২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কেমিক্যাল মেশানো খাবার

  • নুরুল আমিন

ভেজালের ভয়তে মানুষের নাকাল অবস্থা। দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ভেজালের ভয় ঢুকে গেছে। ভেজালে সয়লাব হয়ে উঠেছে বাজার। খাদ্য দ্রব্য ও ওষুধসহ প্রাত্যহিক জীবনে ব্যবহৃত সব কিছুতেই অসাধু পণ্য উৎপাদনকারী ব্যক্তিরা ভেজাল দিচ্ছে এবং বাজারজাত করে আসছে। অসৎ ব্যবসায়ীরা এসব ভেজাল পণ্য হরদম বিক্রি করছে। এসব ভেজাল সামগ্রীর কারণে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। দেখার যেন কেউ নেই। সংশ্লিষ্টরা ম্যানেজ প্রক্রিয়ার কারণে দেখেও না দেখার ভান করে। যা সত্যি দুঃখজনক ব্যাপার।

ঘনঘন অসুস্থ হয়ে পড়া এবং নতুন নতুন জটিল ও কঠিন অসুখ-বিসুখ দেখা দেয়ার মূল কারণ হচ্ছে ভেজাল খাদ্য ও পণ্য সামগ্রী। দেশে বিভিন্ন সময় ভেজালবিরোধী অভিযান চালানো হলেও দ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণে আসছে না। ভেজাল থেকেই যাচ্ছে। বরং তা দিন দিন বেড়ে চলেছে। বিশ্বায়নের এই যুগে আমরা যতটা আধুনিক হচ্ছি, আমাদের উচ্চাভিলাষী জীবনে ঝুঁকি ততই বাড়ছে। আগেকার দিনে যখন মোটা ভাত ও মোটা কাপড়ের যুগ ছিল, তখন মানুষের এত রোগব্যাধি ছিল না। কারণ তখন খাবার, ওষুধ ও অন্যান্য ব্যবহারিক বস্তুতে কোন ভেজাল ছিল না। ফলমূল থেকে শুরু“করে সবকিছু ছিল টাটকা ও ভেজালমুক্ত। সুস্থ থাকার জন্য সুস্থ খাবার একান্ত প্রয়োজন।

খাদ্য ও ওষুধে ভেজাল দেয়া মারাত্মক অপরাধ। অথচ এসব সামগ্রী উৎপাদনকারী ও বিক্রেতারা থেমে নেই। তারা মুনাফা অর্জনের জন্য মানুষকে বিষ খাওয়াতে তাদের বিবেকে এতটুকু বাঁধে না। কিন্তু এই বিষচক্র থেকে তারাও মুক্ত নয়। যেমনÑ ভেজাল তেল বিক্রি করে ঘি কিনে। সেই ঘিতে ভেজাল। আবার ভেজাল ঘি বিক্রেতা গোস্ত কিনে। সেই গোস্তে ভেজাল। গোস্ত বিক্রেতা বিষ মেশানো ফল কিনে প্রতারিত হয়। ফল বিক্রেতা ভেজাল ওষুধ কিনে ধরা খায়। সে আবার তেল কিনে ঠকে। এভাবে চক্রাকারে সমাজের সবাই অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করছে। এতসব ভেজালের ভিড়ে নিরাপদ খাদ্য পাওয়া যেন সিন্ধু সেচে মুক্তা আনার মতো দুষ্কর ব্যাপার।

কাঁচা ফলমূল পাকানোর জন্য ডিটারজেন্ট পাউডার দিয়ে ধুয়ে রাইফেন, ইথোফেন বা কার্বাইড ইত্যাদি কেমিক্যাল স্প্রে করা হয়। মাছ, গোস্ত, দুধ ও ফলে জীবনঘাতী ফরমালিন মেশানো হয়। মোটা চাল মেশিনে কেটে পলিশ করে বলা হয় মিনিকেট এবং কাটিং, কালার ও পলিশ ঠিক রাখার জন্য বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া চালে বিষাক্ত ক্যাডমিয়াম ও আটায় চক পাউডার মেশানো হয়। কৃত্রিম চিনিতে থাকে এসপার্টেম ও স্যাকারিনের মতো ক্ষতিকর উপাদান। খেজুর বা আখের গুড়ের বদলে বাজারে বিক্রি হয় বার্নিশ কালার, ফিটকারি, চিনি, ময়দা, চক পাউডার, রং, হাইড্রোজ ও ঘ্রাণ পারফিউম ইত্যাদি উপাদানে তৈরি কৃত্রিম গুড়। পোল্ট্রি, গোস্ত ও ডিমে মেশানো হয় ক্রোমিয়াম। বরফ তৈরির সময় ফরমালিন মিশিয়ে দেয়া হয়। বিষাক্ত পারক্সাইড ও সোডা ইত্যাদি মিশিয়ে বানানো হয় কৃত্রিম দুধ। গাজর, মিষ্টি কুমড়া, প্রিজারভেটিব ও ফ্লেভার প্রভৃতি দিয়ে ঘি তৈরি করা হয়। কেমিক্যাল ঝাঁজ, সাবান তৈরির ক্যাস্টার অয়েল, মরিচের গুঁড়া ব্যবহার করা হয় কৃত্রিম সরিষার তেলে। এভাবে হলুদ, মরিচ, শিশু খাদ্য, ফাস্টফুডসহ খাদ্য ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্রে ভেজালের উপস্থিতি।

ভেজাল ভয়ঙ্কর এক নীরব ঘাতক। ভেজাল খাদ্যে পাকস্থলি, কিডনি, ফুসফুস, লিভার, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল ও কঠিন রোগে মানুষ

আক্রান্ত হয়।

লালমোহন, ভোলা থেকে