১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জ্বলছে পৃথিবীর ফুসফুস আমাজন

  জ্বলছে পৃথিবীর  ফুসফুস আমাজন
  • উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক মহল

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ ব্রাজিলের আমাজন বনাঞ্চলে এ বছরের অগ্নিকাণ্ড অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। পুড়তে থাকা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এই বনাঞ্চল নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আসন্ন জি-৭ সম্মেলনে আমাজনে অগ্নিকাণ্ড আলোচ্যসূচীর শীর্ষে থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তার এ মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসোনারো। জাতিসংঘ মহাসচিবও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আমাজন বনে আগুন লাগার ঘটনায়। বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় কমিশনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ব্রাজিলের বনাঞ্চলে যে আগুন জ্বলছে তা গভীর উদ্বেগজনক। বনাঞ্চল আমাদের ফুসফুস এবং জীবন রক্ষা ব্যবস্থা। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা আমাজন বনাঞ্চলে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়া আগুনের ছবি প্রকাশের পর রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে নানা ক্ষেত্রের তারকাসহ সাধারণ মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে #প্রেফরআমাজন চালু করা হয়েছে। হলিউড তারকা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও তার প্রায় তিন কোটি ৪০ লাখ অনুসারীকে পরিবেশের প্রতি আরও বেশি যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পৃথিবীর ফুসফুস জ্বলছে। উপগ্রহ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চ (আইএনপিই) জানায়, চলতি বছর প্রথম আট মাসে ব্রাজিলজুড়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৫ শতাংশ বেশি অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের বেশিরভাগই হয়েছে আমাজন অঞ্চলে। পরিবেশবাদীরা এজন্য আমাজন নিয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বোলসোনেরোর সরকারের নীতিকে দায়ী করছেন। কট্টর ডানপন্থি এ প্রেসিডেন্ট বন উজাড়ে কাঠুরে ও কৃষকদের উৎসাহিত করছেন বলেও অভিযোগ তাদের। আগুনে উত্তরের অঙ্গরাজ্য রনডোনিয়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই অঞ্চলের আদিবাসী নেতারা বলেন, বনে আগুন লাগার পর তারা বন্যপ্রাণীদের প্রাণভয়ে বন থেকে ছুটে বেরিয়ে যেতে দেখেছেন। কারিপুনা আদিবাসী সম্প্রদায়ের নেতা আদ্রিয়ানো কারিপুনা বলেন, অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বন্যপ্রাণী আমাদের চোখে পড়ছে। বন ধোঁয়ায় ঢাকা পড়েছে, আকাশ অন্ধকার হয়ে গেছে। ধোঁয়ার ঝাঁজে আমাদের চোখে জ্বলুনি হচ্ছে এবং চোখ লাল হয়ে যাচ্ছে। আমাজনে ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের জন্য প্রেসিডেন্ট বোলসোনেরো প্রথমে এনজিওকে দায়ী করলেও তার ওই দাবির পক্ষে কোন প্রমাণ দেখাতে পারেননি। পরে অবশ্য তিনি নিজের ওই অবস্থান থেকে কিছুটা সরে গিয়ে বৃহস্পতিবার বলেন, কৃষকরাও বনে আগুন দিতে পারে। অন্যদিকে আদিবাসীরা আঙ্গুল তুলছেন কাঠুরেদের দিকে। কারিপুনা নেতা বলেন, বোলসোনেরোর নীতির কারণে কাঠুরেরা বনের সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের সাহস পাচ্ছে। তিনি তাদের সহাস দিয়েছেন। তিনি তাদের আমাদের এলাকায় হানা দিতে বলেছেন। আইনের মাধ্যমে আদিবাসীদের ভূমি সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে আমাজানের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে লাভবান হওয়ার পথে ‘অযৌক্তিক প্রতিবন্ধকতা’ বলে মনে করেন বোলসোনেরো।

ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দাবানলে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে জ্বলছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন আমাজন। ইতোমধ্যে পুড়ে ভস্ম হয়ে গেছে বনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। পুরো পৃথিবীর ২০ শতাংশ অক্সিজেন জোগান দেয়া বনের এমন দুর্দশায় শঙ্কিত বিশ্ববাসী। আর এরজন্য ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টকেই দুষছেন বেশিরভাগ মানুষ। এ নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন বিশ্বনেতারাও। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ আমাজনের দাবানল নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে আসন্ন জি-সেভেন সম্মেলনের আলোচ্যসূচীতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) এ টুইটে ম্যাক্রোঁ বলেন, আমাদের ঘর পুড়ছে। এ গ্রহের ২০ শতাংশ অক্সিজেন উৎপাদন করা আমাজন বনে আগুন লেগেছে। এটা আন্তর্জাতিক সঙ্কট। জি-সেভেনের সদস্যরা আসুন, দু’দিনের মধ্যে এ বিষয়ে জরুরী ভিত্তিতে প্রথমে আলোচনা করি। আমাজনের আগুন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) এক টুইটে তিনি বলেন, আমাজন বনের অগ্নিকাণ্ডে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। জলবায়ু সঙ্কটের মধ্যেই অন্যতম প্রধান অক্সিজেনের উৎস ও জীববৈচিত্র্যের আরও ক্ষতি আমরা পোষাতে পারব না। আমাজনকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।

নির্বাচিত সংবাদ