১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভাওয়াইয়া যুবরাজ কছিম উদ্দীন

  • ড. মোঃ এরশাদুল হক

অনুপম সৌন্দর্যবোধ, অপূর্ব মননশীলতা, মিত আদর্শের তেজদীপ্তি, দুর্নিবার মূল্যবোধ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত সৈনিক হিসেবে যে কয়েকজন প্রথিতযশা ক্ষণজন্মা ও বিদগ্ধ সঙ্গীতশিল্পীর বিচরণে উত্তরবঙ্গ ধন্য হয়েছে তাঁদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা কছিম উদ্দীন বিশেষভাবে অগ্রগণ্য। ভাওয়াইয়ার অঙ্গনে শিল্পী কছিম উদ্দীন এক বিস্ময়কর নাম। ভাওয়াইয়া স¤্রাট আব্বাস উদ্দীনের পর ভাওয়াইয়া সঙ্গীতে শিল্পী কছিম উদ্দীন আজও নিষ্প্রভ হয়ে আছেন। তিনি ছিলেন একাধারে গীতিকার, সুরকার, দোহার এবং অভিনেতা। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এ শিল্পী ভাওয়াইয়া সঙ্গীতে এক নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচন করেন। ভাওয়াইয়া সঙ্গীতে যোগ করেন এক নতুন মাত্রা। বলা যায়, বিশ্বের দরবারে ভাওয়াইয়াকে পরিচিত করে তুলতে আব্বাস উদ্দীনের পর যে নামটি সর্বাগ্রে স্মরণীয় সেটি হলো কছিম উদ্দীন। তিনি তাঁর সঙ্গীত সাধনার মাধ্যমে ভাওয়াইয়া সঙ্গীতে নিনাদিত করেছেন গ্রাম বাংলার নর-নারীর প্রাত্যহিক জীবনচিত্র, অন্যায়-অসঙ্গতির বিরুদ্ধে অগ্নিবাণীর সুর ঝঙ্কার। ভাওয়াইয়াপ্রেমীদের মনে তাঁর নিরন্তর অবস্থান তাঁর সুরের মহিমাকেই বারবার সমুন্নত করেছে। তিনি জীবনকে দেখেছেন স্বচ্ছ সুন্দর স্ফটিকের মতো। নির্ভেজাল ব্যক্তিত্বের এবং অনুপম পরিশীলতার মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর প্রত্যেকটি গানের কথাকে সাজিয়েছেন নিজস্ব চিন্তা-চেতনা ও বিবেক দিয়ে। ক্ষণজন্মা এক মহান পুরুষ তিনি। তিনি মানবিকতার মানসপটে সৌন্দর্যের জয়গানকে সম্বল করে এগিয়েছেন ভাওয়াইয়ার জগতে, সমৃদ্ধ করেছেন ভাওয়াইয়ার ভা-ারকে। শুধু ভাওয়াইয়া শিল্পী হিসেবে নন তিনি এক মহান, নির্ভীক, অকুতোভয় যোদ্ধা হিসেবে গানের মাধ্যমে এদেশের নিপীড়িত, নিষ্পেষিত, বঞ্চিত আপামর জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করেছেন।

গানের দেশ, বানের দেশ উত্তরবঙ্গ। এই উত্তরবঙ্গে প্রয়াত শিল্পী যুবরাজ ১৯৩০ সালের ১২ মার্চ লালমনিরহাট জেলার তিস্তা রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিমে তিস্তা নদীর তীরবর্তী রতিপুর গ্রামে এক মৌলভী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মৌলভী ছমির উদ্দীনের দ্বিতীয় স্ত্রী কছিরন নেছার গর্ভে জন্ম নেন ছবিরন নেছা ও কছিম উদ্দীন। ভাই-বোনদের মধ্যে কছিম উদ্দীন ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। কছিম উদ্দীন দেখতে কালো হওয়ায় অনেকে তাঁকে কালু আবার কেউ কেউ তাঁকে ভাকা বলে সম্বোধন করতেন। ছোটবেলা থেকেই কছিম উদ্দীন ছিলেন ডানিপিটে স্বভাবের। বাড়ির পাশ দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীতে সাঁতার কাটা, গাছে গাছে পাখির ছানা খোঁজা এবং মাঠে কিংবা নদীর তীরে গলা ছেড়ে গান গাওয়া ছিলো তাঁর নিত্যদিনের অভ্যাস।

শৈশবে শিল্পী কছিম উদ্দীন- এর পিতৃবিয়োগ ঘটে। পিতাকে হারিয়ে নিদারুণ দারিদ্র্য এবং অভিভাবকহীন অবস্থায় তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন। অন্যদিকে বিমাতা ভ্রাতাদের অত্যাচার তাঁর জীবনকে আরো অতিষ্ঠ করে তোলে। এমনকি বিমাতা ভ্রাতারা সঙ্গীত পাগল কছিম উদ্দীনকে গীদাল বলে কটাক্ষ করতেন। এসব অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে তিনি একদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন। আশ্রয় নেন একই এলাকার বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও চিকিৎসক ডা. মতিয়ার রহমানের বাড়িতে। সেখানে তিনি রাখালের কাজ করতেন। বিনিময়ে তিনবেলা খাবার এবং কলের গান শোনার সুবর্ণ সুযোগ ছিলো তাঁর। এ সুযোগ শিল্পী কছিম উদ্দীনের জন্য ছিলো বিশাল প্রাপ্তি। কেননা সঙ্গীত পাগল কছিম উদ্দীনের গান শেখার প্রথম ও প্রধান মাধ্যম ছিলো কলের গান। কলের গান শুনে তিনি হুবহু নকল করে গাইতে পারতেন। তাঁর প্রতিভা দেখে ডা. মতিয়ার রহমান বিমোহিত হন। ডা. মতিয়ার তাঁকে গ্রামের বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেন। কিছুদিনের মধ্যেই কণ্ঠের যাদুকরি ছোঁয়ায় তিনি শিক্ষকদের প্রিয় পাত্র হয়ে ওঠেন। শিক্ষকরা তাঁর গান শুনে প্রশংসা করতেন এবং তাঁকে উৎসাহ দিতেন। কিন্তু তিনি পড়াশুনায় বেশিদূর অগ্রসর হতে পারেননি। প্রাথমিক শিক্ষার গ-ি অতিক্রম না করেই তাঁর শিক্ষা জীবনের ইতি ঘটে। এর কিছুদিন পরেই তিনি যোগ দেন গ্রাম্য গানের দলে। গ্রামে অনুষ্ঠেয় আজো গীদালের শেখ ফরিদ পালায় তিনি দোহারের ভূমিকায় অংশগ্রহণ করে সকলের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। কছিম উদ্দীনের অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে তৎকালীন নামকরা নগেন চন্দ্র কুশানী তার দলে যোগ দিতে অনুরোধ করেন। নগেন চন্দ্র কুশানীর দলে যোগ দিলেও শিল্পী বেশিদিন দলে থাকতে পারেননি। কারণ নগেনের ভাইঝি শ্যামলিনী দেবীর প্রেমে পড়ার কারণে তাঁকে দল ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এরপর তিনি যোগ দেন রজনী কান্তের দলে। এরই মধ্যে তাঁর মায়ের মৃত্যু ঘটে। একদিকে প্রেমে ব্যর্থতা, অন্যদিকে মাতৃবিয়োগে তিনি বিহ্বল হয়ে পড়েন।

সঙ্গীতাঙ্গনে কছিম উদ্দীনের প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিক্ষাগুরু নেই। তবে আব্বাস উদ্দীন ছিলেন তাঁর ধ্যান-জ্ঞান এবং মনে-প্রাণে আব্বাস উদ্দীনের সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য তিনি ছিলেন উদগ্রীব । একদিন তিস্তার এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন ভাওয়াইয়া স¤্রাট আব্বাস উদ্দীন। সে অনুষ্ঠানে ভাওয়াইয়া সঙ্গীত পরিবেশনের সুযোগ হয়েছিলো কছিম উদ্দীনের। কছিম উদ্দীনের কণ্ঠে ভাওয়াইয়া শুনে আব্বাস উদ্দীন অনেক প্রশংসা করেন এবং কোচবিহারে তাঁকে সাক্ষাত করতে বলেন। একদিকে আর্থিক অনটন, অন্যদিকে গান শেখার প্রবল আগ্রহে তিনি কোচবিহার রওয়ানা হন আব্বাস উদ্দীনের সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে। কিন্তু আব্বাস উদ্দীন তখন কলকাতায় অবস্থানের কারণে তাঁর সাথে সাক্ষাতের সুযোগ হয়নি। এদিকে বাড়ি ফেরার জন্য তাঁর কাছে টাকা না থাকায় তিনি টুকরী বাগান নামক স্থানে চা বাগানে শ্রমিকের কাজ নেন। কিছুদিন কাজ করার পর সাক্ষাত না পাওয়ার হতাশা নিয়ে শিল্পী পুনরায় নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। গ্রামে ফিরে তিনি জীবিকার তাগিদে সাইকেল মেরামতের কাজ শুরু করেন। ইতোমধ্যে পূর্ব পাকিস্তান পাবলিসিটি মিউজিক ডিরেক্টরের দায়িত্ব নিয়ে আব্বাস উদ্দীন ঢাকায় আসেন। আব্বাস উদ্দীনের সাথে তিনি ঢাকায় সাক্ষাত করেন। মূলত আব্বাস উদ্দীনের দিকনির্দেশনায় কছিম উদ্দীন রেডিও তে অডিশন দেন এবং উত্তীর্ণ হন। তিনি বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের ‘ক’ গ্রেডের শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন।

১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা রক্ষার্থে যোগ দেন আনসার বাহিনীতে। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ইন্সট্রাক্টর ও সঙ্গীত শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৫০ সালে রৌমারি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ভারতীয় রক্ষীদের পরাজিত করেন। এজন্য পাকিস্তান সরকার কছিম উদ্দীনসহ মোট এগারো জনকে সংবর্ধনা দেন। শুধু তাই নয় তিস্তার রেল লাইন বিচ্ছিন্নকারী দুর্বৃত্তদের প্রতিহত করে তৎকালীন সরকারের কাছ থেকে দোনালা বন্ধুক উপহার হিসেবে গ্রহণ করেন। তাঁর এই সাহসিকতায় প্রমাণ করে কছিম উদ্দিন শুধু ভাওয়াইয়া শিল্পী হিসেবে নন, তিনি একজন অদম্য সাহসী বীর হিসেবে সমধিক পরিচিত। তিনি পাকিস্তানি সরকারের অধীনে কর্মরত ছিলেন বটে কিন্তু পাকিস্তান বাহিনীদের সাথে বাঙালিদের যুদ্ধ শুরু হলে আদর্শিক দিক থেকে তিনি বাঙালিদের পক্ষে কাজ করেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে পাক হানাদার বাহিনীদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি বাঙালি বীর সেনাদের উজ্জীবিত করতে মুক্তিবাহিনীদের বিভিন্ন ক্যাম্পে ঘুরে ঘুরে সঙ্গীত পরিবেশন করতেন। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কোচবিহারের দীনহাটায় মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসেন। মুক্তিযোদ্ধারা প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন। আর সে সময় কছিম উদ্দীনও মুক্তিযোদ্ধার ক্যাম্পেই ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের অনুরোধে শিল্পী কছিম উদ্দীন ইন্দিরা গান্ধীকে ‘সোনার বাংলার মানুষগুলি কোথায় তোমরা যাও/দেখেছো নাকি মোর প্রিয়ারে আমায় কইয়া যাও’ গানটি গেয়ে শোনান। গান শুনে ইন্দিরা গান্ধী অভিভূত হয়ে নিজের গলার মালা কছিম উদ্দীনের গলায় পরিয়ে দেন। এছাড়াও তিনি অনেক মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সঙ্গীত রচনা করেন। তাঁর অুনপ্রেরণামূলক মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সঙ্গীতগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো - ‘ওকি বাপরে বাপ মুক্তি ফৌজ কি য্দ্ধু করে বাপরে’, ‘ও মাঝিরে জয় বাংলা বলিয়া নৌকায় উঠিয়াদেরে পাল/বাংলাদেশের নাম নিয়া তুই/কষি ধরেক হাল মাঝিরে’, ‘কান্দেরে ইয়াহিয়া শেখ মুজিব বন্দি করিয়া/পদ্মা নদীর পুঁটি মাছ, কানি বগার সর্বনাশ/ না হয় বাহির, না হয় ভিতর, গলায় ঠেকিয়া/ বগা কান্দে, বগি কান্দে গলা ধরিয়’, অথবা ‘মুক্তি ফৌজের গুরুম গুরুম খানের বৌয়ে কয়/ মুক্তি ফৌজকা ডরমে মেরা নিদ নেহী আয় মরি হায় রে হায়’ প্রভৃতি। মহান এই শিল্পীর নাম মুক্তিযুদ্ধে তালিকাভুক্ত থাকলেও ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে রংপুর বেতারসহ বাংলাদেশ টেলিভিশনে কছিম উদ্দীন প্রথম পালাগান চালু এবং জনপ্রিয় করে তোলেন। তাঁরই হাত ধরে পালাগান পূর্ণতা লাভ করে। তিনি শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলা একাডেমিতে একাধিকবার পালাগান পরিবেশন করেন। ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক বিবিসি তে কর্মরত অবস্থায় ১৭ মিনিটের সাক্ষাতকারে ‘একে তো গরমের দিন, কাটুয়া মশার প্যানপ্যানানী’ গানটি প্রচার করেন। এই গানটি প্রচারের মাধ্যমে শিল্পীর জনপ্রিয়তা আরো বহুগুণে বৃদ্ধি পায় এবং অনেকের সুনজরে আসেন। এমনকি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও তাঁকে এক নামে চিনতেন। ক্ষমতা গ্রহণের অব্যবহিত পরেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একবার কুড়িগ্রাম কলেজ মাঠে আসেন। বক্তৃতা শেষে সার্কিট হাউজে যাত্রার প্রাক্কালে ভাওয়াইয়ার যুবরাজ কছিম উদ্দীনকে দেখে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘কিরে কছিমুদ্দি, তুই এখনও বেঁচে আছিস? চল আমার সঙ্গে খাবি।’ কছিম উদ্দীনই প্রথম ভাওয়াইয়া শিল্পী যিনি আব্দুল জব্বার খাঁ পরিচালিত উর্দুতে রচিত উজালা সিমেনায় অভিনয় করেন। নানামুখী প্রতিভার অধিকারী এই শিল্পীর পারিবারিক জীবন দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত ছিলো। সাংসারিক টানাপোড়নের মধ্যে জীবন অতিবাহিত হলেও তিনি সঙ্গীত চর্চা থেকে পিছুপা হননি। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান শেষে দূরপাল্লার বাসে করে বাড়িতে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। জীবনের পথচলা থমকে যায়। রক্ষঝরা এই শোকের মাসে মহান শিল্পীর জীবনাবসান ঘটে। বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া একাডেমি, উলিপুর, কুড়িগ্রাম মহান এই শিল্পীর ২৭তম প্রয়াণ দিবস উদ্যাপন করেছে। একাডেমির পরিচালক বিশিষ্ট ভাওয়াইয়া সঙ্গীত শিল্পী জীবন্ত কিংবদন্তি ভূপতি ভূষণ বর্মা বলেন, ‘ওস্তাদ কছিম উদ্দীন ভাওয়াইয়ার জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি ভাওয়াইয়া সঙ্গীতে ভিন্ন ধারার সৃষ্টি করেছেন। এজন্য আজও শিল্পী আমাদের মাঝে স্মরণীয় ও বরণীয়।’ মৃত্যকালে তিনি চার পুত্র সন্তান ও পাঁচ কন্যা সন্তান রেখে যান। তাঁর রেখে যাওয়া স্মৃতি বিজড়িত বসতভিটা গণপূর্ত বিভাগ হস্তগত করে। এখন সরকারি জায়গায় শিল্পীর পরিবার দারিদ্র্যের সাথে দিনানিপাত করছেন। সরকারের উচিত প্রখ্যাত এই শিল্পী বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতি রক্ষার্থে পরিবারটিকে সহায়তা প্রদান করা।

নির্বাচিত সংবাদ