২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হাবিপ্রবির এক শিক্ষকের অনশন

   হাবিপ্রবির এক শিক্ষকের অনশন

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর ॥ শাসনের বিভিন্ন অনিয়ম সম্পর্কে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলায় বিদেশে উচ্চ শিক্ষা (পিএইচডি) গ্রহণ করতে পারছেন না দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)’র এক শিক্ষক। এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিও (গর্ভমেন্ট অর্ডার-সরকারী অনুমতি) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতিপত্র না পাওয়ার দাবিতে অনশনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ওই শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষকের নাম শক্তি চন্দ্র মন্ডল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড প্রসেসিং এ- প্রিজারভেশন বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক। ডায়াবেটিক থাকায় অনশনে প্রায় ২ ঘন্টা দাড়িয়ে থাকার পর তিনি মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে অসুস্থ্য হয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে একাই দাড়িয়ে জিও না দেয়ার জবাব চেয়ে অনশন শুরু করেন তিনি। এর প্রায় ২ ঘন্টা পরে সেখানে মাথা ঘুরে পড়ে যান। পরে অন্যান্য শিক্ষকরা তাকে বিশ্বববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করে।

জানা যায়, চলতি বছরে বাংলাদেশ থেকে ৫ জন শিক্ষককে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য স্কলারশিপ দেয় কোরিয়ান সরকার। যাদের মধ্যে ফুড সায়েন্স বিষয়ে স্কলারশিপ পেয়েছেন দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগি অধ্যাপক শক্তি চন্দ্র মন্ডল। এরপর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরে জিও ও অনুমতির জন্য আবেদন করেন। এ ব্যাপারে জিও দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু জিওতে তারিখ ভুল থাকায় চলতি আগষ্ট মাসের ৬ তারিখে সংশোধনের জন্য আবেদন করেন তিনি। কিন্তু তাকে পুনরায় আর জিও দেয়া হয়নি এমনকি অনুমতিপত্রও দেয়া হয়নি। এর প্রেক্ষিতে ২১ আগষ্ট তাকে একটি চিঠি দিয়ে প্রশাসন জানিয়ে দেয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রদানের ব্যাখ্যা দাখিলের পর উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশ গমনের অনুমতিসহ জিও প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

শিক্ষক শক্তি চন্দ্র মন্ডল বলেন, উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের জন্য (পিএইচডি) ২ মাস আগে আমি কোরিয়া সরকারের স্কলারশিপ পেয়েছি। এরপর বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর গত ৬ আগষ্ট জিও ও ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য আবেদন করি। কিন্তু আমাকে ছাড়পত্র না দেয়ায় এবং সংশোধিত জিও না দেয়ায় আমি কোরিয়ায় যেতে পারছি না। আমার ফ্লাইট ছিল আজকে (বৃহস্পতিবার)। এরই মধ্যে আমি একটি চিঠি পেয়েছি যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, সাংবাদিকদের সাথে কথা বলায় আমাকে জিও দেয়া হচ্ছে না। এর যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদানের পর আমাকে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ গমনের অনুমতিসহ জিও প্রদানের বিষয়ে বিবেচনা করা হবে।’ তিনি বলেন, আমাকে বিদেশে যেতে না দিলে আমার ক্ষতির পাশাপাশি দেশের ভাবমুর্তি নষ্ট হবে। যাতে করে আগামীতে বাংলাদেশ থেকে স্কলারশিপ বন্ধও করে দিতে পারে কোরিয়ান সরকার।

এ ব্যাপারে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ডা. ফজলুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমুর্তি যাতে অক্ষুন্ন থাকে তা সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীর দায়িত্ব। শিক্ষক শক্তি চন্দ্র মন্ডল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করেছে। সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার পাশাপাশি ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের ষ্ট্যাটাস দিয়েছে। যার কারনে এসব অভিযোগের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এসবের ব্যাখ্যা দিলেই তাকে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ গমনের অনুমতিসহ জিও প্রদান করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, প্রশাসনে জামায়াতীকরন এবং বিতর্কিত ও আঞ্চলিকতামূলক সিদ্ধান্তের কারন দেখিয়ে ৭ জন শিক্ষক তাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে চিঠি দেয়। এরই প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহকারী প্রক্টর সৌরভ পাল চৌধুরী, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সহকারী হল সুপার ফরিদুল্লাহ এবং ডরমিটরি-২-এর সহকারী হল সুপার শক্তি চন্দ্র ম-লকে তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহত দেয়। একইসাথে প্রেস কনফারেন্স করে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলা, প্রশাসনের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তকর তথ্য প্রদান করা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তকর তথ্য প্রকাশ করায় কারণ দর্শাতে বলা হয়।