১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিকল্প উৎস মেঘনা

বৈশ্বিক এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম সুপেয় পানির উৎস বাংলাদেশের মেঘনা, যার জন্য দেশটি রীতিমতো গর্ব করতে পারে। ইতোপূর্বে রাজধানী ঢাকার প্রায় দুই কোটি অধিবাসীর দৈনন্দিন পানির চাহিদা মেটাতে পদ্মার পানি পাইপের মাধ্যমে আনার কথা ভাবা হয়েছিল। এর পাশাপাশি ভাবা হচ্ছে মেঘনার কথাও। কেননা, রাজধানীর চারপাশ পরিবেষ্টিত বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদীর পানি ইতোমধ্যেই দখল-দূষণে জর্জরিত, মৃতপ্রায়। এগুলোর পানি পান করা দূরে থাক, ব্যবহারেরও অযোগ্য। যে কারণে দৈনন্দিন পানির চাহিদা মেটাতে প্রায় ৮৭ ভাগ ব্যবহৃত হচ্ছে ভূগর্ভের পানি। এতে স্বভাবতই ভূতলের পানির স্তর নেমে যাচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে। অতঃপর বিকল্প উৎস হিসেবে ভাবা হচ্ছে মেঘনা ও পদ্মার কথা। তবে ফারাক্কা বাঁধের কারণে পদ্মার অবস্থা তেমন ভাল নয়। অন্যদিকে নিয়মিত দখল-দূষণে মেঘনাও হুমকির মুখে। নদীটির দুই তীরে গড়ে উঠেছে অন্তত ৮৭টি বড় শিল্প কারখানা এবং ২০০০টি গুচ্ছ কারখানা। এসব কারখানায় ইটিপি বা কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় আদৌ পরিবেশবান্ধব নয়। ফলে এসব তরল ও কঠিন বর্জ্য গিয়ে পড়ছে মেঘনায়। সেই প্রেক্ষাপটে মেঘনার দূষণ রোধে জরুরী ভিত্তিতে বছরে সাড়ে ১৭ কোটি ডলার ব্যয় করতে বলেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। আর তাহলেই কেবল মেঘনার জল রাজধানীবাসীর ৪০ শতাংশ মানুষের বিকল্প সুপেয় পানির উৎস হতে পারে। ঢাকা ওয়াসার কারিগরি সহায়তার অংশ হিসেবে জাইকার সহযোগিতায় তৈরি করা হয়েছে প্রতিবেদনটি। বর্তমানে রাজধানীতে দুই কোটি মানুষের জন্য দৈনিক পানির চাহিদা ২৪৮ কোটি ৫০ লাখ লিটার। ভূতলের পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ঢাকার ৩০ কিলোমিটার দূরে মেঘনা থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ প্রকল্পটি ২০২১ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে ঢাকা ওয়াসা। সে অবস্থায় মেঘনা নদীর দখল ও দূষণ রোধ করা জরুরী ও অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। বর্তমানে মৎস্য আহরণ, নৌ যোগাযোগ, পর্যটন ইত্যাদি মিলিয়ে মেঘনা নদীর বার্ষিক অর্থনৈতিক মূল্য প্রায় সাড়ে ১৩শ’ কোটি টাকা। সুতরাং এর দখল ও দূষণ প্রতিরোধ করতে হবে সর্বাত্মকভাবে। এর পাশাপাশি বজায় রাখতে হবে এর নাব্যাবস্থা। যা কিছুই করা হোক না কেন, দেশের প্রবহমান নদ-নদীগুলোকে নাব্য রক্ষাসহ দখল-দূষণমুক্ত রাখতে হবে সর্বাগ্রে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ৮ শতাধিক নদ-নদী এবং ৫৭টি আন্তঃদেশীয় সংযোগ নদী রয়েছে। এগুলোর সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল, ভুটান, সিকিম, এমনকি চীনও জড়িত। সুতরাং আন্তঃদেশীয় পানি ব্যবস্থাপনা ও সুসম বণ্টনের ক্ষেত্রেও এসব দেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। অতঃপর পানিসম্পদের সুষ্ঠু ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার জন্য উন্নয়ন সহযোগী ১২টি দেশের সহযোগিতায় ‘বাংলাদেশে ডেল্টা প্ল্যান (বিডিপি) ২১০০’ নামে যুগান্তকারী একটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী সমন্বিত এই পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় আগামী এক শ’ বছরে পানির প্রাপ্যতা, এর ব্যবহারসহ প্রতিবেশ ও পরিবেশগত বিষয়সমূহ বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

বিশ্বের অনেক দেশেই পানির পরিকল্পিত ব্যবহারসহ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সমুদ্রের পানির ব্যবহারও সম্ভব হচ্ছে এর জন্য। অথচ অপরিকল্পিত আহরণ ও যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে দেশের পানিসম্পদের অপচয় হচ্ছে। অন্যদিকে ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদ-নদীগুলো। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে সৃষ্টি হচ্ছে বন্যা। সুন্দরবনে দেখা দিচ্ছে মিষ্টি পানির সঙ্কট। যে কারণে পশুপাখি, জীববৈচিত্র্য ও গাছপালা প্রায় ধ্বংসের সম্মুখীন। বৃষ্টির পানিরও আদৌ কোন পরিকল্পিত ব্যবহার হচ্ছে না। সুষ্ঠু ও সমন্বিত পানি ব্যবহার এবং ব্যবস্থাপনায় এসবই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে জরুরী ভিত্তিতে।

নির্বাচিত সংবাদ