১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তিন ভুয়া র‍্যাব সদস্য গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তিন ভুয়া র‍্যাব সদস্য গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ ॥ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের রূপসী এলাকা থেকে র‍্যাব পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণাকারী চক্রের মূলহোতা জয়নাল আবেদীনসহ তিন ভুয়া র‍্যাব সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১১ সদস্যরা। শনিবার দিবাগত রাতে র‍্যাব-১১ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে র‍্যাবের সদস্য পরিচয়ে উৎকোচ আদায়ের সময় হাতে-নাতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত তিন ভুয়া র‍্যাব সদস্যের কাছ থেকে র‍্যাবের ইউনিফর্ম পরিহিত এডিটিং করা ২টি ছবি, বাংলাদেশ র‍্যাব লেখা ও র‍্যাবের মনোগ্রাম সম্বলিত ১টি জ্যাকেট, র‍্যাব সদর দফতরের সীল ও অফিসারদের ভুয়া স্বাক্ষরিত সম্বলিত ৭টি নোটিশ, র‍্যাবের সদর দফতরের গোয়েন্দা অফিসার, ডিউটি অফিসার ও তদন্তকারী অফিসার নামীয় ৪টি সীল, বিজিবির ১টি আইডি কার্ড, বিজিবির ইউনিফর্ম ১ সেট, ল্যাপটপ ১টি, প্রিন্টার ১টি, মোবাইল ১টি ও ১৪টি সীম জব্দ করা হয়। রবিবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে র‍্যাব-১১ এর ব্যাটেলিয়ন সদর দফতরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‍্যাব-১১ এর অধিনায়ক (সিও) লেঃ কর্ণেল কাজী শমসের উদ্দিন এ তথ্য জানান। প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন- র‍্যাব-১১ এর উপ-পরিচালক (মিডিয়া অফিসার) মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- কুড়িগ্রামের উকিলপুর থানাধীন মাসতীবাড়ী দীঘর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে মোঃ জয়নাল আবেদীন (২৭), গাজীপুর সদরের জান্দালিয়াপাড়া এলাকার মৃত মুসলেম উদ্দিনের ছেলে মোঃ নাজমুল হোসেন (২৭) ও কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি থানাধীন চরজাকারিয়া গ্রামের মোঃ রফিকুল ইসলামের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান (২৯)। বর্তমানে সবাই গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকায় বসবাস করে আসছে।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল কাজী শমসের উদ্দিন বলেন, উক্ত প্রতারক চক্র দ্বারা প্রতারণার শিকার ভূক্তভোগী এক নারীর কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে দেখা যায়, প্রতারক চক্রটি র‍্যাব সদর দফতরের বিভিন্ন পদের সীল ব্যবহার করে নিজেদের তৈরীকৃত ভুয়া নোটিশ তৈরী করে সাধারণ নিরীহ অর্থশালী ব্যক্তিদের টার্গেট করে প্রেরণ করে এবং গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে উৎকোচ আদায় করে। তিনি আরো জানান, উল্লেখিত প্রধান আসামী মোঃ জয়নাল আবেদীন ইতোপূর্বে বিজিবিতে চাকুরী করতো। চাকুরীরত অবস্থায় সে ২০১৭ সালে বিজিবি থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তার নেতৃত্বে একটি প্রতারক চক্র সংগঠিত হয়। সে দীর্ঘদিন ধরে বিজিবিতে চাকুরী দেয়ার নাম করে অনেক লোকজনের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে তাদের সাথে প্রতারণা করে আসছে। এই প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আর্থিকভাবে সম্পদশালী লোকদের র‍্যাবের মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করার নামে ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ও জনপ্রতিনিধিদেরকে ব্যবহার করে নোটিশ প্রেরণ করত। তারা আশ্বাস দিতো যে, নোটিশে মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে উৎকোচ প্রদান করলে উক্ত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া যাবে। অন্যথায় গ্রেফতার করার ভয় দেখানো হতো। পরে প্রতারক চক্রটি মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিতো। তারা সাধারণ মানুষের শ্রেণী বুঝে কখনও র‍্যাবের এসআই কখনও ওয়ারেন্ট অফিসার পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।