২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সপ্তম শ্রেণির পড়াশোনা

  • বিষয় ॥ সাধারণ বিজ্ঞান

অধ্যায়-১ ॥ তাপ

প্রিয় শিক্ষার্থী, আজ সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের প্রথম অধ্যায় থেকে সৃজনশীল পদ্ধতির একটি নমুনা প্রশ্নোত্তর আলোচনা করব। এ ধরনের প্রশ্নোত্তরের জন্য প্রথমেই অধ্যায়টি ভালভাবে পড়বে।

প্রশ্ন: ক. তাপ কি?

প্রশ্ন: খ. কঠিন পদার্থের প্রসারণের একটি উদাহরণ দেখাও।

প্রশ্ন: গ. তাপ প্রয়োগে বস্তুর ধর্মের পরিবর্তন হয় কি? ব্যাখ্যা করো।

প্রশ্ন: ঘ. বিশ্লেষণ করো- সূর্যই সকল শক্তির উৎস ।

উত্তর: ক. তাপ এক প্রকার শক্তি, যা ঠান্ডা বা গরমের অনুভূতি জাগায়। তাপ গ্রহণে বস্তু গরম হয়, বর্জনে হয় ঠান্ডা ।

উত্তর: খ. কঠিন পদার্থ প্রসারণের একটি উদাহরণ হলো রেললাইনের পর পর দুটি লাইনের মাঝে কিছু ফাঁক রাখা হয়, চাকার ঘর্ষণজনিত তাপে এর দৈর্ঘ্য বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় স্থানের অভাব না ঘটে। দুটি রেলের সংযোগস্থলে ফাঁক না রাখলে তাপে রেলের যে দৈর্ঘ্য বেড়ে যায়, তাতে একে অন্যকে ঠেলে লাইন বেঁকে যেতে পারে। ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা । তাই দুটি লাইনের মধ্যে ফাঁক রাখা হয়।

উত্তর: গ. তাপ প্রয়োগে বস্তুর ধর্মের পরিবর্তন নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-

১. কোনো বস্তুতে তাপ প্রয়োগ করলে সাধারণত তার উষ্ণতা বাড়ে, আবার তাপ অপসারণ করলে উষ্ণতা কমে।

২. তাপ প্রয়োগ করলে কঠিন পদার্থ সাধারণত তরলে এবং তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়। আবার তাপ অপসারণ করলে বিপরীত ঘটনা ঘটে। তবে কর্পূর, আয়োডিন, ন্যাপথলিন প্রভৃতি কঠিন পদার্থে তাপ প্রয়োগ করলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়।

৩. তাপ প্রয়োগে বস্তুর দৈর্ঘ্য, ক্ষেত্রফল ও আয়তনের প্রসারণ হয়।

৪. তাপ প্রয়োগে চুম্বকের চৌম্বকত্ব নষ্ট হয়। আবার ধাতব পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা হ্রাস পায়। এগুলো ছাড়াও তাপ প্রয়োগে অনেক সময় রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। কখনো বস্তুর দহন ঘটে, আবার বেশি তাপ প্রয়োগে অনেক বস্তু উজ্জ্বল্য হয়।

উত্তর: ঘ. এ পৃথিবীতে মানুষের এবং সব জীবজন্তুর বেঁচে থাকার ও গাছপালা জন্মানোর জন্য তাপের প্রয়োজন। এ তাপ আমরা পাই সূর্য থেকে। সূর্যের তাপই পৃথিবীকে উত্তপ্ত রাখে। উদ্ভিদের সালোক-সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি আসে সূর্য থেকে। এ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করে। মানুষ ও সব প্রাণী তাদের খাদ্যের জন্য উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং আমরা বলতে পারি, আমাদের খাদ্যের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস হলো সূর্য। আবার গাছপালা বা জীবজন্তু মারা যাওয়ার পর লাখ লাখ বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকার পর কয়লা, গ্যাস বা তেলে রূপান্তরিত হয়। অর্থাৎ কয়লা, গ্যাস ও তেলের শক্তির উৎসও প্রকৃতপক্ষে সূর্য। সুতরাং প্রত্যক্ষভাবে কয়লা, গ্যাস ও তেলকে তাপের উৎস হিসেবে দেখা গেলেও প্রধান উৎস হলো সূর্য।

-শিক্ষাসাগর ডেস্ক