২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জন্মাষ্টমীতে যাত্রাপালা ‘প্রভু তুমি সখা তুমি’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী’-কৌরব রাজপুত্র দুর্যোধনের এ দম্ভোক্তি মহাভারতে একটি বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। মহাভারতে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধকে ঘিরে অনেক ট্র্যাজেডির জন্ম। মূলত কৌরবদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে নিজেদের প্রাপ্য বুঝে নিতে গিয়েই পা-বরা এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষে যুগাবতার শ্রীকৃষ্ণের মধ্যস্থাতা সত্ত্বেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। কারণ কৌরব রাজপুত্র দুর্যোধনের ধারণা, সম্পদ ও জনবলের দিক থেকে পা-বকুল তাদের চেয়ে দুর্বল। যুদ্ধে দুর্বল প্রতিপক্ষকে হটিয়ে সা¤্রাজ্যব্যাপী নিজেদের ক্ষমতা বিস্তার অসম্ভব নয়। এ জন্য তার দম্ভোক্তি ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী।’ কিন্তু এই অন্যায় ধর্ম কখনও সমর্থন করে না। আর তাই কৌরবরা শ্রীকৃষ্ণের শান্তি প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে ভগবান স্বয়ং পা-বদের পক্ষ অবলম্বন করেন। কিন্তু কুরু-পা-ব উভয় পক্ষের অনেকেই আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ। এ জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে স্বজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করতে গিয়ে তাদের অনেকে দ্বিধান্বিত। বিশেষ করে তৃতীয় পা-ব অর্জুন যুদ্ধক্ষেত্রে পিতামহ ভীষ্ম এবং অস্ত্র শিক্ষাগুরু দ্রোণাচার্যকে প্রতিপক্ষের অবস্থানে দেখে যুদ্ধ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে মনস্থির করেন। কিন্তু অর্জুন-সখা শ্রীকৃষ্ণ তাকে বোঝান, এ কোন সাধারণ যুদ্ধ নয়। বরং এই ধর্মযুদ্ধ থেকে সরে যাওয়া চরম অধর্ম। তিনি তাই কখনও সখা আবার কখনও প্রভু হিসেবে মহাবীর অর্জুনকে কুরুক্ষেত্রের ধর্মযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেন। মহাভারতের এই ট্রাজেডিপূর্ণ ঘটনা অবলম্বনে ‘প্রভু তুমি সখা তুমি’ যাত্রাপালাটি লিখেছেন শ্যামল দত্ত।

রাজধানীর কে এম দাশ লেনে স্বামী ভোলানন্দগিরি আশ্রমে শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উৎসব উপলক্ষে গীতাসংঘ আয়োজিত অনুষ্ঠানে আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় যাত্রাপালাটি মঞ্চায়ন করবে লোকনাট্য গোষ্ঠী। পালাটি নির্দেশনা দিয়েছেন দলটির কর্ণধার অভিনেতা তাপস সরকার। সহ-নির্দেশনায় শান্তনু সাহা।যাত্রাপালাটির কুশীলবরা হলেন- চন্দন রেজা, তাপস সরকার, এ রহিম, পূবরী দত্ত, পঙ্কজ ভট্টাচার্য, বাপ্পা রায়, মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, রেখা রানী গুণ, এস এম শফি, সুবর্ণা পাল ও অঞ্জন চক্রবর্তী। সার্বিক সহযোগিতায় গীতাসংঘ কেন্দ্রীয় কমিটি।