ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২৭ এপ্রিল ২০২৪, ১৩ বৈশাখ ১৪৩১

ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে ইলিশ মাছ

প্রকাশিত: ০৮:২১, ২৩ আগস্ট ২০১৯

ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে ইলিশ মাছ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ সাগর ও নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ায় সুস্বাদু এই মাছ এখন ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে। প্রতিটি এককেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৯০০-১০০০ টাকায়। সপ্তাহখানেক আগেও এই মাছ কিনতে ক্রেতাকে প্রায় দেড় হাজার টাকা গুনতে হয়েছে। সাইজ এবং ওজনভেদে ইলিশের দামের ব্যাপক তারতম্য হয়ে থাকে। ছোট ও মাঝারি সাইজের ৬০০-৮০০ গ্রামের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকায়। তবে ইলিশের দাম কমলেও বেড়েছে পেঁয়াজের ঝাঁজ। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকায়। দেশী পেঁয়াজের সঙ্গে বেড়ে গেছে আমদানিকৃত ভারতীয় পেঁয়াজের দাম। প্রতিকেজি আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দাম বেড়ে প্রতিকেজি চিনি ৫৫-৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও আটার দাম স্থিতিশীল রয়েছে। অপরিবর্তিত রয়েছে মাছ ও মাংসের দাম। শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, কাপ্তান বাজার, ফকিরাপুল বাজার ও মুগদা বড় বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এদিকে, সাগর ও নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ায় রাজধনীতে সরবরাহ বেড়েছে এই মাছটির। ফলে ক্রেতারা অনেকটা কমদামে ইলিশ মাছ কিনতে পারছেন। মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামনের দিনগুলোতে ইলিশ আরও বেশি ধরা পড়বে। ওই মাছ বাজারে আসলে দাম আর কমবে। ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় খুশি মাছ ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ক্রেতারাও দাম কমায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। কাওরান বাজারে ইলিশ মাছ কিনছিলেন নাখাল পাড়ার বাসিন্দা তাউজুদ্দিন আহমেদ। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, আগ যে মাছ কিনতে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা গুনতে হয়েছে সেই মাছ এখন এক হাজার থেকে ১২শ’ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ওই বাজারের মাছ ব্যবসায়ী নিজাম জানান, ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় দাম এখন কম। আগামী এক মাস পর্যন্ত ইলিশ মোটামুটি সস্তায় বেচাকেনা হবে। তিনি বলেন, অন্যবছরগুলোর তুলনায় এবার ইলিশ মাছের সাইজ বেশ বড়। এ কারণে বড় সাইজের মাছ পেয়ে ক্রেতারাও খুশি। জানা গেছে, বর্ষা ও বৃষ্টির কারণে শাক-সবজি আগের মতো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে গড়ে ৬০ টাকার নিচে কোন সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে কোরবানির পর বেড়ে গেছে পেঁয়াজের দাম। সপ্তাহখানেক আগেও যে পেঁয়াজ ৪০-৪৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হত, সেটা এখন প্রতিকেজি ৫৫-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজের পাশাপাশি আমদানিকৃত ভারতীয় পেঁয়াজের দামও চড়া। এছাড়া চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে আদা ও রসুন। চীনা আদা ১৬০-১৮০ টাকা কেজিতে পাওয়া গেলেও ইন্দোনেশিয়ার আদা কিনতে লাগছে ২০০ টাকা। দেশি আদা বাজারে নেই বললেই চলে। সরকারী সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে এক মাসে দেশী পেঁয়াজের দাম ২৪ শতাংশ ও ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। পেঁয়াজের দাম বাড়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পুরান ঢাকার শ্যামবাজারভিত্তিক আমদানিকারক আবদুল মাজেদ বলেন, ভারতে দাম অনেক বেড়ে গেছে। তাই দেশেও বেড়েছে। দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহও কম। এছাড়[ চলতি সপ্তায় চিনির দামও বেড়ে গেছে। কেজিপ্রতি তিন থেকে চার টাকা বেড়ে চিনির দাম উঠেছে ৫৫-৫৮ টাকায়। এছাড়া প্যাকেটজাত চিনির দাম আরও বেশি। এদিকে, ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরের কাঁচা মরিচ এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাজারে মালামাল সরবরাহ না বাড়ায় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। এছাড়া চাল, ডাল, আটা ও ভোজ্যতেলের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। নতুন করে এখন পর্যন্ত এসব পণ্যের দাম বাড়েনি।
×