২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এবির অপ্রকাশিত গান ‘ভাবসূত্র’

সুমন্ত গুপ্ত

আইয়ুব বাচ্চু। বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতের এক কিংবদন্তি পুরুষ। যাদের হাত ধরে দেশীয় ব্যান্ড সঙ্গীত দাঁড়িয়েছে, তাদের একজন ছিলেন তিনি। দীর্ঘ চার দশক আমাদের হৃদয় মাতিয়েছেন। আশির দশক থেকে গানে, সুরে ও কথায় আয়ুব বাচ্চু নামটা আমাদের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। ফেরারি মন, চলো বদলে যাই, এখন অনেক রাত, হকার, আমি বারো মাস তোমায় ভালবাসি, কষ্ট পেতে ভালবাসি এবং রূপালি গিটারসহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের ¯্রষ্টা আইয়ুব বাচ্চু। তারকা খ্যাতির তুঙ্গে অবস্থান করলেও ছিলেন সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার মধ্যে। তারকা নয়, ‘ভাল মানুষ’ হয়েই বাঁচতে চেয়েছেন জীবনভর। কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু প্রয়াত হয়েছেন গত বছর।

১৬ আগস্ট ছিল গুণী এই শিল্পীর জন্মদিন। এমন দিনে ভক্তরা আইয়ুব বাচ্চুকে স্মরণ করছেন শ্রদ্ধাভরে। প্রিয়শিল্পী নেই, তো কি হয়েছে তার গানের মাঝে, সুরের মাঝেই বাচ্চুকে খুঁজে নিচ্ছেন ভক্তরা। এদিকে আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিনে প্রায় ১৪ বছর পর প্রকাশ পেল তার অপ্রকাশিত একটি গান। ২০০৪ সালে ‘ফিসফাসফিস’ শীর্ষক এ্যালবাম আয়োজন করেছিলেন কবি, গীতিকার ও অভিনেতা মারজুক রাসেল।

২০০৫-এর ১০ জানুয়ারি ১১টা গান নিয়ে এ্যালবামটি বাজারে আসে। এ্যালবামের সব গানের কথা লিখেছিলেন তিনি। এ্যালবামের শিল্পীরা ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু, আসিফ আকবর ও পান্থ কানাই। কিন্তু ‘ভাবসসূত্র’ শীর্ষক আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া গানটি টেকনিক্যাল কারণে প্রকাশ হয়নি তখন। ১৪ বছর পর এ গানটি প্রকাশ হলো শিল্পীর জন্মদিনে। আর আকস্মিকভাবে আইয়ুব বাচ্চুর এই গান পেয়ে ভক্তরা দারুণ খুশি। উচ্ছ্বাস জানিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। আনন্দ ও ভাললাগা প্রকাশ করেছেন ইউটিউবের মন্তব্য বাক্সে। এই অপ্রকাশিত গান মুক্তি দেয়ার তাগিদ ও উদ্যোগ নেয়ায় মারজুক রাসেলকে অনেকেই ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ১৬ আগস্ট বিকেল ৪টায় সাউন্ডটেকের ইউটিউব চ্যানেলে গানটির লিরিক্যাল ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ‘ভাবসূত্র’-এর কথা লিখেছেন মারজুক রাসেল। সুর-সঙ্গীতায়োজন করেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু নিজেই। এটির রি-মাস্টারিং করেছেন আনিসুজ্জামান আনিস। গণমাধ্যম এক সাক্ষাতকারে গীতিকবি মারজুক রাসেল বলেন, এ্যালবাম প্রকাশ হয় ঠিকই কিন্তু ভাবসূত্র নামের একটি গান টেকনিক্যাল কারণে অপ্রকাশিত থেকে যায়। গান প্রকাশের ভূমিকায় তিনি বললেন - ‘২০০৪-এ ‘ফিসফাসফিস’ টাইটেলের একটা এ্যালবাম আয়োজন করছিলাম। লেবেল সাউন্ডটেক। কণ্ঠশিল্পী আইয়ুুব বাচ্চু, আসিফ ও পান্থ কানাই।

গানের কথা আমার। সুর-সঙ্গীত বাচ্চু ভাই ও টিটোর। দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যেকের ৪টা মোট ১২টা গান [বাচ্চু ভাইর ৪টা এবি কিচেনে, আসিফ ও পান্থ কানাইর ৮টা সাউন্ড গার্ডেন স্টুডিওতে] রেকর্ড করে ২০০৫-এর ১০ জানুয়ারি এ্যালবামটা টেকনিক্যাল কোন কারণে ১১টা গান নিয়ে রিলিজ হয়। ১টা গান থেকে যায়; ‘ভাবসূত্র’ টাইটেলের আনরিলিজড ওই গানটার সুর-সঙ্গীত-কণ্ঠ বাচ্চু ভাইয়ের। এ্যালবাম রিলিজের পর দিন-মাস-বছর যায়, আনরিলিজ গানটার কথা সংশ্লিষ্ট সবাই ভুলে যাই। কবিতা-গানের চেয়ে ভিজ্যুয়াল মিডিয়ায় বেশি জড়ায়ে যাওয়ার ভেতরেও মাঝে-মাঝে গানটার কথা মনে পড়ত, আবার ভুইলাও যাইতাম; আবার মনে পড়ত, ভুইলা যাইতাম। এই রকম ‘ভোলা’-‘মনে পড়া’ চলতে-চলতেই বাচ্চু ভাই যেদিন প্রয়াত হলেন, সেদিন [১৮ অক্টোবর, ২০১৮] থেকে তাঁর সঙ্গে গান নিয়ে কাটানো মধুর অনেক স্মৃতি, মন-খারাপ ও ‘ভাবসূত্র’ গানটার কথা যতক্ষণ সজাগ থাকতাম ততক্ষণ মনে হইতে থাকল।

সাউন্ডটেকের বাবুল ভাইয়ের [সুলতান মাহমুদ বাবুল] সঙ্গে যোগাযোগ করে আনরিলিজ গানটার কথা জানালাম। উনি কয়েকদিন টাইম নিয়ে প্রায় ১৪ বছর আগের উঅঞ [উরমরঃধষ অঁফরড় ঞধঢ়ব] খুঁজে বের করে জানালেন। আমার খোঁজে উঅঞ-চষধুবৎ আছে কিনা, জানতে চাইলেন। উঅঞ-চষধুবৎ আছে, চেনাজানা এমন একটা জায়গায় উঅঞ পাঠানোর পর সেখানে ১০/১২ দিনেও কোন কাজ হইলো না। এরমধ্যে একবার এলআরবির মাসুদের কাছে ওই সময়ের প্রসঙ্গ এনে গানটার কথা বললাম; তিনি বললেন, স্টুডিও লকড, খুললে জানানো যাবে হয়ত! যাই হোক, শেষে বন্ধু দূরে [গায়ক, রেকর্ডিস্ট] খোঁজ দিল আনিস ভাই’র [প্রমিথিউসের আনিসুজ্জামান আনিস]। ফাঙ্গাস-টাঙ্গাস পড়ে প্রায়-বাতিল হয়ে যাওয়া উঅঞ-টা টেকনিক্যাল ও তাঁর উদ্ভাবিত নানান পদ্ধতিতে ফাঙ্গাসমুক্ত করে গানটার এডিট ও রি-মাস্টারিং করে দিলেন আনিস ভাই। আনিস ভাইকে ধন্যবাদ। ধন্যবাদ সুলতান মাহমুদ বাবুল ভাই ও সাউন্ডটেক কর্তৃপক্ষকে। বাচ্চু ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে গানটা শ্রোতাদের কাছে যাচ্ছে জেনে একাধারে মন-খারাপ ও ভাললাগা দুটোই হচ্ছে।’