২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাল্টা শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের

  • চীনের পর মার্কিন প্রশাসনও একই পথ বেছে নিল

চীনা ৫৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের পণ্য আমদানির ওপর শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দিল যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার টুইটে বলেন, মার্কিন ৭৫ বিলিয়ন ডলার পণ্যের ওপর শুক্রবার চীন বাণিজ্য শুল্ক আরোপ করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তারা ৫৫০ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করবেন। এর ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ আরও প্রকট আকার ধারণ করবে এবং অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে, এর ফলে মার্কিন ও বৈশ্বিক অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়বে। ফক্স নিউজ।

ট্রাম্প বলেন, ২৫০ বিলিয়ন ডলার চীনা পণ্য আমদানির ওপর ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে। এছাড়া ১ সেপ্টেম্বর থেকে আরও ৩শ’ বিলিয়ন ডলারের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ শতাংশ হবে। এই বর্ধিত শুল্কের অর্থ, চীনা থেকে আমদানি করা সকল পণ্যের দাম বাড়ছে। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ৭৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন শুল্ক আরোপ করা উচিত হয়নি। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় জানায়, চীন থেকে আমদানি করা ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক আরোপ পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী দুই দফায় বাস্তবায়ন করা হবে। এর একটি ১ সেপ্টেম্বর এবং অন্যটি ১৫ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে। শুক্রবার সকালে চীনের নিজস্ব বাণিজ্য শুল্ক বৃদ্ধির জবাব দেয়ার ইঙ্গিত দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরপর এই পদক্ষেপ নেয় তার প্রশাসন। সকালে এক টুইটে তিনি বলেন, বিকেলে চীনের শুল্কের জবাব দেব আমি। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটা অপূর্ব সুযোগ। ট্রাম্প আরও বলেন, দ্রুত চীনের বিকল্প খুঁজতে মার্কিন ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দিচ্ছেন তিনি। এর মধ্যে চীন থেকে কারখানা সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার বিষয়টিও রয়েছে। কিন্তু এটা পরিষ্কার নয় যে, তিনি কোম্পানিগুলোকে এসব করতে বাধ্য করার পরিকল্পনা কিভাবে করছেন। কোম্পানিগুলো উৎপাদনের জন্য চীনের ওপরই বেশি নির্ভর করে।

কারণ সেখানে উৎপাদন ব্যয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক কম। ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান জেরোমি পাওয়েল ও অন্যান্য নীতিনির্ধারক সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশের দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্য যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিতে পারে। চীনের শুল্কবৃদ্ধির পদক্ষেপ এবং ট্রাম্পের জবাব দেয়ার অঙ্গীকারের পর শুক্রবার বাজারে এর প্রভাব পড়ে। ডাউয়ের সূচক ৬০০ পয়েন্টেরও (২.৩ শতাংশ) বেশি নেমে গেছে। আর নাসদাকের তিন শতাংশ এবং এসএ্যান্ডপির দরপতন হয়েছে দুই দশমিক ছয় শতাংশ।

এই পদক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। হোয়াইট হাউসের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে বড় একটি খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান। ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশনের গবর্নমেন্ট রিলেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেভিড ফ্রেঞ্চ বলেন, এই ধরনের পরিবেশে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ভবিষ্যত পরিকল্পনা করা অসম্ভব। যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও চীনের হাজার হাজার কোটি ডলারের রফতানি পণ্যে শুল্ক দিয়েছিল। বেজিংও পরে মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক বসায়। দুই দেশের এই ‘শুল্ক যুদ্ধ’ বিশ্ববাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা। এ বছর এ নিয়ে দুদেশের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে । বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বুধবার তারা এক দশকের মধ্যে প্রথমবার সুদের হার কমাতে বাধ্য হয়।