২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সমাজ ভাবনা- বিষয় ॥ ভেজালের ভয়

  • জীবনের ঝুঁকি নিয়ে..;###;বিলকিস বেগম

ভেজালকারী শুধু ভেজাল মানুষ নয়, খুনীও বটে। যে খাদ্যে মানুষের জীবন বাঁচে সেই একই খাদ্যে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে যদি ভেজালরূপী বিষক্রিয়া খাদ্যে বিদ্যমান থাকে। বিশেষ করে দুধ। খাবারের মধ্যে দুধ অতি প্রয়োজনীয়, যা সব বয়সী মানুষের জন্যই জরুরী। এ কারণে এর চাহিদা বেশি। দেশে দুধের চাহিদার তুলনায় যোগান কম বলে অসাধু ব্যবসায়ীরা এর সুযোগ গ্রহণ করে। দুধে ভেজাল থাকলে দুগ্ধজাত সকল খাবারই ভেজালপূর্ণ হবে এটাই স্বাভাবিক। তাই দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যকে ভেজালমুক্ত করতে হলে দেশে দুধ উৎপাদনকারী খামারের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রয়োজনে সরকারকে ভর্তুকি দিয়ে খামারিদের কাছে থেকে দুধ কিনে বিশুদ্ধ দুধ বাজারে সরবরাহ করতে হবে। তা হলে খাদ্যের একটি বিরাট ও প্রয়োজনীয় অংশ ভেজালমুক্ত হতে পারে।

দ্বিতীয় খাদ্য হচ্ছে মাছ। দেশে মাছের যোগান আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে ফলে মাছে ফরমালিন দেয়াও কমেছে। তার পরেও বড় এবং বেশি মূল্যের মাছকে দীর্ঘ সময় তাজা রাখার উদ্দেশ্যে অসাধু ব্যবসায়ীরা ফরমালিন ব্যবহার করছে। এ জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রামের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা এ ব্যাপারে মাঝে মাঝে ভেজালবিরোধী অভিযান চালাতে পারেন।

তৃতীয় হচ্ছে ফলমূল। বাজারে যখন যে ফলের চাহিদা বাড়ে সে অনুযায়ী বিক্রেতারা অধিক মুনাফা লাভের আশায় কাঁচা ও অপরিপক্ব ফলকে কার্বাইডের মাধ্যমে পাকিয়ে সাধারণের চোখে আকর্ষণীয় করে তোলে। তাই কোন্টি গাছ পাকা আর কোন্টি কৃত্রিম উপায়ে পাকা সে বিষয়ে বিস্তারিত জ্ঞান জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। যদি জনগণ পার্থক্য করতে পারে তবে জেনেশুনে কেউ কার্বাইডযুক্ত ফল কিনবে না। ফলে বিক্রেতারাও ফলে ভেজালের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হবে।

যদিও বলা হয় আজকাল সবকিছুতেই ভেজাল তবুও সবাইকে স্বীকার করতে হবে যে, যতটা ভেজালের কথা বলা হয় ভেজাল ততটা নয়। অনেক ক্ষেত্রেই ভেজাল সিজনাল। যেমন রমজান মাসে দুধে ও সেমাইয়ে ভেজাল, আমের সিজনে আমে ভেজাল।

কিছু কিছু লোক এমনও আছেন যারা খেতে বসে ভেজালের কথা ভাবতে থাকেন, আর মনে মনে ভাবেন আমি তো ভেজাল খাচ্ছি, যদিও তিনি ভেজাল খাবার খাননি তবুও তিনি মনস্তাত্ত্বিক কারণে অসুখে ভোগেন। কেউ ভেজাল খেয়ে অসুখে ভোগেন আর কেউ মনস্তাত্ত্বিক কারণে। এভাবে দিন দিন অসুস্থ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে ফলে মানুষের চিকিৎসা খরচও বাড়ছে।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে যে সমস্যাটি দেখা যায় সেটি হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ। যদিও ওষুধ তৈরিতে তেমন কোন ভেজাল পরিলক্ষিত হয় না, তবুও ওষুধ কোম্পানিগুলোর গাফিলতি ও ফার্মেসির ওষুধ বিক্রেতাদের অসাধুতা ও অবহেলার কারণে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফার্মেসিগুলো থেকে যথাসময়ে তুলে নেয়া হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অতি সাধারণেরা মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে ওষুধ কেনেন না। এ ব্যাপারে সকলকে সচেতন করে তুলতে হবে। অপর পক্ষে, সব প্রকার ওষুধ এমনকি সাধারণ ট্যাবলেটের গায়েও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ লেখা থাকতে হবে। আর যে সমস্ত ফার্মেসি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

পরিশেষে বলতে চাই, সুস্থ দেহ, পরিশীলিত মন ও উন্নত জীবন এক সূত্রে গাঁথা।

ঢাকা থেকে