২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এনআরসি ইস্যু- টার্গেট বাংলাদেশী ও নেপালীরা

  • ভারত হয়ে উঠতে পারে রাষ্ট্রবিহীন মানুষের দেশ

অবৈধ নাগরিক চিহ্নিত করার নামে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অসম থেকে সংখ্যালঘু মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। খবর ইউএস নিউজ অনলাইনের।

ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক কারণে অসমে জনসংখ্যা বেড়েছে। এ রাজ্যে শিল্পায়ন বৃদ্ধির পাশাপাশি অভিবাসীর সংখ্যাও বেড়েছে। বিশেষ করে অসমের লাগোয়া বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে অনেক মানুষ এসে ভারতের পাহারবেষ্টিত এই রাজ্যে বসতি গেড়েছে। তাই এই এলাকার মানুষের প্রকৃত নাগরিকত্ব প্রমাণ করা অনেকটা কষ্টসাধ্য। বিশেষ করে চলতি মাসে ভারতের একমাত্র মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়ার পর অসমের লাখ লাখ মানুষের মধ্যে ভয় বেড়েছে। চলতি বছর লোকসভা নির্বাচনে অসমসহ ভারতের অন্যান্য রাজ্যে এনআরসি কার্যক্রমের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসেন মোদি। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বিল মুসলমান সম্প্রদায় ছাড়া অন্যান্য ধর্মের মানুষের মধ্যেও বড় পরিসরে ধর্মীয় বিভেদ, নাগরিকত্ব ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে বিভেদ তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ফলে বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের ইমেজের ওপর আঘাত আসতে পারে।

নিউইয়র্কের বার্ড কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক ও অসমের রাজনীতি ও ইতিহাস বিশেষজ্ঞ সঞ্জিব বড়ূয়া বলেন, এই নাগরিক পঞ্জির ফলে ভারতের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশের মধ্যে নাগরিক অধিকার কমে যাওয়ার একটি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০১৮ সালে ৩ কোটি ৩০ লাখ লোক তাদের পূর্বপুরুষরা ভারতীয় অথবা অসমের নাগরিক এবং তারা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগ থেকে এই দেশে বাস করছে-এ সংক্রান্ত নথি ও যাবতীয় প্রমাণপত্র জমা দিয়েছে। গত বছরের জুলাই মাসে এই নাগরিক তালিকার একটি খসরা প্রকাশ করা হয়। এতে প্রায় ৪০ লাখ লোকের নাম বাদ যায় যা অসমের মোট জনসংখ্যার ১২ শতাংশ। এই সংখ্যা যদি বাতিল না হয় অথবা প্রাথমিক তালিকা থেকে বাদপড়া এসব লোকজন যদি নতুন আবেদনে তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে না পারে তাহলে বিশ্বের বৃহৎ গণতন্ত্র ভারত বৃহৎ রাষ্ট্রবিহীন মানুষের দেশে পরিণত হবে।