২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উইন্ডিজ-ভারত প্রথম টেস্ট শুরু আজ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হারের ধাক্কা বাদ দিলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারত কিন্তু উড়ছেই। উইন্ডিজে টি২০তে ক্যারিবীয়দের ৩-০তে ‘হোয়াইটওয়াশ’ করার পর ওয়ানডেতে সফরকারীদের জয় ২-০ ব্যবধানে। দ্বৈরথটা এবার সাদা পোশাক আর লাল বলের। দীর্ঘদিন পর টেস্ট খেলতে নামার বিষয়টি বাইরে রাখলে সকল বিচারে এগিয়ে বিরাট কোহলির দল। ভারত যেখানে র‌্যাঙ্কিংয়ের নাম্বার ওয়ান জেসন হোল্ডারের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেখানে আট নম্বরে। তবে ঘরের মাটিতে হোল্ডারবাহিনী যে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে তার প্রমাণ গত বছর দুর্ধর্ষ ইংল্যান্ডকে টেস্টে হারিয়ে দেয়া। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে সামিল হতে দুই টেস্টের সিরিজটা দু’দলের জন্য বাড়তি তাড়না হয়ে এসেছে। এ্যাশেজ দিয়ে দুই বছরব্যাপী যে লড়াইটা শুরু করেছে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। ভারত অধিনায়ক কোহলিও মনে করছেন নতুন প্রবর্তিত ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ তথা টেস্টের বিশ্বকাপ এ দ্বৈরথকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। এ্যান্টিগার নর্থ সাউন্ডে খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।

‘অনেককে বলতে শুনি টেস্ট ক্রিকেট এখন আর প্রাসঙ্গিক নয় বা টেস্টের মৃত্যু হচ্ছে। আমি তো বলব, গত কয়েক বছরে টেস্ট ম্যাচের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দ্বিগুণ হয়েছে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চালু হওয়ায় সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন আরও বেড়ে যাবে। প্রতিটি ম্যাচের আলাদা গুরুত্ব থাকবে। প্রতিটি দল পয়েন্ট পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে লড়াই করবে’ বলেন কোহলি। আইসিসি প্রবর্তিত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে মোট নয়টি দল অংশ নিচ্ছে। দলগুলো হচ্ছে- ভারত, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশ। পয়েন্টের ভিত্তিতে সেরা দুটি দল নিয়ে ২০২১ সালের জুনে ক্রিকেটের মক্কা লর্ডসে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। আর একটি টেস্ট জিতলেই অধিনায়ক হিসেবে জয়ের সংখ্যায় মহেন্দ্র সিং ধোনিকে ছুঁয়ে ফেলবেন সুপার কোহলি।

৬০ টেস্টে ধোনির জয় ২৭টিতে, সেখানে ৪৬ ম্যাচেই ২৬ জয় অধিনায়ক কোহলির। ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে ধোনি হঠাৎ করে দায়িত্ব ছাড়লে টেস্টে অধিনায়ক হন কোহলি। তার নেতৃত্বে ঘরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যন্ড ও নিউজিল্যান্ডকে হারায় ভারত। গত বছর প্রথমবারের মতো জয় পায় অস্ট্রেলিয়ার মটিতেও। হারে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে।

নেতৃত্ব কোহলির ব্যাটিংয়ে প্রভাব ফেলতে পারেনি। উইন্ডিজ সফরেও নিশ্চয়ই তার ব্যাটের দিকে তাকিয়ে থাকবে দল। ভারত অধিনায়ক বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ড সফরে টেস্টে আমাদের ব্যাটসম্যানরা খুব একটা ভাল করতে পারেনি। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে কাজটা আরও কঠিন। কারণ মাঝে অনেকদিন আবার লাল বলে খেলিনি। সবাইকে চ্যালেঞ্জটা নিতে হবে।’ টেস্টে ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা চিন্তায় থাকবে ভারত। টপঅর্ডারে চেতেশ্বর পুজার ও অধিনায়ক কোহলি ছাড়া কেউ ধারাবাহিক নন। এমনকি সহ-অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানেকেও একাদশে জায়গা পেতে রোহিত শর্মার সঙ্গে লড়াই করতে হবে। আর উইকেটরক্ষক হিসেবে ঋদ্ধিমান সাহার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা বাড়িয়ে দিতে পারেন তরুণ ঋষভ পন্থ। নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাপ থাকবে মায়াঙ্ক আগারওয়াল, লোকেশ রাহুল, হনুমা বিহারিদের ওপর। তবে পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ, মোহাম্মদ শামি, ইশান্ত শর্মা, উমেশ যাদব, স্পিনার কুলদিপ যাদব এবং স্পিনিং অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজাকে নিয়ে সফরকারীদের বোলিং আক্রমণ বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ। যে বৈচিত্র্যতা দিয়ে গত বছর তারা প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল। কুলদীপ-জাদেজার দাপটে এমনকি অভিজ্ঞ রবিচন্দ্রন আশ্বিনেরও একাদশে জায়গা অনিশ্চিত।

অন্যদিকে ঘরের মাটিতে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মূল শক্তি পেস বোলিং। যেখানে নেত্বত্ব দেবেন অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। আছেন আরও তিন গতিময় বোলার শ্যানন গ্যাব্রিয়েল, কেমার রোচ ও তরুণ কিমো পল। ব্যাটিংয়ে স্বাগতিকদের মূল ভরসা অভিজ্ঞ ক্রেইগ ব্রেথওয়েট, ড্যারেন ব্রাভো, ইনফর্ম শাই হোপ এবং তরুণ শিমরন হেটমায়ার। রোস্টন চেজের কথা আলাদা করে না বললেই নয়। ২৭ বছর বয়সী অফস্পিনিং অলরাউন্ডার গত কয়েক বছর ধরে টেস্টে দলের সেরা পারফর্মার। ব্যাটে-বলে ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দিতে পারেন তিনি। ১৯৪৮ থেকে এ পর্যন্ত মুখোমুখি ৯৬ টেস্টের ২০টিতে জয় ভারতের, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৩০, ড্র ৪৬। এতো গেল সার্বিক ফল, তবে সাম্প্রতিক নৈপুণ্য এগিয়ে কোহলির দল। ২০০২-২০০৩ মৌসুমের পর গত ১৮ বছরে দেশে কিংবা বিদেশে কখনই ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জিততে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।