২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বজ্রপাতে ৮ জনের মৃত্যু

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে অন্তত ৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বগুড়া ও ফরিদপুরে তিনজন করে এবং মাগুরা ও গলাচিপায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতার।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় বৃহস্পতিবার বজ্রপাতে দম্পতিসহ ৩ জন মারা গেছে। আহত হয়েছে ২জন। যারা মারা গেছেন তারা হলেন- আমিরুল ইসলাম (৪০), ফাহিমা (৩০) ও সুমন মিয়া (৩২)। এ সময় পাঁচটি গরুও মারা যায়।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের ডাকাতমারার চরে বজ্রপাতে এক দম্পতি মারা যায়। স্থানীয়রা জানায়, ঘটনার সময় ওই এলাকার নূরু প্রামানিকের ছেলে আমিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ফাহিমা বেগম মাঠ থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। এসময় তাদের সঙ্গে থাকা ৫টি গরুও মারা যায় । একই সময় সদর ইউনিয়নের চর বটিয়া এলাকার বাটিয়া চরের তহসিনের ছেলে কৃষক সুমন মিয়া পাট ধোয়ার সময় বজ্রপাতে আহত হয়। তাকে সারিয়াকান্দি হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া নিজাম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী তানিয়া খাতুন (১৫) স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে আহত হয়। তানিয়া কুতুবপুর ইউনিয়নের দেবডাঙ্গা গ্রামের মোমিন প্রামানিকের মেয়ে। বজ্রপাতে আহত হন- সারিয়াকান্দি গ্রোয়েন বাঁধ এলাকার চায়ের দোকানি সুমন(২১)। ওই সময় সে চায়ের দোকানে ছিল। সে পৌর এলাকার ধাপ গ্রামের তবিবর রহমান ফকিরের ছেলে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ফরিদপুর ॥ বজ্রপাতে নারী, কৃষক ও প্রবাসীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে জেলার সালথা ও নগরকান্দা উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। সালথায় বজ্রপাতে মারা গেছেন মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর স্ত্রী হাসি বেগম (৪৫)। হাসি বেগম নিজ বাড়িতে রান্নাঘরে রান্না করছিলেন। ওই সময় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটলে তিনি গুরুতর আহত হন।

এলকাবাসী তাকে উদ্ধার করে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এস এম ফরহাদ তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এদিকে সালথার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের বাটা গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল মাতুব্বর (৪৭) বজ্রপাতে মারা গেছেন। সৌদি প্রবাসী বিল্লার মাতুব্বর ওই গ্রামের মৃত ইসমাইল মাতুব্বরের ছেলে। স্থানীয় ইউপি সদস্য ইয়াদ আলী বলেন, দুপুরে বিল্লাল তার ছেলেকে নিয়ে বাড়ির পাশে জমিতে কাজ করছিলেন। ওই সময় বজ্রপাতে বিল্লাল ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ছাড়া বজ্রপাতে মারা গেছে নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের দক্ষিণ বিল নালিয়া গ্রামের কৃষক ইমরান বেপারি (২২)। তিনি ওই গ্রামের পাচু বেপারির ছেলে।

তালমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তৈয়বুর রহমান জানান, ইমরান দুপুর দেড়টার দিকে বাড়ির পাশে কুমার নদে পাট ধোয়ার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ওই সময় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটলে ইমরান নিহত হন।

মাগুরা ॥ বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলার বাড়িয়ালা গ্রামে বজ্রপাতে অলিপ বিশ্বাস (৩২) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত অলিপ বিশ্বাস মাগুরা সদর উপজেলার নলদাহ গ্রামের অরুপ বিশ্বাসের ছেলে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার বাড়িয়ালা গ্রামে বৃষ্টির মধ্যে ট্রাক্টরে জমিচাষ করার সময় বজ্রপাতে অলিপ বিশ্বাস গুরুতর আহত। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গলাচিপা, পটুয়াখালী ॥ উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের চরহরিদেবপুর গ্রামে বজ্রপাতে মতিউর রহমান (৬৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে হাল্কা বৃষ্টির সময় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খালিদুল ইসলাম স্বপন নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, সকালে হাল্কা বৃষ্টি হচ্ছিল। এর মধ্যেই মতিউর রহমান বাড়ির পাশে নিজের জমিতে আমন ধানের বীজ রোপণ করছিলেন। এ সময় বজ্রপাত শুরু হয়। মতিউর রহমান ক্ষেত থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিলেও বেশিদূর যেতে পারেননি। আকস্মিক বজ্রপাতে ক্ষেতের মধ্যে তার মৃত্যু হয়।