২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সচেতনতার বিকল্প নেই

  • শুভ্র ঘোষ

চারদিকে কেবল ভেজাল বিষাক্ত আর মানহীন পণ্যের ছড়াছড়ি। ভেজাল ও বিষাক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে মানবদেহে বাসা বাঁধছে যত অনিরাময়যোগ্য রোগ। এ রোগ থেকে নিরাময়ের জন্য আর যেন কোন রাস্তাই খোলা নেই। এসব জটিল ও অনিরাময়যোগ্য কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই অকালে মারা যাচ্ছে। এই জটিল রোগ কিংবা অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী কিন্তু মানুষই। এ দেশের একশ্রেণীর মানুষের অতি মুনাফা এবং লোভের কারণেই দিনে দিনে আমাদেরও মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে। এদের মধ্যে কোন মানবিকবোধ নেই। বরং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিষ্ঠুুরতাই কাজ করে।

এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, সরকারের জনস্বাস্থ্য পুষ্টি ইনস্টিটিউটের (আইপিএইচ) ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দৈনন্দিন খাদ্যদ্রব্যে মারাত্মক রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সারাদেশ থেকে সংগৃহীত এসব ভোগ্যপণ্যে কেমিক্যাল ও কীটনাশকের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির সৃষ্টি করছে। ফলে এখন থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মানবদেহে রোগ-ব্যাধি আক্রান্তের হার ভবিষ্যতে মারাত্মক আকার ধারণ করবে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, আগামী ২০ বছরের মধ্যে মানুষের মৃত্যুর ৭০ শতাংশ কারণ হবে ভেজালযুক্ত খাদ্য গ্রহণ। এই ধরনের আশঙ্কা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক।

ভেজাল গুঁড়া মসলায় সয়লাব রাজধানীর বাজার। গুঁড়া মসলার নামে বিভিন্ন ধরনের দ্রব্য ও রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত মসলা বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। হলুদ গুঁড়ায় প্রকৃত হলুদ নেই। মরিচে নেই আসল মরিচ। কাউন চাল আর ঘাসের বীজে হলুদ রং মেশালে হয় হলুদ আর লাল রং মেশালে হয় মরিচ। এতে কম দামী প্রচুর রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রিত কাপড়ের রংও মেশানো হয়। পচা ও নষ্ট হয়ে যাওয়া কাঁচা মরিচ শুকিয়ে গুঁড়া করেও মিশিয়ে দেয়া হয়। ধুলাবালুর মধ্যে এসব প্যাকেটে ভরে ভুয়া কোম্পানির নামে লেভেল লাগিয়ে বাজারজাত করা হয়। এভাবেই একশ্রেণীর অতি লোভী ব্যবসায়ী সাধারণ মানুষকে ঠকাচ্ছে এবং তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। কেবল গুঁড়া মসলাতেই নয়- ভেজাল এখন প্রায় প্রতিটি খাদ্যপণ্যে। এরা শিশুখাদ্যেও ভেজাল মেশাচ্ছে। এরা মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত ফরমালিন মাছসহ নানা খাদ্যদ্রব্যে ব্যবহার করছে। মাছকে সতেজ রাখার জন্য এবং এর পচন রোধ করতে দীর্ঘদিন থেকেই মাছে ফরমালিন ব্যবহার করছে একশ্রেণীর অসৎ ব্যবসায়ী। এমনকি পাটালি গুড়েও কেমিক্যাল মেশানো হয়। সস তৈরি করা হয় বিষাক্ত রং দিয়ে। গাজর, শিম, টমেটো, লেটুস পাতা, ক্যাপসিকাম, কলা, আপেল, আনারস এবং আমসহ বিভিন্ন ফল সবজিতে এসব উচ্চমাত্রার বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হয়।

আমরা মনে করি, অসৎ ব্যবসায়ীদের কোনভাবেই ছাড় দেয়া উচিত নয়। কেবল জরিমানা বা জেল নয় এর সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত মৃত্যুদ-। অপরাধীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এর পুনরাবৃত্তি হতেই থাকবে। ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে কোন লাভ হবে না। যতদিন পর্যন্ত অসৎ ব্যবসায়ীদের মানসিকতার পরিবর্তন না হবে ততদিন পর্যন্ত খাদ্যে ভেজাল চলবেই। আর আমরা বিষ খেয়ে মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে পড়ব।

কলকলিয়াপাড়া, মাগুরা থেকে