিল হাটহাজারী থানার মামলায় ব্যারিস্টার শাকিলাসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দেয়া হয়। গ্রেফতারের পর র‌্যাব জানতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের এক নাগরিক আল্লামা লিবদি নামের এক ব্যক্তি হামজা ব্রিগেডকে অর্থ সহায়তা করে। উল্লেখ করা যেতে পারে ২০১৪ সালের আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের ধানমণ্ডি সাতমসজিদ শাখার মাধ্যমে সানজিদা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে শাকিলা ফারজানা ২৫ ও ২৭ লাখ টাকা করে দুই দফায় ৫২ লাখ টাকা এবং তার সহকারী হাসানুজ্জামান লিটন ৩১ লাখ এবং মাহফুজ চৌধুরী বাপন ২৫ লাখ টাকা জমা করেন। তখন র‌্যাব জানিয়েছিল ব্যাংক হিসাবটি শহীদ হামজা ব্রিগেডের ব্লু গ্রুপের নেতা মনিরুজ্জামান ডনের। যিনি আগেই ইসলামী ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

ব্যারিস্টার শাকিলার আইনজীবী বিএনপি নেতা আবদুস সাত্তার জানিয়েছেন, শাকিলা বর্তমানে চিকিৎসার জন্য বিদেশে আছে। আমরা সময়ের আবেদন করেছিলাম। কিন্তু আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। তিনি আরও জানান, একজন আইনজীবী হিসাবে সরল বিশ্বাসে ব্যারিস্টার শাকিলা মামলা পরিচালনার টাকা নিয়েছিলেন। ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তিনি ওই টাকা ফেরত দিয়েছেন।