২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মন্দের ভাল ঈদ নাটক

  • খোকন ভূঁইয়া

দেখতে দেখতে গত হয়ে গেল চলতি বছরের ঈদ। দেশের বড় দুই উৎসব ঈদ-উল ফিতর ও ঈদ-উল আজহা। ঈদের ছুটি অবসর এবং বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম নাটক। দেশী টিভি চ্যানেলে তুলনামূলক বেশী সময় নিয়ে আয়োজন করে বিশেষ আনুষ্ঠান মাল। এর মধ্যে এক ঘণ্টার নাটক, টেলিছবি এবং স্বল্পদৈর্ঘ্যরে ধারাবাহিক নাটক বেশি প্রচারিত হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে শুরু করে দেশের সব স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রচারিত হয় ঈদের নানা আয়োজন। ঈদ আনন্দের সঙ্গে টেলিভিশনের রং বেরংয়ের আয়োজন বরাবরই আমাদের আর্কষিত করে। অতীতে ঈদ উৎসবে তিনদিন , চারদিন ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান মালা প্রাচারিত হলেও এখন এর মেয়াদ সাতদিন। এই অনুষ্ঠানমালার আলাদা আকর্ষণ নাটক। ঈদে প্রায় সব চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছে অসংখ্য নাটক ও টেলিছবি। বর্তমান সময়ে যারা নাকট নিয়ে কাজ করছেন, সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে এক ধরণের উদাসিনতা স্পষ্ট। তবে কেউ কেউ ভেতরের তাগিদে শিল্পমান নিয়ে নাটক বানাতে চেষ্টা করেন। এবারের কোরবানির ঈদ উপলক্ষে চ্যানেলে যে নাটক প্রচারিত হয়েছে তার মান এক কথায় বলবো মন্দের ভাল। যদিও এটা বলা ঠিক হচ্ছে কিনা বুঝতে পারছি না। কারণ, দর্শক প্রতিক্রিয়া আরও করুণ। মাত্রাতিরিক্ত বিজ্ঞাপন, এক বিজ্ঞাপন বারংবার রিপিট, দীর্ঘ বিরতির কারণে মনোযোগ বিচ্ছিন্ন এগুলোও কিন্তু উল্লেখ যোগ্য। এরমধ্য থেকে যেসব নাটক দেখা হয় তার বেশির ভাগই আঞ্চলিক ভাষার ঘষামাজা হাসির নাটক। জোরকরে হাসানো, অপ্রীতিকর ভাড়ামো, প্রেম ভালবাসার নামে সস্তা রসায়ন। এ সবের ভিড়ে বেশ কিছু নাটক দর্শক ভালভাবে গ্রহণ করেছেন। যার প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া গেছে।

পরিচিতির শীর্ষে থাকা মোশাররফ করিম থেকে শুরু করে জাহিদ হাসান, চঞ্চল চৌধুরী, জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, নুসরাত ইমরোজ তিশা, জাকিয়া বারী মম, আফরান নিশো, মেহজাবিন চৌধুরী, অপর্ণা ঘোষ, তৌসিফ মাহবুব, ফারহান আহমেদ জোভান, তানজিন তিশাদের অসংখ্য নাটক দেখা গেছে। এবার ঈদ-উল আজহায় প্রচারিত নাটকগুলোর হিসাব কষে জানা যায়, মাবরুর রশীদ বান্নাহর আশ্রয় ও লেডি কিলার-২, মিজানুর রহমান আরিয়ানের সাবলেট ও লাইফ ইন্স্যুরেন্স, কাজল আরেফিন অমির ব্যাচেলর ঈদ, সাজিন আহমেদ বাবুর উবার, মহিদুল মহির গোলাপি কামিজ, তপু খানের ফ্রাইডে লাভ, আজাদ কালামের জমজ ১২, মোস্তফা কামাল রাজের ইনায়েত, হানিফ সংকেতের অজ্ঞ-বিজ্ঞ সমাচার, আশফাক নিপুণের আগন্তক ও এই শহরে, রেদওয়ান রনির বিহাইন্ড দ্য পাপ্পি, শামস করিমের আম্মা জান, দিপু হাজরার জয়েন ফ্যামিলি ও প্রবীর রায় চৌধুরীর রিলেশনশিপ নাটকগুলো দর্শকমহলে প্রশংসা পাচ্ছে। আমাদের দেশের টিভি নাটকের ক্ষেত্রে অনেক সঙ্কট রয়েছে। এটা আমরা সবাই জানি এবং মানিও। তারপরও টিভি নাটক নিয়ে আমাদের স্বপ্নের যেন শেষ নেই। প্রতিনিয়ত শিল্পী আর কলাকুশলীরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন কীভাবে এই স্বল্প বাজেটের মধ্যেও ভাল কাজ করা যায়। আর সেই ধারাবাহিকতাটা এখনও আছে বলেই আমাদের দেশীয় চলচ্চিত্রের চেয়ে টিভি নাটক অনেক এগিয়ে।