১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের তিন দিনের ঢাকা সফরটি নানা কারণে তাৎপর্যপূর্ণ ও গুরুত্ববহ। বিশেষ করে সেই সময়ে যখন সে দেশের সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫(ক) ধারা বাতিলের ফলে জম্মু-কাশ্মীরে চলছে টান টান উত্তেজনা-অস্থিরতা এবং তজ্জনিত কারণে চিরবৈরী পাকিস্তানের সঙ্গে প্রায় যুদ্ধাবস্থা পরিস্থিতি। তবে বিষয়টি প্রাধান্য পায়নি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে। এ সম্পর্কে বাংলাদেশের ভাষ্যÑ কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে সবিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে দু’দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি। এসবের মধ্যে রয়েছে দু’দেশের মধ্যে প্রবহমান তিস্তাসহ ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে একটি ফর্মুলা বের করার আন্তরিক প্রচেষ্টা, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, জঙ্গী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দমনে পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদান, সীমান্ত সমস্যা তথা বেড়া নির্মাণ ও বাংলাদেশী হত্যা বন্ধ, সড়ক-নৌ-রেল যোগাযোগ বৃদ্ধি, সর্বোপরি বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রিত ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভারতের সহায়তা প্রদান ইত্যাদি। বৈঠকে অসমের নাগরিকপঞ্জি প্রসঙ্গটি উত্থাপিত হলেও দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীই জোরালোভাবে বলেন যে, এটি নিতান্তই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে ভারতের সমর্থন পাওয়ার বিষয়টিও অবশ্যই তৎপর্যপূর্ণ। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন যে, বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের স্বার্থেই এ সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের আরও সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি রাখাইনের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভারত সহযোগিতা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর বাইরেও দু’দেশের মধ্যে সাশ্রয়ী জলবিদ্যুত খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা বন্দর ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ভারতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রীয় সফরে। তখন এসব বিষয় নিয়ে আরও বিস্তারিত আলাপ-আলোচনাসহ একাধিক চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।

বাংলাদেশ ও ভারত দক্ষিণ এশিয়ার দুটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র। দুটি দেশ একই সঙ্গে সার্ক, বিমসটেক, আইওয়া এবং কমনওয়েলথের সাধারণ সদস্য। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দু’দেশের মধ্যে জোরালো সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের এক কোটি উদ্বাস্তুকে আশ্রয়দান ও স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বাংলাদেশ ও ভারত দু’দেশই সন্ত্রাসবাদবিরোধী কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখছে। তারা দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় এলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে নবদিগন্তের সূচনা হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের বর্তমান সম্পর্ককে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার রোল মডেল হিসেবে আখ্যায়িত করা চলে। ২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় প্রতিশ্রুত ১১টি উন্নয়ন সহযোগী উদ্যোগের অধিকাংশই এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তিস্তাসহ দু’দেশের অভিন্ন নদীসমূহের পানি বণ্টন সমস্যারও সমাধান হবে নিশ্চয়ই। বাংলাদেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে মত দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ঐতিহাসিক হিসেবে অভিহিত করে আমাদের রাষ্ট্রপতি বলেছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল ও ভারত (বিবিআইএন) উদ্যোগসহ দুটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক বহুমাত্রিক হচ্ছে। দেশবাসীর প্রত্যাশা, দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং উভয় দেশই এই সুসম্পর্ক থেকে লাভবান হবে।

নির্বাচিত সংবাদ