১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট খেলতে প্রস্তুত তাইজুল

 আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট খেলতে প্রস্তুত তাইজুল

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের দুই বোলার এখন পর্যন্ত টেস্টে ১০০ উইকেট শিকার করতে পেরেছেন। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান (২০৫ উইকেট) ও সাবেক স্পিনার মোহাম্মদ রফিক (১০০)। এই তালিকায় নিজের নাম লেখানোর একেবারে ধারে কাছে আছেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ৯৯ উইকেট শিকার করে ফেলেছেন। আর একটি উইকেট শিকার করলেই দেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে এই মাইলফলকে নাম লেখাবেন তাইজুল। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৫ সেপ্টেম্বর টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। এই টেস্ট খেলতে প্রস্তুত তাইজুল। একাদশে থাকলে বোলিং ভালভাবে করতে পারলে স্বাভাবিকভাবেই উইকেটও মিলতে পারে। আর একটি উইকেট মিললেই তো ১০০ উইকেট শিকার করে ফেলবেন তাইজুল। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্টটি হবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। নয়মাস পর দেশের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। গত বছর নবেম্বরে দেশের মাটিতে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। আর এ বছর মার্চে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে সর্বশেষ টেস্ট খেলে বাংলাদেশ। তাতে করে দেশের মাটিতে নয়মাস পর ও সবমিলিয়ে পাঁচ মাস পর টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ।

আফগানিস্তান দলে স্পিনারে ছড়াছড়ি। ভাল মানের স্পিনারও আছেন। রশীদ খানের মতো ব্যাটসম্যানদের ওপর প্রভাব বিস্তার করা স্পিনার রয়েছেন। মোহাম্মদ নবী আছেন। তরুণ কাইস আহমেদ, জহির খান, রহমত শাহ, জাভেদ আহমদি রয়েছেন। বাংলাদেশ দলে তো স্পিনার আছেনই। সাকিব রয়েছেন। যিনি একাই আফগান ব্যাটসম্যানদের কাঁপিয়ে দিতে পারেন। রয়েছেন স্পিন স্পেশালিস্ট হিসেবে তাইজুল। আর মেহেদী হাসান মিরাজও তো দেশের মাটিতে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের জন্য আতঙ্ক হয়ে ওঠেন। আছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও। স্পিনবান্ধব উইকেট পেলে নিজেকে মেলে ধরতে পারেন রিয়াদ। তাই স্পিনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখার সম্ভাবনাই থাকছে। আর চট্টগ্রামের উইকেট তো এমনিতেই সবসময় স্পিনবান্ধবই হয়। সেরা বোলিং ফিগারগুলোতে সব স্পিনারদের দখলেই। তাই স্পিন উইকেট এবারও হতে পারে তা ধরেই নেয়া যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি হবে তা সময়ই বলবে। তবে উইকেট যেমনই হোক প্রস্তুত তাইজুল।

শুক্রবার তাইজুল জানিয়েছেন, ‘আমরা আসলে এখনও জানি না কেমন উইকেট হবে। এটার সম্পূর্ণ দেখভাল করবে ম্যানেজমেন্ট। তবে একজন স্পিনার হিসেবে আমি যে কোন উইকেটের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছি।’

এখন বিশ্ব ক্রিকেটটা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিং কিংবা ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংটা ভালভাবে করা গেলে কদর বেড়ে যায়। নিচের সারিতে তাইজুল সেই কাজ করার চেষ্টা করেছেন। গত বছর নবেম্বরে চট্টগ্রামেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৩৯ রানের ইনিংস খেলেছেন। ৬৮ বল খেলেন। ৯৭ মিনিট উইকেট আঁকড়ে ছিলেন। তার এমন উইকেট আঁকড়ে থাকায় নবম উইকেটে গিয়ে নাঈম হাসানের সঙ্গে ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটিও গড়েন তাইজুল। তাতে করে দল ৩০০ রানই শুধু অতিক্রম করেনি, ৩২৪ রানেও পৌঁছায়। দলও শেষ পর্যন্ত টেস্টটি ৬৪ রানে জিতে। দ্বিতীয় ইনিংসে আবার ৬ উইকেটও শিকার করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসে ধস নামান। টানা বল করতে থাকায় বেশ সুনাম আছে তাইজুলের। তবে ব্যাটিংটাতেও এখন খানিক জোর দিচ্ছেন। নিজেই জানান, ‘আসলে ক্রিকেট একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক খেলা। এখানে টিকে থাকতে হলে বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিং নিয়েও কাজ কর?তে হবে। দলের কথা চিন্তা করে আমি আমার বোলিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটিং নিয়েও কাজ করছি।’

বিশ্বকাপে বোলাররা যেন নখদন্তহীন হয়ে পড়েছিলেন। উইকেট শিকার করতেই বারোটা বেজে গিয়েছিল। এখন ঘুরে দাঁড়াবে বোলাররা। বিশ্বাস তাইজুলের, ‘দেখুন বিশ্বকাপের ঠিক আগের সিরিজটা আমরা জিতেছিলাম এবং ভাল পারফর্মেন্সও করেছিলাম। একটি সিরিজ খারাপ যেতেই পারে, তাই বলে মন খারাপ করে বসে থাকলে তো চলবে না। আমরা আমাদের উন্নতির জন্য অনুশীলন ক্যাম্পে কাজ করছি। আশাকরি দ্রুতই আমরা ভাল পারফর্মেন্সে ফিরে আসতে পারব।’

তাইজুল মনে করেন আফগানিস্তানকে বধ করতে এক সাকিব থাকলেই হলো। সাকিবের ওপর অগাধ বিশ্বাস তাইজুলের। তিনি যে ফর্মের তুঙ্গে আছেন। তাইজুল তাই বলেছেন, ‘সাকিব ভাই না থাকলে সব কাজই কঠিন হয়ে যায়। সাকিব ভাই যখন বল করেন তখন প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যান অনেক সাবধানী হয়ে যায়। আর তখনই আমাদের মতো বোলারদের উইকেট নেয়ার সুযোগ তৈরি হয়। সাকিব ভাই বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার আর অনেক অভিজ্ঞ। সুখবর হচ্ছে সামনের সিরিজেই

এই মাত্রা পাওয়া