২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘গ্রন্থিকগণ কহে’ নাটক নিয়ে ভারত যাচ্ছে কাহালু থিয়েটার

‘গ্রন্থিকগণ কহে’ নাটক নিয়ে ভারত যাচ্ছে কাহালু থিয়েটার

সংস্কৃতি ডেস্ক ॥ বগুড়ার কাহালু থিয়েটার ভারতে নাটক মঞ্চায়নের জন্য আমন্ত্রিত হয়েছে। দলসূত্রে জানা গেছে ভারতের রায়গঞ্জের বিধানমঞ্চে দেবীনগর জাগরী থিয়েটার গ্রুপ ‘জাগরী নাট্য উৎসব-২০১৯’-এর আয়োজন করেছে। উৎসবে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ‘গ্রন্থিকগণ কহে’ নাটকটি মঞ্চস্থ করবে কাহালু থিয়েটার। ‘গ্রন্থিকগণ কহে’ নাটকটি রচনা করেছেন ড. সেলিম আল দীন। নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এ্যাড পারফর্মেন্স স্টাডিজ বিভাগের খ-কালীন শিক্ষক ড. সাইদুর রহমান লিপন। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করবেন শাহাজাদ আলী বাদশা, সিজুল ইসলাম, ফারহা রহমান স্মৃতি, মুনসুর রহমান তানসেন, সাইফুল ইসলাম, সঞ্চয়িতা সরকার বীথি, সায়ন্তিকা সরকার, ফরিদুর রহমান ফরিদ, গোলাম রব্বানী, আব্দুর রশিদ বুলু, আব্দুল হান্নান, আবু বক্কর সিদ্দিক, আব্দুল আজিজ, মুনসুর রহমান সরদার, ইউসুফ আলী, নয়ন কান্তি সরকার এবং খন্দকার শামসুল আকন্দ। নাটকে আবহসঙ্গীত করেছেন সুভাস চন্দ্র দাস মিঠু, সেকেন্দার আলী মুন্সী, আব্দুল আজিজ, সিদ্দিকুর রহমান এবং ঐশি রায়। নাটকটি প্রযোজনায় সহযোগিতা করেছে কলেজ থিয়েটার, বগুড়া থিয়েটার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট বগুড়া, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার।

কাহালু থিয়েটারের সভাপতি আব্দুল হান্নান জানান, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ভারতের রায়গঞ্জের বিধানমঞ্চে দেবীনগর জাগরী থিয়েটার গ্রুপ আয়োজিত ‘জাগরী নাট্য উৎসব- ২০১৯’-এ মঞ্চায়নের জন্য আমন্ত্রিত হয়েছে কাহালু থিয়েটার। এছাড়া আগামী নবেম্বরে শিলিগুড়ি দর্পণ নাট্যগোষ্ঠীর নাট্যোৎসবেও নাটকটি মঞ্চস্থ হবে। তারও আগে আগামী ১৩ এবং ১৪ সেপ্টেম্বর বগুড়ার কাহালু থিয়েটারের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নাটকটি মঞ্চায়িত হবে। উৎসবে ভারতের শিলিগুড়ি দর্পণ নাট্যগোষ্ঠীও অংশ নেবে।

কাহালু থিয়েটারের ‘গ্রন্থিকগণ কহে’ নাটকের গল্পে উঠে আসে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে টিকে থাকা মানিকগঞ্জের একটি যাত্রা দলের পেছনের গল্প। নাটকের গল্পে দেখা যায় মড়ু ঘোষালের যাত্রা দলের নাম ‘দি নিউ ঘোষাল অপেরা’। সাতদিনের জন্য যাত্রা দলটির বায়না হয় কেরানীগঞ্জে। যাত্রাদলটি মহড়া শেষে কেরানীগঞ্জের পথে রওয়ানা হয়। নায়ক শাকামালের প্রতি নায়িকা নিশির সবসময় দুর্বলতা থাকলেও সে কখনই তা মুখে প্রকাশ করে না। এদিকে শাকামাল প্রবল ব্যক্তিত্বের অধিকারী হওয়ায় নিশির প্রতি নিজের দুর্বলতা কখনই প্রকাশ করে না। কেরানীগঞ্জে যাত্রার আসর শুরুর আগে মেলা কমিটি ও স্থানীয় চেয়ারম্যান শর্ত দেয় প্রিন্সেস নাচাতে হবে। দল টিকে রাখার তাগিদে চেয়ারম্যানের এ অন্যায় শর্ত মালিক মড়ু ঘোষাল এবং কামাক্ষী মেনে নিলেও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য শাকামাল, নিশি, শঙ্কর, চম্পা সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। তারা জানায় সুস্থ ধারার যাত্রাপালার বিপরীতে অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ নাচের কারণে দর্শকরা খারাপ অভ্যাসের দিকে ধাবিত হচ্ছে যা একদিন যাত্রাশিল্প কালের বিবর্তনে ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু মড়ু ঘোষাল স্থানীয়দের শর্তের কারণে পরিস্থিতির চাপে পড়ে প্রিন্সেসকে যাত্রাপালা শুরুর আগে নাচাতে বাধ্য হয় এবং তার যাত্রাদলের অভিনয় শিল্পীদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় প্রিন্সেসের নাচ ভেদ করে ‘রাজকন্যা চম্পাবতী’ পালা দাঁড় করিয়ে দর্শকদের মন জয় করতে। এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় শাকামাল, নিশি, শঙ্কর এবং চম্পা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে এবং তারা তাদের অভিনয় নৈপুণ্যতায় দর্শকদের প্রিন্সেসের নাচকে ভুলিয়ে পুরাণ কথার ‘রাজকন্যা চম্পাবতী’ পালার অভিনয়ে দর্শকদের বিমোহিত করে। এরপর হঠাৎ নতুন সমস্যার সৃষ্টি হয়। যাত্রাদলের নায়িকা নিশিকে নিজের বউ দাবি করে এলাকার গজেন্দ্র নামে এক দুশ্চিরিত্র মাতাল লোক। তখন শাকামাল নিশিকে একান্তে প্রশ্ন করে ঘটনা সত্য কিনা? সেই সঙ্গে প্রথমবারের মতো সে নিশিকে জানায়, সে নিশিকে ভালবাসে আর তাকে নিয়েই সংসার করতে চায়, একসঙ্গে যাত্রায় অভিনয় করতে চায়। প্রতি উত্তরে নিশি জানায়, একদিন যাত্রাদলে তার অভিনয় দেখেই গজেন্দ্র তাকে ঘরে তুলে নেয় কিন্তু বিয়ের পর তাকে যাত্রা করতে বাধা দেয়, কেননা সমাজে থেকে যাত্রা করা যায় না এ হলো সমাজবিরোধী কাজ। অবশেষে নিশি অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে গজেন্দ্রকে ডিভোর্স দিয়ে আবার ফিরে যায় যাত্রাদলে নিজের ভালবাসার মঞ্চে ভাললাগার আসরে। এমন বাস্তব অভিজ্ঞতার কারণে সে শাকামালের প্রস্তাবকে আগ্রাহ্য করে। এ সময় গজেন্দ্র এলাকার চেয়ারম্যান ও গু-াপা-া নিয়ে আসে, নিশিকে ফেরত নেয়ার জন্য হট্টগোল শুরু করে। তখন যাত্রাদলের সব শিল্পী এমনকি ভিলেন কামাক্ষী এবং প্রিন্সেস দিলরুবাও রুখে দাঁড়ায়। এমন দোটানায় সবার অগোচরে নিশি বিষ খেয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয় এবং অন্য ভুবনে যাত্রা শুরু করে।

এদিকে বগুড়ার কাহালুতে দুই দিনব্যাপী নাট্য উৎসবকে কেন্দ্র করে কাহালু থিয়েটারের ‘গ্রন্থিকগণ কহে’ নাটকের চার দিনব্যাপী প্রযোজনাভিত্তিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের অন্যতম সংগঠন কাহালু থিয়েটারের নিজস্ব কার্যালয়ে সম্প্রতি চার দিনব্যাপী প্রযোজনাভিত্তিক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালা পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এ্যান্ড পারফর্মেন্স স্টাডিজ বিভাগের খ-কালীন শিক্ষক নাট্যজন ড. সাইদুর রহমান লিপন, বিশিষ্ট মঞ্চ ও টেলিভিশন অভিনেতা রুবল লোদী এবং কাহালু থিয়েটারের সভাপতি আব্দুল হান্নান। বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা নাট্যাচার্য ড. সেলিম আল দীন রচিত ‘গ্রন্থিকগণ কহে’ নাটকটির প্রযোজনাভিত্তিক কর্মশালা উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কাহালু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদার রহমান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক সাঈদ সিদ্দিকী, বগুড়া ইয়ুথ কয়্যারের সভাপতি আতিকুর রহমান মিঠু, এবং বগুড়া বাউল গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মাসউদ করিম।