২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ঘিরে নীলফামারীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ঘিরে নীলফামারীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ॥ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনার ১৫ বছর হলো আজ বুধবার। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও দ্রুত বিচারের দাবিতে নীলফামারীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নীলফামারী পৌর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধু চত্ত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে সেদিনের ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সমাবেশে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মসফিকুল ইসলাম রিন্টুর সভাপতিত্বে বক্তৃতা দেন নারী সংসদ সদস্য রাবেয়া আলিম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রশিদ মঞ্জু, জেলা কৃষকলীগের সভাপতি অক্ষয় কুমার রায়, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ, ভাইস চেয়ারম্যান দীপক চক্রবর্তী, শান্তনা চক্রবর্তী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুজার রহমান, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মাসুদ আলাল প্রমুখ।

বক্তরা বলেন রক্তাক্ত ভয়াল-বিভীষিকাময় ২১শে আগস্ট আজ। রাজনৈতিক ইতিহাসে ২১ আগস্ট একটি কলঙ্কময় দিন। মৃত্যু-ধ্বংস-রক্তস্রোতের নারকীয় গ্রেনেড হামলার ১৫তম বার্ষিকী। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এই দিনে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী সমাবেশে অকল্পনীয় এক নারকীয় গ্রেনেড হামলার ঘটনা বাংলাদেশে এক কলঙ্কময় অধ্যায়ের জন্ম দেয়। বক্তরা এ ঘটনায় তারেক জিয়া সহ সকল আসামীর ফাঁসী দাবি করে।

উল্লেখ ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলা হয়। এতে নিহত হন ২২ জন। আর আহত হন কয়েক শ। ভয়াবহ এই গ্রেনেড হামলার ঘটনার মামলার রায়ের পেপারবুক তৈরী শেষ পর্যায়ে। ভয়াবহ এই গ্রেনেড হামলার ১৪ বছরের মাথায় পৃথক দুটি মামলায় গত বছরের ১০ অক্টোবর বিএনপি নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদন্ড দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয় আরও ১১ জনের। সাজাপ্রাপ্ত ৫১ আসামির মধ্যে এখনো পলাতক আছেন ১৮ জন।

গত বছরের ১৩ জানুয়ারি দুই মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল শুনানির জন্য

গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দিয়েছিলেন।

আইন অনুযায়ী, বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার জন্য হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। এ জন্য রায় ঘোষণার পর বিচারিক আদালত মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেন। যা ডেথ রেফারেন্স নামে পরিচিত। নথিপত্র পাওয়ার পর হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সংশ্লিষ্ট মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করে। পেপারবুক প্রস্তুত হলে মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়।