১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মণিরামপুরে কপোতাক্ষ নদ থেকে বালু উত্তোলন ॥ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

মণিরামপুরে কপোতাক্ষ নদ থেকে বালু উত্তোলন ॥ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ যশোরের মণিরামপুরের মুড়াগাছায় কপোতাক্ষ নদ থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের কারণে নদতীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষ চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় একটি চক্র নির্বিঘেœ অবৈধ এই কাজ অব্যাহত রেখেছে। যা আইন বহির্ভূত উল্লেখ করেছে উপজেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যে অবৈধ বালি ব্যবসায়ীদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় দুর্বৃত্তরা একজন শিক্ষকসহ কয়েকজনকে মারপিট করেছে।

জানা গেছে, উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ডের মুড়াগাছা উত্তরপাড়ায় কপোতাক্ষ নদ থেকে স্যালো মেশিনের মাধ্যমে বালি তুলে তা দুই জায়গায় জমা করছে এলাকার মান্দারের ছেলে গোলাম হোসেন ও তার ভাই মহি। বালি ফেলে রুদ্ধ করা হয়েছে নদে যাওয়ার রাস্তাও। গোলামের বাড়ির পেছন দিয়ে পাইপের মাধ্যমে বালি এনে জমা করা হয়েছে তার বাড়ির পূর্বপাশে। দুটি স্থানে এত বালি জমা হয়েছে যে, দূর থেকে দেখলে বিশাল পাহাড়ই মনে হবে। স্থানীয়দের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে, তারা জানিয়েছেন, বেশ কয়েক বছর ধরে গোলাম ও তার ভাই মহি বালির অবৈধ ব্যবসায় পরিচালনা করছেন। এসব বালি ইমারতের ভীতের কাজে ব্যবহৃত হয়। এর ক্রেতা সাধারণ মানুষ এমনকী ঠিকাদাররাও। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, মুড়াগাছার ওই এলাকায় মুসলিমের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের বাস রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন দাস, পাল, ও জেলে সম্প্রদায়ের মানুষ। নদ তীরবর্তী পৃথক তিনটি স্থানে এদের বসবাস। জেলে সম্প্রদায়ের মানুষ এই নদ থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করার পাশাপাশি গোসল করা থেকে শুরু করে পরিবারের নিত্য কাজকর্ম নদের পানি দিয়েই সম্পন্ন করেন। কিন্তু, বালির অবৈধ কারবারকে নিরবচ্ছিন্ন করতে গোলাম ও তার ভাইয়েরা এসব মানুষকে নদে যাওয়া থেকেও বিরত থাকতে বাধ্য করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে জানার জন্যে রোহিতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু আনসার সরদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। রোহিতা ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর মানোয়ার হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘বালি তোলার বিষয়টি শুধু আমি কেন এলাকার সবাই জানে। এটি রাষ্ট্রবিরোধী একটা কাজ। যারা বালি তুলছে তাদের সাথে চেয়ারম্যান সবসময় উঠাবসা করে। সে কারণে কেউ ভয়ে কিছু বলে না।’ মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, এ ধরনের কোনো তথ্য তার জানা নেই। কোনো নদীতে বালি মহাল থাকলে সেখান থেকে বালি উত্তোলন করা যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেক্ষেত্রে ভূমি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়াল অনুযায়ী বিভাগীয় কমিশনারের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। মণিরামপুরে এ ধরনের কোনো অনুমতি নেই। থাকলে আমি সেটা জানতাম।’ ‘এ বিষয়ে আমি এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি’-বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।