১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিএনপি ও খালেদার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে ॥ রিজভী

 বিএনপি ও খালেদার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে ॥ রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপি ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। তাঁর যে সংগ্রাম তা হচ্ছে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম। আজ খালেদা জিয়ার পর্বতসম জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে শুধুমাত্র প্রতিহিংসাপরায়ণতায় ৫৬১ দিন হয়ে গেল তাঁকে কারাবন্দী রাখা হয়েছে।

বিএনপির মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী বলেন, যে কোনো সরকারের আমলে কখনও কখনও অনাকাঙ্খিত কিছু ঘটনা ঘটে যার জন্য সে সরকার দায়ী হতে পারে না। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বহুমুখী চক্রান্তকারী এজেন্টরা দেশে-দেশে নানা নাশকতা করেছে। তিনি বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার জন্য যদি বিএনপি দায়ী হয়, তাহলে পিলখানা হত্যাকান্ডের জন্য কেন আওয়ামী লীগ দায়ী হবে না?

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলছেন ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান জড়িত। কিন্তু তারা যদি জড়িত হতো তাহলে এতো বড় ঘটনার পর তাদেরতো দেশ থেকে সরে যাওয়ার কথা। অপরাধ করলে তারেক রহমান দেশ থেকে সরে যেতেন। তিনিতো দেশ থেকে কোথাও যাননি।

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনা গভীর নীলনকশার অংশ বলে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘ওই ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ জড়িত ছিল কি না তা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে’। কারণ, আমরা প্রথম থেকেই দেখছি আওয়ামী লীগ ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা ও মামলা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনীতি করছে। তার বড় প্রমাণ হলো সম্পূরক চার্জশিটের নামে এই মামলায় তারেক রহমানকে জড়িয়ে ফরমায়েশি রায়ে সাজা দেয়া। তবে এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতো।

বর্তমান সরকার জোর করে ক্ষমতা ধরে রেখে দেশে সবকিছু করছেন অভিযোগ করে রিজভী বলেন, আইন, প্রশাসন ও বিচার বিভাগসহ সব সরকারের নিয়ন্ত্রণে। এখন যে বিচার হচ্ছে এটা ক্রোধ বাস্তবায়নের বিচার। এর কোনো জবাব নেই। এর জবাব হচ্ছে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এ সরকারের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়েই জনগণ জবাব দে কোন ঘটনার জন্য কে দায়ী।

রিজভী বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতারা ইনিয়ে-বিনিয়ে ২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনা নিয়ে বেসামাল ভাষায় খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের ওপর দোষ চাপাতে অক্লান্ত চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে অপপ্রচারকে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করা যাবে না। তিনি বলেন, বিএনপি ও দলের নেতাদের বিরুদ্ধে এহেন অলীক অপপ্রচার অতীতেও হয়েছে। নবাব সিরাজ উদ্দৌলাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্য নিয়ে সাম্রাজ্যবাদীরা ‘অন্ধকূপ হত্যা’র কাহিনি রচনা করেছিল। পরবর্তীতে গবেষণামূলক প্রন্থে এই কাহিনির অসত্যতা ও অবাস্তবতা বেরিয়ে এসেছে। এটি তৎকালীন সাম্রাজ্যবাদী শাসকগোষ্ঠীর মিথ্যা প্রচার বলে প্রমাণিত হয়েছে।

রিজভী বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানসহ বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদের নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ওয়ান-ইলেভেনের মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের সময় এ মামলার চার্জশিটে তারেক রহমানের নাম ছিল না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাদের একান্ত অনুগত, বিশ্বস্ত ও দলীয় লোক আব্দুল কাহার আকন্দকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয় শুধুমাত্র বিএনপি নেতাদেরকে বিপদাপন্ন করার জন্য। তার আগে কাহার আকন্দ পুলিশ ডিপার্টমেন্ট থেকে অবসরে গিয়ে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন, এমনকি ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য তাকে পুলিশ বিভাগে ফের নিয়োগ দিয়ে এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা করা হয় ২০০৯ সালে।

রিজভী বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের পর ১৬৪ ধারায় মুফতি হান্নানের জবানবন্দিতে তারেক রহমানের নাম ছিল না। শুধু এ মামলায় তারেক রহমানের নাম বলানোর জন্য অন্য মামলায় ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করা হয় মুফতি হান্নানকে। তার হাত-পায়ের নখ পর্যন্ত উৎপাটন করে ফেলা হয়। তারেক রহমানের নাম বলতে ও স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেন কাহার আকন্দ। যার কোনও আইনগত ভিত্তি নেই। পৃথিবীর কোন দেশেই এ ধরনের নজির নেই। পরবর্তীতে আদালতে আবেদন করে মুফতি হান্নান তার স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যও প্রত্যাহার করে নেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেস্টা নাজমুল হক নান্নু, দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

শরীফুল ইসলাম