১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যশোর থেকে ঢাকায় পৌঁছতে সময় লাগবে ৩ ঘণ্টা

  যশোর থেকে ঢাকায় পৌঁছতে সময় লাগবে ৩ ঘণ্টা
  • ঢাকা-নড়াইল-যশোর রেললাইন নির্মাণ কাজ শুরু

সাজেদ রহমান, যশোর/ রিফাত-বিন-ত্বহা, নড়াইল থেকে ॥ যশোর-নড়াইলের মানুষের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে। তাদের স্বপ্ন ছিল অল্প সময়ে ট্রেনে করে পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকায় যাওয়া। সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-নড়াইল-যশোর রেল লাইনের কাজ শুরু হয়েছে। নড়াইলে প্রায় ২২ কিলোমিটার এলাকায় বালু ভরাট করে রোলার দিয়ে সমান করা এবং চারটি রেল সেতু নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ট্রেনে ৩ ঘণ্টায় যশোর থেকে ঢাকায় যাওয়া যাবে। স্বপ্নের এই রেল লাইনের কাজ দেখতে প্রতিদিন আশপাশের গ্রামের অনেক মানুষ ভিড় করছেন।

সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে নয়টি জেলার ওপর দিয়ে যশোর পর্যন্ত ১শ’ ৭২ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ (ব্রডগেজ ও মিটারগেজ) আধুনিক এ রেল লাইনটি নির্মাণ কাজ করছে চীনের চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ লিমিটেড। এ রেল লাইনটি ঢাকা-মাওয়া-কালনা-নড়াইল হয়ে যশোরের রূপদিয়া ও সিঙ্গিয়া রেল লাইনের সঙ্গে যুক্ত হবে। এ সংযোগস্থল থেকে একটি লাইন রূপদিয়া হয়ে বেনাপোল বন্দরে গিয়ে এবং অপরটি সিঙ্গিয়া-বাণিজ্যিক শহর নওয়াপাড়া হয়ে শিল্পাঞ্চল খুলনায় গিয়ে শেষ হবে। নড়াইল অংশে ২২ কিলোমিটারের মধ্যে লোহাগড়া পৌরসভার নারানদিয়া ও নড়াইল পৌরসভার দুর্গাপুর-ভওয়াখালী এলাকায় দুটি রেল স্টেশন হবে। ঢাকা থেকে লোহাগড়ার রেল স্টেশনের দূরত্ব ১শ’ ২৩ ও দুর্গাপুর-ভওয়াখালী রেল স্টেশনের দূরত্ব ১শ’ ৩৮ কিলোমিটার। ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের এই উপ রুটটির কাজ ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নড়াইল সদরের দুর্গাপুর, রামচন্দ্রপুর, কইবিল, নলাবিল, লোহাগড়ার নারানদিয়া, মোচড়া, বসুপটিসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রাথমিকভাবে রেল লাইনে বালি ভরাট ও রোলার দিয়ে সমান করা এবং রেল সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। নড়াইল অংশে মোট চারটি নদীর ওপর চারটি রেল সেতু নির্মিত হবে। কালনা সেতু থেকে ৮শ’ মিটার উত্তরে মধুমতি নদীর ওপর ১ হাজার ২শ’ ১২ মিটার, লোহাগড়ার বসুপটি এলাকায় নবগঙ্গা নদীর ওপর ১শ’ মিটার, নড়াইল সদরের বরাশোলা এলাকায় চিত্রা নদীর ওপর ১শ’ মিটার এবং তুলারামপুর এলাকায় আফরা নদীর ওপর ১শ’ মিটার রেল সেতু নির্মাণের প্রাথমিক কাজও শুরু হয়েছে। এসব কাজ দেখতে আশপাশের গ্রামের অনেক মানুষ ভিড় করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নড়াইল জেলায় রেল সড়কে ২৮টি মৌজার মধ্যে ৩শ’ ৯০ দশমিক ৫২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। ব্যক্তির জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনার জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ জমির মালিকরা ৪শ’ ৭১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন। তবে অধিগ্রহণ হওয়া জমির ক্ষতিপূরণের টাকা অধিকাংশ মালিক এখনও পাননি। এদিকে জানা গেছে, নড়াইলে বাস্তুচ্যুত জমির মালিকদের পুনর্বাসনের জন্য একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান কাজ করবে। তাদের নিয়োগদানের প্রক্রিয়া চলছে।

সড়ক ও রেল সেতু বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি নড়াইলের সাবেক আহ্বায়ক শরীফ মুনির হোসেন পদ্মা সেতু চালুর সঙ্গে সঙ্গেই এ রেললাইনের কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান। তিনি বলেন, এটি চালু হলে আঞ্চলিক ও জাতীয় যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে। বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলে আমদানি-রফতানিকৃত পণ্য পরিবহনে সুবিধা পাবেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২০ জেলার যাতায়াত সহজ এবং সময় বাঁচবে। এক কথায় বৃদ্ধি পাবে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ; পাল্টে যাবে মানুষের জীবনযাত্রার মান। এছাড়াও ঢাকার ওপর চাপ কমবে বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নড়াইল ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু রেল লাইন প্রকল্পের নড়াইল ও যশোর অংশের কাজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নড়াইল ক্যাম্পের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ন করা হচ্ছে। রেল লাইনের কাজে নড়াইলবাসীর যথেষ্ট আগ্রহ এবং সহযোগিতা রয়েছে। জোরেশোরে কাজ এগিয়ে চলেছে।

নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজী মাহাবুবুর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, প্রথম অবস্থায় মাঠের উঠতি ফসলের ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে। এখন জমির ক্ষতিপূরণও দেয়া শুরু হয়েছে। বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে পর্যায়ক্রমে প্রকৃত মালিকদের টাকা দেয়া হবে।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের উপ-পরিচালক (রিসেটেলমেন্ট) মহাব্বতজান চৌধুরী জানান, পদ্মা সেতু চালুর দিন থেকেই ঢাকা-নড়াইল-যশোর ট্রেন চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেভাবেই কাজ চলছে।

নির্বাচিত সংবাদ