১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বছরব্যাপী ক্রীড়া উৎসব

আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে সারাদেশ উৎসব আয়োজনে মেতে উঠবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ পালনের মধ্য দিয়ে। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেয়া শেখ মুজিবুর রহমান আগামী বছর তার জন্মশতবর্ষ উদযাপনের এক মহতী কর্মযজ্ঞে বাঙালী জাতির অভিনব পর্বে নিজেকে দাঁড় করাবেন। স্বল্পায়ু পাওয়া বাঙালীর এই মহানায়ক যে জঘন্য হত্যাকান্ডের বলি হন, তা আজও জাতীয় জীবনের ঋণগ্রস্ত দায়। মাত্র ৫৫ বছর বয়সে বিভ্রান্ত কতিপয় সেনা সদস্যের বুলেট বিদ্ধ রক্তাক্ত বঙ্গবন্ধু আজও আমাদের জন্য এক দুঃসহ যন্ত্রণার পাশবিক দলিল। স্বপ্নের দেখা সোনার বাংলা গড়ার শক্ত গোড়াপত্তনের প্রাক্কালে তার নৃশংসভাবে চলে যাওয়া যে ক্ষতি তা শুধু অপূরণীয়ই নয় তার চেয়েও বেশি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার এক চরম বিপর্যয়ও বটে। এমন সব ক্রান্তিলগ্ন পার করার দুঃসাহসিক অভিযাত্রায় তার রেখে যাওয়া স্বদেশ ভূমি সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মস্পৃহায় আজ স্বপ্নের বাংলাদেশের দ্বারপ্রান্তে। সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুও তার শতবর্ষ জন্ম উৎসবের একেবারে নিকটে। তাকে বর্ণাঢ্যভাবে স্মরণের আবরণে আটকে দেয়াই শুধু নয়, বৃহৎ এবং মহৎ কর্মযজ্ঞে দেশকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ারও এক সচেতন প্রয়াস।

উৎসব আয়োজনের এই বর্ণিল সমারোহে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনটিও মুখরিত হওয়ার অপেক্ষায়। আগামী বছরের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত দেশব্যাপী বিভিন্ন খেলার ওপর সম্প্রসারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে খেলাধুলার পর্যায় তো থাকবেই তার সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানমালারও আয়োজন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর চিরস্থায়ী ভাবমূর্তি সর্ব সাধারণের মধ্যে আলোবিকিরণের লক্ষ্য নিয়েই এমন সাড়া জাগানো কর্মপ্রক্রিয়াকে আমলে নেয়া হচ্ছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধান দুই খেলা ক্রিকেট ও ফুটবলের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট শুরু করা হবে। তার মধ্যে দুটি আন্তর্জাতিক টি-২০ এর উৎসবও থাকবে। মনে রাখতে হবে যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু নিজে ছিলেন একজন অসাধারণ ক্রীড়াপ্রেমিক।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্প্রসারিত কর্মসূচী ছাড়া বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান তাদের ক্ষমতা ও দক্ষতা অনুযায়ী খেলাধুলার আয়োজন করবে। বাস্কেট বল, ভলিবল ব্যাডমিন্টন, কাবাডি ইত্যাদি খেলায় জাতীয় এবং গ্রামীণ আঙিনায়ও এই আনন্দ আকর্ষণকে ছড়িয়ে দেয়া হবে। অনুর্ধ ১৭ ক্রিকেট ও ফুটবল চ্যাম্পিয়ানশিপ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিশু-কিশোরদের নিয়ে বাস্কেট বল ও কাবাডি খেলানোর আয়োজনও চলবে। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) বিভিন্ন পর্যায়ের খেলাধুলার আয়োজন ছাড়াও প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী পর্ব, আলোচনাসভা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপহার দেয়ার কর্মসূচীও প্রণয়ন করছে।

এছাড়া বঙ্গবন্ধুর কর্ম ও জীবন নিয়ে উপস্থিত বক্তৃতা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, কবিতা আবৃত্তি এবং স্বদেশ প্রেমের গানেরও ব্যাপক আয়োজন সন্নিবেশিত হচ্ছে। আরও আছে, মুজিব বর্ষকে সামনে রেখে গ্রাম পর্যায়ের ঐতিহ্যিক খেলাধুলাকেও বিশেষ প্রাধান্য দেয়া। বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং দেশ প্রেমের যথার্থ বার্তা পৌঁছে দিয়ে এমন সব বিস্তৃত কর্মপ্রকল্প জাতির ভবিষ্যত তৈরিতে যুগান্তকারী প্রভাব রাখার প্রত্যয় নিয়েই উৎসব আয়োজনের ভিত্তিকে সংহত করা হয়েছে। দেশজ ও লোকজ খেলাকে পুনরায় জাগিয়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে দেশব্যাপী এই বৃহত্তর কর্মোদ্যোগকে সাজানো-গোছানো হচ্ছে। উৎসবমুখর পরিবেশের বার্তা সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে প্রচার, প্রচারণার উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। মাত্র ৫৫ বছর জীবন পাওয়া বাঙালীর এই মহান অধিপতি নিজের কর্মদ্যোতনা, মহত্ত্ব আর কীর্তিকে ছাপিয়ে আজ যেখানে অধিষ্ঠিত তাঁর জন্য এত বড় আয়োজন সত্যিই তিনি তা ধারণও করেন।

নির্বাচিত সংবাদ